দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সিমেন্টশিল্প বিবিধ সংকটে জর্জরিত। একদিকে মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে বাজারে চাহিদা একেবারে তলানিতে। চাহিদা না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশই অলস বসে রয়েছে। সংগত কারণে মুনাফা কমে গিয়ে চরম আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, দেশের মেগাপ্রকল্পে ধীরগতি, আবাসন খাতে বিনিয়োগ হ্রাস, এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাড়ি নির্মাণে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় বাজারে সিমেন্টের চাহিদা বহুলাংশে কমেছে। আবার এর কাঁচামাল ক্লিংকার, স্ন্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ, জিপসামসহ প্রায় সব উপাদানই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয়ে। এর ওপর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, দেশের ৪০টি সিমেন্ট কারখানার মোট বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে আট কোটি ৬০ লাখ টন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে সারা দেশে বিক্রি হয়েছে মাত্র তিন কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টন সিমেন্ট। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) বিক্রির হার আরো ৩ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিল্পকাঠামো পরিচালনাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) নেতারা জানান, বর্তমানে প্রধান পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে ২ থেকে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, শিল্পের টিকে থাকার স্বার্থে এই এআইটি কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ এবং বিক্রি পর্যায়ে করের হার ২ শতাংশের পরিবর্তে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিসিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
গত বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপেও করের নতুন বোঝা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করব্যবস্থা, খুচরা পর্যায়ে অগ্রিম কর আরোপ, শিল্প খাতে অতিরিক্ত করের চাপ এবং কর প্রশাসনের সমালোচনা করেন। নেতাদের ভাষ্য, করভিত্তি সম্প্রসারণের নামে নতুন নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দিলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় আরো বাড়বে।
আমরা মনে করি, চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ব্যবসায়ী নেতাদের যৌক্তিক দাবি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া দরকার। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হলে করব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক করতে হবে।

