ফুটবলের জাদুর বাক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পুরো দুনিয়া গত ১১ জুন! আগামী ৩৯ দিন বাক্স থেকে বেরিয়ে আসার আর সুযোগ নেই। এর মধ্যে অনেক হৈচৈ! আর আনন্দ-বেদনার কাব্য। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ কষা। আশা ও স্বপ্নভঙ্গের পাঁচালি। একটি একটি করে দিন যাচ্ছে, ফুটবল মনে করিয়ে দিচ্ছে মাঠে নামার আগে কেউ জানে না খেলায় শেষ পর্যন্ত কী হবে। আর তাই নিশ্চিত বলে কিছু নেই ফুটবলে। ফুটবল খেলাটি এত অনিশ্চিত বানাল কারা? ফুটবল মঞ্চের অভিনেতাদের তৃপ্তি আর অতৃপ্তির মধ্যে আছে বিস্তর ফারাক। কেউ কেউ এক পয়েন্ট অর্জন করেই মহাখুশি। আবার কারো কারো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অনুশোচনা! ইস, যদি গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগানো যেত! ফুটবলে গোলই তো শেষ কথা। ঠিক জীবনের মতো! জীবনযুদ্ধে কেউ কেউ গোল দিয়েই চলেছেন, যাঁদের কথা ভাবা হয়নি। আবার যাঁদের কথা ভাবা হয়েছে, তাঁরা সময়মতো কাজটি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
গোলকপিণ্ড গড়াচ্ছে আর তার পেছনে ছুটছে অগণিত মানুষ। এটি এক ধরনের মোহ ও ভালোবাসা। ফুটবল তো আবেগ আর ভালোবাসার মোড়কে মোড়ানো অপ্রতিদ্বন্দ্বী খেলা। অনেক আগেই অলিম্পিক আন্দোলনকে পেছনে ফেলেছে একক এই খেলাটি। খেলাটির ভাষা, আবেগ, মুদ্রা আর শিল্প সৃষ্টির উন্মাদনা বিশ্বজনীন একদম এক।
বিশ্বকাপ মানে একটি পৃথিবী। একটি বল। অগণিত মানুষের প্রত্যাশা। মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্য। আনন্দ ও বেদনার সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। খেলার মধ্যে মানুষ দেশকে খোঁজে। দেশের পরিচিতি জানে। ফুটবল খেলাটি তো বিশ্বের ৪০০ কোটিরও বেশি মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে, তা বিশ্বকাপ চার বছর পর পর না এলে বোঝা যায় না। বিশ্বকাপ তো ফুটবলের গৌরব মঞ্চ। সারা বছর দুনিয়াজুড়ে যে ক্লাব ফুটবল চলে এর সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের আবেগ ও আবেদনের কোনো মিল নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের ভূমিকা বহুবিধ। ফুটবল তার মোহজালের মাধ্যমে খেলাটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে চলেছে। এবার তো তিন দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যৌথভাবে বিশ্বকাপের রঙিন উৎসব। ২১১টি দেশ থেকে ৪৮টি দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এখন সবার সামনে।
১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল (পশ্চিম জার্মানি বনাম নেদারল্যান্ডস) টিভিতে দেখেছিল ১০০ কোটি মানুষ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে কোনো একটি ইভেন্ট একসঙ্গে এত মানুষ তার আগে কখনো দেখেনি। এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে এর চার গুণের বেশি মানুষ। ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। তুঙ্গে ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে রমরমা বাণিজ্য।
আমরা সৌভাগ্যবান, গাঁটের অর্থ খরচ করে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে হয় না। অন্য অনেক দেশে পেইড চ্যানেলের মাধ্যমে খেলা দেখতে হয়। একবার ইউরোপে থাকাকালে আমার নিজের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। খেলা দেখানো নিয়ে বাণিজ্য করা সম্ভব হয়নি তথ্য মন্ত্রণালয় ও ফুটবল ফেডারেশনের যথাযথ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে। ২০২২ সালের তুলনায় অনেক কম অর্থে এবার স্বত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশের মানুষ ফুটবল নিয়ে দারুণভাবে মেতে আছে। বৈষম্যময় সমাজে দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত কিছু মানুষ যদি ফুটবল দেখে কিছুদিনের জন্য হলেও আনন্দ পায়, এতে ক্ষতির তো কিছু দেখি না! ধর্মের সঙ্গে ফুটবল খেলার বিরোধ আছে বলে তো জানা নেই। এশিয়া মহাদেশ থেকে ৯টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দেশ তো ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। সৌদি আরব বিশ্বকাপে খেলছে এশিয়া থেকে। আরো আছে ইরান, কাতার, ইরাক, জর্দান প্রভৃতি দেশ। আফ্রিকা মহাদেশ থেকেও খেলছে কয়েকটি মুসলিম দেশ।
ফুটবল বিশ্বকাপের কথা উঠলে যে বিষয়টি সবার আগে উচ্চারিত হয়, শেষ পর্যন্ত কাপ জিতবে কোন দেশ? ট্রফি এখন লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার ঘরে আছে। আর্জেন্টিনা কি পারবে আবার ‘রিটেন’ করতে। বিগত ২২ বারের আসরে ইউরোপীয় দেশ জিতেছে ১২, আর লাতিন আমেরিকার দেশ ১০ বার। চলমান বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হলো তিনটি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষে ট্রফি জয় অসাধ্য বিষয়। মেক্সিকো এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালেও বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব পালন করেছে। তখন বিশ্বকাপ জিতেছে যথাক্রমে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কালো মানিক পেলে ও ম্যারাডোনা তখন নিজ নিজ দলে ছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যৌথ স্বাগতিক দেশ হিসেবে আছে মেক্সিকো। এটি একটি রেকর্ড। অনেক বছর পর মেক্সিকো এবার উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এর আগে ২০১০ সালে মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল, সেবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। এবার যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে স্বাগতিক দেশ। প্রথম খেলায় প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্র শুভ সূচনা করেছে। দেখার বিষয় হলো এবার যুক্তরাষ্ট্র কত দূর এগোতে পরে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩০ সালে তৃতীয় হওয়া ছাড়াও ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। আরেক স্বাগতিক দেশ কানাডা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ তাদের জন্য তৃতীয় আসর। এবারই প্রথম গ্রুপের খেলায় বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফরম্যাট এবার অন্য রকম। দল ৪৮টি। সেকেন্ড রাউন্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো কঠিন হবে। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই কিন্তু সহজ নয়। কখন যে কে কাকে বেকায়দায় ফেলে দেয়, এটি আগাম বলা যাবে না। মরক্কো গতবার কাতার বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। এবার প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের ওপর চড়াও হয়ে (১-১) একটি পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। ব্রাজিলের জন্য এটি সতর্কবার্তা। বিশ্বকাপে কিছুদিনের মধ্যে আরো অনেক নতুন গল্প পাব, এটি নিশ্চিত বলা যায়। ফুটবল অনেক মজা করে। কাউকে ভাসায়, আবার কাউকে ডোবায়।
এবারের বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে দারুণ খেলে ৪৮-এর মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। এই মানচিত্রে আরো স্থান পেয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার ছোট দেশ কুরাসাও। এশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ করে নিয়েছে জর্দান ও উজবেকিস্তান।
আসন্ন বিশ্বকাপে অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, স্পেন এবার সবার ওপরে থাকবে। এর পেছনে কিছু যুক্তিও আছে। স্পেন ২০১০ সালে শেষবারের মতো ট্রফি জিতে ফিফা বিশ্বকাপে জয়ের ক্লাবে অষ্টম সদস্য পদ পেয়েছে। তারা এবার জিতলে ফ্রান্সের নামের পাশে দুইবার জয়ের নাম লেখাতে সক্ষম হবে। গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় এই পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো স্পেনের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়ে নবাগত কেপ ভার্দে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এই গোলশূন্য ম্যাচ জেতার চেয়েও অনেক বেশি। কালের কণ্ঠের ‘মুঠোয় বিশ্বকাপ-২০২৬’-এ ‘চমক দেখাতে পারে কেপ ভার্দে’ শিরোনামে বসুন্ধরা কিংস সভাপতি মো. ইমরুল হাসান আগেই লিখেছেন, ‘ছোট কেপ ভার্দে এবার বড় দলগুলোকে চমক দিতে পারে। মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপদেশটি বিশ্বকাপে খেলবে প্রথমবারের মতো। আফ্রিকান বাছাই পর্বে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে চমক দিয়েছে। পেছনে ফেলেছে মিসর, ঘানা, বুরকিনা ফাসোর মতো দলকে। বলা হচ্ছে, কেপ ভার্দের এই সাফল্যের পেছনে তিনটি কারণ। এক. প্রবাসী খেলোয়াড়। দলের ৯০ শতাংশ খেলোয়াড় পর্তুগাল, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া প্রবাসী। তাঁরা ইউরোপের বিভিন্ন একাডেমিতে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। দুই. কোচ পেদ্রো নেইতাও। তিনি জমাট রক্ষণ আর প্রতি আক্রমণে কারিশমা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তিন. খেলোয়াড়দের মানসিকতা। হারানোর কিছু নেই বলে তাঁরা খেলেন ভয়ডরহীনভাবে, উপভোগ করার মানসিকতা নিয়ে। আর ফুটবলে অঘটন ঘটানোর জন্য এটিই সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র।’
এদিকে জার্মানি আরেক নবাগত কুরাসাওকে পরাজিত করেছে ৭-১ গোলে। শক্তিশালী জার্মানির এই জয়লাভে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। জার্মানির টার্গেট হলো পঞ্চমবারের মতো ট্রফি জিতে ব্রাজিলের পাশে নাম লেখানো। জার্মানি শেষবার ট্রফি জিতেছে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে।
ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধের মতিগতি বোঝা খুব মুশকিল। আগেরবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পরেরবার খেলতে নেমে গ্রুপ স্টেজে দেশে বিদায়। এরা হলো ইতালি (১৯৫০ ও ২০১০), ব্রাজিল ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে, ফ্রান্স ২০০২ সালে, স্পেন ২০১৪ সালে, আর জার্মানি ২০১৮ সালে।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে এ পর্যন্ত এশিয়ার প্রতিনিধিদের আত্মবিশ্বাসে ভরপুর পারফরম্যান্স সত্যি চোখে পড়ার মতো। আমাদের সঞ্চয় ক্রমেই বাড়ছে। এশিয়ার দেশগুলো ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে কৃতিত্ব প্রদর্শন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া চেক প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করেছে ২-১ গোলে। কাতার ১-১ গোলে ড্র করেছে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক ড্র হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপান ২-২ গোলে ড্র করেছে। ইরান ভয়ানক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে খেলে তাদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে। সৌদি আরব উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে। গত বিশ্বকাপে (২০২২ কাতার) প্রথম ম্যাচে সৌদি আরব পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনাকে। ইরাক প্রথম খেলায় নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে পরাজিত হয়েছে। উজবেকিস্তান ৩-১ গোলে হেরেছে কলাম্বিয়ার কাছে। এশিয়ার প্রতিনিধি ইরাক তার নিজ খেলাটি খেলতে পারেনি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ দাপটের সঙ্গে (৩-০) বিজয়ী হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচসেরা মেসি হ্যাটট্রিক করেছেন। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ধরে রাখা, আর চতুর্থবারের মতো ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ জয়। দেশে ফুটবলের কড়াই আরো গরম হলো।
সময় যত গড়াচ্ছে, বিশ্বকাপের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফুটবলের সৌন্দর্যের জয় হোক। উপভোগ করুন স্মরণীয় একটি বিশ্বকাপ। তবে হৃৎপিণ্ডের ওপর জোর খাটাবেন না।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া





প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাজেটে উল্লিখিত ঘাটতি এবং প্রকৃত ঘাটতির মধ্যে একটি পার্থক্য সব সময়ই থাকে। শুধু তা-ই নয়, প্রকৃত ঘাটতি লিখিত ঘাটতির থেকে অনেক বেশি হয়ে থাকে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে যে বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কখনোই পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এরই মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে এক লাখ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। আগামী অর্থবছর যে খুব একটা ভালো হবে, তেমন আশা করা কঠিন। কেননা দেশের অর্থনীতিতে একটা মন্দাভাব বিরাজ করছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আছে অনেক অনিশ্চয়তা। দেশের ব্যবসায়ীরা এখনো সেভাবে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাতে পারছেন না। আমদানি-রপ্তানি এখনো নিম্নমুখী। কর্মসংস্থান সেভাবে বৃদ্ধি তো পাচ্ছেই না, উল্টো নতুন করে মানুষ বেকার হতে শুরু করেছে। সর্বোপরি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সার্বিক নেতিবাচক প্রভাব যে সরকারের রাজস্ব আহরণের ওপর পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব কারণে প্রস্তাবিত বাজেটের এক লাখ কোটি টাকা বা তার অধিক রাজস্ব আদায় কম হতে পারে। যদি তেমনটা হয়, তাহলে এই বাজেটে প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে তিন লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি।