• ই-পেপার

জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেপ্তার

ফের রিমান্ডে সাবেক মহিলা এমপি আশিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফের রিমান্ডে সাবেক মহিলা এমপি আশিকা
নীলফামারী-৩ আসনের (সংরক্ষিত) সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নীলফামারী-৩ আসনের (সংরক্ষিত) সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট  তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান’ দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি কী করেছি, কী অপরাধ আমার যে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে?’

এর আগে একই মামলায় গত শুক্রবার থেকে তিনি তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আল মামুন হোসাইন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আশিকা সুলতানার আইনজীবী শাহাব উদ্দিন রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাবেক এ এমপি গত শুক্রবার থেকে এই মামলায় রিমান্ডে ছিল। একজন মহিলা মানুষকে বারবার একই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা আমরা আদালতে রিমান্ড শুনানিতে বলেছি। কিন্তু আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আশিকা সুলতানাকে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে মিরপুর ১১ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুন মিরপুর-১-এর এপেক্স শোরুমসংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৪০/৫০ জন সরকারবিরোধী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিছিল করেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনার সঙ্গে আসামি আশিকা সুলতানা জড়িত আছে। তিনি আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতা বলেও পুলিশ দাবি করেন। সুতরাং মিছিলের মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতকদের গ্রেপ্তার ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিলের নেতৃত্বদানকারীদের রহস্য উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হুইল চেয়ারে আদালতে সাংবাদিক আজাহার আলী, ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
হুইল চেয়ারে আদালতে সাংবাদিক আজাহার আলী, ফের গ্রেপ্তার

রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক মো. আজাহার আলী সরকারকে (৫৭) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। 

এদিকে আজ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে হুইল চেয়ারে করে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে আজহার বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। ৭১ মঞ্চের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হল।’ এসময় আদালতে শারীরিকভাবে অসুস্থ বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গত ১৮ জুন এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানিতে বলেন, আসামি ফেরাউনের চেয়ে ভয়ঙ্কর। গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার। আসামি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা কাজে জড়িত ছিলেন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রার্থনা করছি।

গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. রিপন শুনানিতে বলেন, আসামি মারাত্মকভাবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। কিডনি ও  লিভারের মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসও রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেননি আসামি কোন সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক মামলায় জামিন না হতে হতেই নতুন করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

এর আগে, গত বছরের ২৯ আগস্ট এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আজহার আলীকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে।

দুইবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না থাকা ও সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

অনলাইন ডেস্ক
দুইবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না থাকা ও সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
সংগৃহীত ছবি

কোনো নারী কর্মীর দুবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না থাকা এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস চাকরি না করলে প্রসূতি ছুটি না থাকা সম্পর্কিত বিধি ও আইনি বিধান নিয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানির পর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(২) ধারা এবং ৪৬(১)-এর প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করে কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিষয়টি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও মাতৃত্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কেন এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

এর আগে গত ১৫ জুন কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থমূলক এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থী। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা বিদ্যমান থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে; যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

পরে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই রিট করা হয়েছে। মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শাহানাজ সুলতানা এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান সরকার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর হাওয়া জানায়, ওই বছরের ১ জুলাই থেকে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করে। কাজের সামান্য ত্রুটির অজুহাতে তাকে প্রতিনিয়ত গালাগাল, লোহার খুন্তি ও গরম রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। নির্যাতনের সময় একজন ধরে রাখতেন এবং অন্যজন মারধর করতেন। মেয়েটি ব্যথায় কান্নাকাটি করলে আসামিরা হাসাহাসি করতেন। এমনকি তাকে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।

এই ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের (২০১৯ সাল) ২২ অক্টোবর দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার এসআই প্রশান্ত বালা।

অভিযোগপত্রে হাওয়া আক্তারের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে বলা হয়, আসামিরা সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় ২০১৮ সালের ৭ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওয়াকে আটকে রেখে লোহার খুন্তি ও রড গরম করে ছ্যাঁকা দেন। গ্যাসের চুলার আগুনে তার চুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, গরম চাকু দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার পর সেই জখম স্থানে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করা হতো। এই অমানবিক ও অকল্পনীয় নির্যাতনের ফলে হাওয়া আক্তারের সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় এবং সে চিরতরে পঙ্গু হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। বিচার চলাকালীন আদালত মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।