• ই-পেপার

যেভাবে জুমার নামাজের সূচনা হয়েছিল

গ্রাফিকস ডিজাইনকে পেশা বানিয়ে উপার্জনের বিধান

মুফতি ওমর বিন নাছির
গ্রাফিকস ডিজাইনকে পেশা বানিয়ে উপার্জনের বিধান
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। ডিজিটাল মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ব্যবসা এবং বিজ্ঞাপনের প্রসারের ফলে গ্রাফিকস ডিজাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় পেশায় পরিণত হয়েছে। অসংখ্য তরুণ-তরুণী এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। লোগো, ব্যানার, পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, বিজ্ঞাপনচিত্র, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে গ্রাফিকস ডিজাইনের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

তবে একজন সচেতন মুসলমানের জন্য শুধু আয়ের উৎস হওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সেই আয় হালাল কি না, কাজটি শরিয়তসম্মত কি না এবং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুকূল কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা অপরিহার্য। বিশেষ করে প্রাণীর ছবি, মানুষের ছবি কিংবা নারীদের ছবি ব্যবহার করে ডিজাইন তৈরি ও বিক্রির বিধান সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। তাই এর বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৭২)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর না।’(সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ২)
এ দুটি আয়াত থেকে বোঝা যায়, মুসলমানের উপার্জন যেমন হালাল হতে হবে, তেমনি তার কাজও গুনাহ ও হারামের সহযোগী হওয়া যাবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে ছবি নির্মাতারা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১০৯)
আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ঘরে ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৪)

এসব হাদিসের ভিত্তিতে অধিকাংশ ফকিহ ও মুহাদ্দিস প্রাণীর চিত্র অঙ্কনের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। একদল আলেমের মতে, ডিজিটাল ছবি কাগজে আঁকা স্থায়ী চিত্রের মতো নয়; বরং এটি আলো ও পিক্সেলের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিচ্ছবি। তাই প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডিজিটাল ছবি ব্যবহারের অবকাশ রয়েছে।
অন্যদিকে আরেকদল আলেম মনে করেন, ডিজিটাল হোক বা অঙ্কিত হোক—সজীব প্রাণীর ছবি তৈরির মধ্যে চিত্র নির্মাণের অর্থ বিদ্যমান থাকে। তাই তারা এ ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পক্ষে মত দেন। তাই ফটোগ্রাফিকে নিরঙ্কুশ বৈধ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়; বরং প্রয়োজনের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। (তাফসিরে আয়াতিল আহকাম, ২/৩০০)

গ্রাফিকস ডিজাইন পেশার বিধান
গ্রাফিকস ডিজাইন একটি মাধ্যম। এর বিধান নির্ভর করবে এর বিষয়বস্তু ও ব্যবহারের ওপর।

যেসব ডিজাইন বৈধ
১. ইসলামী পোস্টার ও দাওয়াহমূলক ডিজাইন
২. ক্যালিগ্রাফি ও আরবি নকশা
৩. প্রকৃতি, পাহাড়, নদী, ফুল ইত্যাদির ডিজাইন
৪. ব্যাবসায়িক লোগো ও ব্যানার
৫. বইয়ের প্রচ্ছদ ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট
৬. অনুমোদিত ডিজিটাল আইকন ও গ্রাফিক উপাদান
এসব ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইন করা এবং এর মাধ্যমে উপার্জন করা বৈধ বলে গণ্য হবে।

যেসব ডিজাইন থেকে বিরত থাকা আবশ্যক

১. নারীদের ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন তৈরি
২. অশ্লীল বা অনৈতিক কনটেন্ট ডিজাইন
৩. হারাম পণ্য বা কার্যক্রমের প্রচারণা
৪. ধর্মবিরোধী বা শিরকপূর্ণ প্রতীক প্রচার
৫. গুনাহের কাজে সহায়ক ডিজাইন

এসব কাজ গুনাহের সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান অত্যন্ত সতর্কতাপূর্ণ। তাই তাকওয়ার দাবি হলো অপ্রয়োজনীয় প্রাণীর ছবিনির্ভর ডিজাইন থেকে দূরে থাকা এবং বিকল্প ক্ষেত্র বেছে নেওয়া। বিশেষত ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, টাইপোগ্রাফি, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, ইনফোগ্রাফিক, শিক্ষামূলক কনটেন্ট ও ব্যাবসায়িক ডিজাইনের ক্ষেত্রগুলো একজন মুসলিম ডিজাইনারের জন্য অধিক নিরাপদ ও প্রশংসনীয়। (ফাতাওয়ায়ে শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক আকিফি, ১/৩০৫)

একজন মুসলিম গ্রাফিকস ডিজাইনারের করণীয়
১. কাজের বিষয়বস্তু শরিয়তসম্মত কি না তা যাচাই করা।
২. অশ্লীলতা ও হারাম বিষয়বস্তু থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
৩. নারীদের ছবিনির্ভর ডিজাইন এড়িয়ে চলা।
৪. ইসলামী ও কল্যাণকর কনটেন্ট তৈরিতে দক্ষতা ব্যবহার করা।
৫. সন্দেহপূর্ণ আয়ের ক্ষেত্র থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা।
৬. আল্লাহভীতি ও তাকওয়াকে পেশাগত জীবনের মূলনীতি বানানো।

গ্রাফিকস ডিজাইন বর্তমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পেশা। মূলত এটি একটি মাধ্যম, যার বিধান নির্ভর করে এর ব্যবহার ও বিষয়বস্তুর ওপর। শরিয়তসম্মত বিষয় নিয়ে ডিজাইন করা এবং তার মাধ্যমে উপার্জন করা বৈধ। তবে প্রাণীর ছবি ও ডিজিটাল চিত্রের ব্যাপারে সমকালীন আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ জন্য যে বিষয়গুলো নিয়ে মতভেদ ও সন্দেহ রয়েছে, সেগুলো থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা একজন মুমিনের তাকওয়ার পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বিন ও সম্মানকে নিরাপদ রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫২)

অতএব, একজন মুসলিম ডিজাইনারের উচিত এমন ক্ষেত্র বেছে নেওয়া, যেখানে তার দক্ষতা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হবে, উপার্জন হবে হালাল এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিও অর্জিত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক অর্জন, সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকা এবং তাকওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

আখিরাতে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট যেভাবে ভুলিয়ে দেয়া হবে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আখিরাতে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট যেভাবে ভুলিয়ে দেয়া হবে
সংগৃহীত ছবি

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের থেকে একজনকে উপস্থিত করা হবে, যে দুনিয়াতে সবচেয়ে সুখী ছিল। তখন তাকে জাহান্নামের মধ্যে ঢুকানো হবে, এরপর বলা হবে, হে বনি আদম, তুমি কি কখনো কল্যাণকর জিনিস দেখেছ? তোমার কাছে কখনো কি সুখের আসবাবপত্র এসেছে? সে বলবে, হে আমার রব, ওয়াল্লাহি! না। আর জান্নাতিদের থেকে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে জগতে সবচেয়ে দুঃখী ছিল। তাকে জান্নাতে একবার প্রবেশ করানোর পর বলা হবে, হে বনি আদম, তুমি কি দুনিয়াতে কখনো দুঃখ পেয়েছ? তোমার ওপর কি কোনো বিপদাপদ এসেছিল? সে বলবে, না, ওয়াল্লাহি! আমি দুনিয়াতে কোনো দুঃখ ও মুসিবতে পড়িনি এবং কোনো দুঃখ দেখিনি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭০৮৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৩১১২)

শিক্ষা ও বিধান

১. দুনিয়ার সুখ-দুঃখ ক্ষণস্থায়ী। মানুষ দুনিয়াতে যত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই ভোগ করুক, যদি তার শেষ পরিণতি জাহান্নাম হয়, তবে জাহান্নামের সামান্য শাস্তিও তার সমস্ত সুখকে ভুলিয়ে দেবে। অন্যদিকে, একজন মুমিন দুনিয়াতে যত কষ্টই ভোগ করুক, যদি তার গন্তব্য জান্নাত হয়, তবে জান্নাতের সামান্য নেয়ামতই তার সব দুঃখ-কষ্ট মুছে দেবে।

২. আখিরাতই প্রকৃত জীবন। তাই আসল সফলতা বা ব্যর্থতা দুনিয়ার অবস্থার ওপর নির্ভর করে না; বরং আখিরাতের পরিণতির ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আখিরাতের জীবনই হলো প্রকৃত জীবন।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৪)

৩. আজ যারা দারিদ্র্য, রোগব্যাধি, অপমান, নির্যাতন বা নানা বিপদে আক্রান্ত, তাদের জন্য এই হাদিস বিশাল সান্ত্বনার উৎস। কেননা একজন মুমিন যদি ঈমান ও তাকওয়ার ওপর অবিচল থাকে, তবে জান্নাতের এক মুহূর্তের সুখই তার জীবনের সব কষ্টকে তুচ্ছ করে দেবে।

৪. দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে প্রতারিত হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ দুনিয়াতে অত্যন্ত সুখী, ধনী ও ক্ষমতাবান। কিন্তু বাহ্যিক সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়। যদি তারা ঈমান ও নেক আমল ছাড়া মৃত্যুবরণ করে, তবে তাদের দুনিয়ার সমস্ত সুখ কোনো উপকারে আসবে না।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, দুনিয়া চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। দুনিয়ার সুখ দেখে অহংকার করা এবং দুঃখ দেখে হতাশ হওয়া কোনোটিই মুমিনের কাজ নয়। কারণ জান্নাতের এক মুহূর্তের নেয়ামত পৃথিবীর সব কষ্টকে মুছে দেয়, আর জাহান্নামের এক মুহূর্তের শাস্তি পৃথিবীর সব সুখকে বিস্মৃত করে দেয়। তাই একজন বুদ্ধিমান মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভের জন্য আমল করা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুনিয়ার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে আখিরাতমুখী জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার দিন যে তিন দোয়া বেশি বেশি পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন যে তিন দোয়া বেশি বেশি পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন হচ্ছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। হাদিসে জুমার দিনে করণীয় বেশকিছু আমলের কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ আমল হলো আল্লাহ তাআলার কাছে একাগ্রচিত্তে দোয়া করা। কারণ এটি দোয়া কবুলের দিন। এই দিনের দোয়া বিশেষভাবে কবুল করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন’। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪০০) 

তবে কোনো হাদিসে এসেছে, ‘সেই সময়টি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮) 
বিখ্যাত সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (জাদুল মাআদ, ২/৩৯৪)

তাই জুমার দিন বিশেষ করে আসর নামাজের পর দোয়া করা উচিত। যেকোনো দোয়াই করা যায়। এখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া তুলে ধরা হলো।

১. দুনিয়া-আখেরাতে কল্যাণ লাভের দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’ 
অর্থ : ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০১‍)


২. উত্তম জীবন যাপনের দোয়া

اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى 

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গেনা।’ 
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে হেদায়াত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা তাকওয়া কামনা করি এবং আপনার কাছে নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য ও সচ্ছলতা কামনা করি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭২১, তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৮৯) 

৩. মা-বাবাসহ সকল মুমিনের জন্য দোয়া

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ 

উচ্চারণ : ‘রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ 

অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে আপনি সেই দিন ক্ষমা করে দিবেন; যেই দিন হিসাব কায়েম করা হবে।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪১)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উল্লেখিত দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করার তাওফিক দান করুন। বিশেষ করে দোয়া কবুলের সময়গুলোতে বেশি বেশি পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে ৮ ইবাদতে জুমার দিন প্রাণবন্ত হয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে ৮ ইবাদতে জুমার দিন প্রাণবন্ত হয়
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা অনুধাবন করা

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার নামাজ আদায় করা

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৩. জুমার দিন গোসল করা

জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা

জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৫. দোয়া করা

জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কর।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কর। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

৬. সুরা কাহাফ পাঠ করা

জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যে ব্যক্তি অজুর পর এই দোয়া পড়বে তার নাম একটি চিঠিতে লেখা হবে। অতঃপর তাতে সিল দেওয়া হবে, যা কেয়ামত পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৭. ক্ষমা প্রার্থনা করা

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

৮. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা 

জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ এক সময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)