• ই-পেপার

ব্যক্তিগত বিদ্বেষ যেভাবে জুলুমে রূপ নেয়

যে তিন শ্রেণীর মানুষ বিশেষ সম্মানের অধিকারী

মুফতি দিদার হুসাইন
যে তিন শ্রেণীর মানুষ বিশেষ সম্মানের অধিকারী
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে মানুষের সম্মান শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং এটি ঈমান ও আল্লাহভীতিরই প্রতিফলন। পবিত্র হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহকে সম্মান করার একটি অংশ হলো, বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কোরআন ধারণকারীকে সম্মান করা এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৪৩)

এ হাদিসে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, এই তিন শ্রেণির মানুষকে সম্মান করা মূলত আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই অংশ। নিম্নে এই তিন শ্রেণির বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে তুলে ধরা হলো—

বয়োজ্যেষ্ঠ মুসলিম : পবিত্র হাদিসে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্মান করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্যমতে, আল্লাহ তাআলার প্রতি ভক্তি-সম্মান প্রদর্শনের দাবি হলো মজলিস-বৈঠকে প্রবীণ ও বয়স্ক মুসলিমদের সম্মানজনক স্থানে বসানো, তাঁদের প্রতি ভক্তিপূর্ণ আচরণ করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ সেবাযত্ন করা। যেমন—হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দেওয়া, যানবাহনে উঠতে সাহায্য করা, অজু-ইস্তিঞ্জায় সহজতার প্রতি লক্ষ রাখা ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আমাদের ছোটদের দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯২০, আবু দাউদ, হাদিস :৪৯৪৩)

এটি প্রমাণ করে যে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা ইসলামী চরিত্রের মৌলিক একটা অংশ।

বর্তমান সমাজের অনেক জায়গায় দেখা যায়, তরুণরা বড়দের কথা শোনে না, অসম্মানজনক আচরণ করে এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয় না। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বড়দের প্রতি সেই আগের মতো শ্রদ্ধাবোধ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে।

আলেম তথা কোরআনধারী ব্যক্তি : যাঁরা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের জ্ঞান ধারণ করেন ও তা প্রচার করেন, মহান আল্লাহর দরবারে তাঁদের বিশেষ সম্মান রয়েছে। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে (আলেমগণ), তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করেন।’ (সুরা : আল-মুজাদালা, আয়াত : ১১)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং শেখায়। (বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)

অন্য হাদিসে এসেছে, আলেমরা নবীগণের উত্তরাধিকারী। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৮২)

আলেমদের সম্মান করা মানে দ্বিনের আলোকে সম্মান করা। কারণ তাঁরা নবীদের উত্তরাধিকারী। আলেমদের অবমাননা করা মূলত ইলম ও শরিয়তের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আলেম ও কোরআনধারী ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। কেউ কেউ দ্বিনি জ্ঞানকে ছোট করে দেখে বা সামাজিকভাবে তাঁদের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। অথচ সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার মূল ভিত্তিই তাঁরা। এই অবমূল্যায়ন সমাজে দ্বিনি চেতনা দুর্বল করে দিচ্ছে।

ন্যায়পরায়ণ শাসক : যে শাসক জনসাধারণের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে, নিজেও কারো প্রতি জুলুম করে না, জনগণকেও পারস্পরিক জুলুম-নিপীড়ন থেকে বিরত রাখে, আল্লাহ তাআলার কাছে তার মর্যাদা অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় স্থান দেবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এক শ্রেণি হলো, ন্যায়পরায়ণ শাসক। (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৬)

অন্য হাদিসে এসেছে : আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য বেশি উপকারী। (আল মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৫৭৮৭)

যে সমাজ বয়োজ্যেষ্ঠ, আলেম ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্বকে সম্মান করতে শেখে, সে সমাজেই নৈতিকতা, স্থিতি ও বরকত প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যেখানে এ সম্মান লোপ পায়, সেখানে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতা অনিবার্য হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা আমাদের ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন।

সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

মানুষ দুনিয়ায় নানা আবেদনে, নানা প্রণোদনায় কাজ করে থাকে। কখনো অর্থের মোহে, কখনো খ্যাতি ও যশের লোভে, কখনো ক্ষমতালাভকে সামনে রেখে তার কাজ সংঘটিত হয়। আবার কখনো নারীসঙ্গলোভ, যৌন আবেদনে সে উদ্বুদ্ধ হয়। কখনো প্রভুত্বপ্রিয়তা ও লোকরঞ্জনের লোভ তাকে পেয়ে বসে।

এমন আরো বহু ধরনের জাগতিক উদ্দেশ্যলাভই তার মুখ্য হয়। অনেক ধরনের নিয়তে সে ঘুরপাক খায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এই সবকিছুই ‘গায়রুল্লাহ’ এবং এই ধরনের কাজ ও নিয়ত ‘রিয়া’ নামে বিবেচ্য হয়। রিয়াদুষ্ট কোনো কাজ, সে যত মহৎই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে কখনো তা গ্রহণযোগ্য হয় না, কবুলিয়তের মহিমায় ধন্য হয় না।

নবী (সা.) বলেছেন, কোনো মহৎ কাজে যদি বিন্দুমাত্র রিয়া ও লোকরঞ্জন অভিলাষ থাকে, তা আল্লাহর কাছে গৃহীতব্য হয় না। (ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান, হাদিস : ৩১৪০)

নবীজি (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিনজন ব্যক্তিকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। একজন খ্যাতিমান আলেম, একজন মশহুর দানশীল, আরেকজন হলো শহীদ। আলেমজনকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি দুনিয়ায় কী করে এসেছ? সে বলবে, আমি দ্বিনের ইলম অর্জন করেছি, এর প্রচার-প্রসারে শ্রম ব্যয় করেছি।

আল্লাহ বলবেন, এই সবকিছু তুমি করেছ খ্যাতি অর্জনের জন্য, আমার জন্য নয়। নির্দেশ হবে, একে অধোমুখ করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। অনন্তর সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।এমনিভাবে দানশীল হিসেবে খ্যাত এবং শহীদরূপে বিখ্যাত ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের পর নিয়তের বিশুদ্ধতার অভাবে, বৈকল্যের কারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।(ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ, হাদিস : ১৯০৫) পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অল্প কাজ হলেও তা নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে বলে বিবেচ্য।

নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা দ্বিনকে খালিস ও নির্ভেজাল করো, অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে। সৎ লোকদের প্রশংসায় আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘তারা আল্লাহর জন্যই তাদের দ্বিন ও আমলকে নির্ভেজাল ও নিরেট করে।’ (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫)

আল্লাহর কাছে খালিস ও বিশুদ্ধ আমলই একমাত্র গ্রহণযোগ্য। কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘শোনো, আল্লাহর জন্য হলো বিশুদ্ধ ও খালিস দ্বিন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৩)

নবীজি (সা.) সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আমল তো নিয়ত অনুসারেই বিবেচ্য হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি যে ধরনের নিয়ত করবে, তার জন্য সে ধরনের প্রতিদান হবে। (উদাহরণত) যার হিজরত হবে আল্লাহ ও রাসুলের জন্য তাঁরই পথে, তার হিজরত বিবেচ্য হবে আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের জন্যই। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া পাওয়ার জন্য বা কোনো নারীকে বিয়ের খাতিরে, তার হিজরত সে জন্য বলেই বিবেচিত হবে।’ (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস : ১)

এমনকি কাজের বিনিময় প্রাপ্তির দিকেও তার নজর থাকবে না। পাওয়া না-পাওয়ার ঊর্ধ্বে তাকে উঠতে হবে। অনেক আল্লাহঘনিষ্ঠ বান্দা এ কথাও ব্যক্ত করেছেন যে তার সব কাজের মাকসুদ হবে একমাত্র আল্লাহ। জাহান্নাম থেকে মুক্তি, জান্নাত অর্জন—এ বিষয়টিও তার কাছে গৌণ ও প্রচ্ছন্ন হয়ে যাবে। এগুলো হলো মুমিনের পুরস্কার। পুরস্কার হলো পুরস্কারদাতার অনুগ্রহ এবং তাঁরই আনুকূল্য। পুরস্কার কখনো মুখ্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে না।

সুতরাং মুমিনের প্রতিটি কাজই হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির তাড়নায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, তাঁরই জন্য খালিস করে। একেই শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইখলাস’ বা নিয়তের পরিশুদ্ধি ও বিশুদ্ধতা বলা হয়ে থাকে। সাহাবিরা ইসলামের এই অত্যুচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত ছিলেন। তাই আল্লাহ পাক তাঁর সন্তুষ্টির খোশখবরিসহ তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন কোরআন মজিদে, ‘(এরা এমন যে) আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০০) 

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৮ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৮ জুন ২০২৬

আজ রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ১২ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৫ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৯ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

যে ৪ গুনাহ করার সময় ঈমান থাকে না

অনলাইন ডেস্ক
যে ৪ গুনাহ করার সময় ঈমান থাকে না
সংগৃহীত ছবি

বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে পরকালে তার ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এজন্য পরকালে সফল হতে মহান আল্লাহর হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তার দেখানো পথ অনুসরণও জরুরি। পবিত্র কোরআনে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।

তাই মনে রাখতে হবে, ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

এ ক্ষেত্রে আখিরাতে সফলকাম হতে নবীজি (সা.) বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এরমধ্যে একটি হাদিসে চারটি পাপ কাজের কথা এসেছে, যে কাজগুলোর সময় মানুষ মুমিন থাকে না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময় মুমিন থাকে না। কোনো শরাব (মদ) পানকারী শরাব পান করার সময় মুমিন থাকে না। কোনো চোর চুরি করার সময় মুমিন থাকে না এবং কোনো ছিনতাইকারী এমনভাবে ছিনতাই করে যে, মানুষ তা দেখার জন্য তাদের চোখ সেদিকে উত্তোলিত করে, তখন সে মুমিন থাকে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১৫)