সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশব্যাপী মিছিল-মিটিং, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনকে হুমকি প্রদান এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বনানীস্থ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে গুলশান-২ সার্কেলে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ঢাকায় অবস্থিত প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু), সিনিয়র সহ-সভাপতি রিসালাত ইসলাম সজীবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মো. আবু হোরায়রা বলেন, ‘জীবন ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে দেশের স্বার্থে ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও দেশের প্রয়োজনে একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি সব নেতাকর্মীকে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে সজাগ থাকার এবং যেকোনো অবৈধ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ যে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না। গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ছাত্রদল সবসময় সোচ্চার থাকবে।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো সন্দেহজনক বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ দেশের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।





