• ই-পেপার

দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৭৬ বিলিয়ন ডলার

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে আয় কমেছে ৬৯ কোটি ইউরো

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে আয় কমেছে ৬৯ কোটি ইউরো

তৈরি পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছর নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাজারটিতে দেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময় রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩৫৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৬৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। দৈনিক আমার দেশের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৫ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১৬৬ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

ইইউভুক্ত দেশগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজার ৩৮৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এ আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৭২ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। তার বিপরীতে গত বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আমদানি করেছিল ৭৭ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরি পোশাক।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো- রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি কেজি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ কোটি কেজি সমপরিমাণ তৈরি পোশাক।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে, তাই এ বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এ বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, সুদের হার বৃদ্ধি এবং খুচরা বিক্রিতে ধীরগতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমছে। ফলে এ অঞ্চলের ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হয়ে অর্ডার দিচ্ছেন। বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে ক্রেতারা এখন আগের তুলনায় বেশি দরকষাকষি করছেন এবং কমদামে পণ্য কিনতে চাচ্ছেন, যা সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর মূল্যছাড়ের চাপ বাড়াচ্ছে।

ইইউর দেশগুলোয় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এ অঞ্চলে ৪২০ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে দেশটি। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ০১ শতাংশ কম। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি কমেছে ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পুরো ইইউ বাজারে পোশাক আমদানিতে মন্দা চলছে। নেতিবাচক প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ওপরই নয়, বরং অন্যান্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর অবস্থাও একই। সামগ্রিকভাবে ইইউ বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে। এছাড়াও তারা তাদের এ সময়ের চাহিদার পণ্য আগেই নিয়ে নিয়েছে, যার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের রপ্তানি কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে ডিটুসি (ডিরেক্ট টু কনজ্যুমার) প্রক্রিয়াতে অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। যেখানে রপ্তানিকারকরা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই বিশ্বের গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রি করবেন। ডিটুসি প্রক্রিয়াতে চীন দ্রুত অনলাইনে ক্রেতার কাছে নিজেদের পণ্য তুলে ধরছে। তাছাড়া আমাদের ইইউ বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি কমাতে ঋণ পুনঃতফসিল বাড়িয়েছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েছে। এতে করে ব্যাংক খাতে গত বছর শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

এর আগে, ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানিয়েছে আমার দেশ।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়।

২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৭৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে করা হয় ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পুনঃতফসিল ঋণের ৫৭ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার পরিমাণ বাড়ছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে খেলাপি ঋণ কম দেখাতে নানা রকম ছাড় দেওয়া হয়। বিশেষ করে ২০২২ সালের জুলাইয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পুরো ক্ষমতাই ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। কারণ, ব্যাংকের পর্ষদই এখন খেলাপি ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত দিতে পারছে।

আবার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসার কারণেও ঋণ নিয়মিত রাখতে পুনঃতফসিল সুবিধা দিতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এছাড়া বিগত সরকারের সময়ে এ সংক্রান্ত নীতিমালাও শিথিল করা হয়। মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিলেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পেত।

তবে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে অথবা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুযোগ দিতে নীতিমালায় পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র দুই শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিয়মিত করার সুযোগ দেয়। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি (গ্রেস পিরিয়ড) পাওয়া যায়।

প্রথম দফায় গত বছরের জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি ছিলেন; তারাই এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। পরে এ সময়সীমা ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্ব শেষ গত মাসে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে তা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নীতি-সহায়তার আওতায় এক হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আসে। এর মধ্যে ৩০০টি গ্রুপের ৯০০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

পুনঃতফসিল ঋণের ৪০% খেলাপি

ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, তার মধ্যে আবার খেলাপি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এই ঋণের মধ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা আবার খেলাপির খাতায় উঠেছে।

এর বাইরে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা মোট পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি পুনঃতফসিল ঋণ যে খাতে

আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন।

২০২৫ সাল শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ স্থিতির মধ্যে ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশই ছিল শিল্প খাতের। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত, ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এছাড়া পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ চলতি মূলধন, আমদানিতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ নির্মাণ, ৩ দশমিক ০১ শতাংশ কৃষি খাতে, জাহাজ নির্মাণে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ১৭শতাংশ অন্যান্য খাতে।

দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকা

পুনঃতফসিলকৃত ঋণকে 'স্ট্রেসড' বা 'দুর্দশাগ্রস্ত' হিসেবে দেখায় আইএমএফ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একই সময়ে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আদায় অযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকগুলো ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ঋণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত।

বিনিয়োগ বাড়াতে চার কৌশল

বিডার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ পিপিপি কাঠামো শক্তিশালীকরণ ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি শিথিল করা আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে সংস্কার

অনলাইন ডেস্ক
বিনিয়োগ বাড়াতে চার কৌশল

বাংলাদেশকে অর্থনীতিতে এক বড় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে সেই রূপান্তরের কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে। এ কৌশলের ওপর ভর করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় দেশের মোট বিনিয়োগ যেখানে ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর নাগাদ তা ৩৬ দশমিক ৮২ শতাংশে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

অর্থাৎ আগামী তিন বছরে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে জিডিপির প্রায় ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রশ্ন হচ্ছে-এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত বাজেটে কী কৌশল নেওয়া হয়েছে আর আগের বাজেটগুলোর উদ্যোগই বা কতটুকু সফল ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে চারটি কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো ১. বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা বিনিয়ন্ত্রণকরণ, যার আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) কেন্দ্র করে বিনিয়োগসহায়ক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ২. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রকল্প পাইপলাইন সম্প্রসারণ। ৩. ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি পর্যায়ক্রমে শিথিল করা এবং ৪. আর্থিক ও পুঁজিবাজার সংস্কার, যার মাধ্যমে ঋণ মধ্যস্থতা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের শেয়ার বাজারের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য আর্থিক খাত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা।

অর্থ মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কৌশলের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় উৎপাদন খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় ও বিশেষ শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সামাজিক অবকাঠামো খাতের সমস্যা দূর করে বেসরকারি বিনিয়োগের আস্থা ফেরাতে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, প্রতিরক্ষাসহ পাঁচ বড় মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, বরাদ্দ বৃদ্ধি বা বড় অবকাঠামো প্রকল্প নিলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। মূলধনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বা গুণগত মান বাড়াতে হবে। প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিক ব্যয় বৃদ্ধি রোধ করা না গেলে লক্ষ্যপূরণ কঠিন হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সফল হলে এবং ২০২৬-২৭ সাল থেকে ঋণের খরচ কমলে বেসরকারি খাতের মূলধন দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন ও ডিজিটাল সংযোগের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে ব্যাপকভাবে যুক্ত হবে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধির নতুন পথ দেখাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের বাজেটগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বড় বড় মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত বরাদ্দ বা উদ্যোগ নেওয়া হলেও গলদ রয়ে গেছে প্রকল্প পরিচালনায়। সরকারি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাব এবং গুণগত মানের ঘাটতির কারণেও আগের প্রকল্পগুলো থেকে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক প্রকল্পে ধারাবাহিক ব্যয় বেড়েছে। বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মূলধনের কার্যকারিতাও নষ্ট হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কৌশল হিসেবে সরকারি ক্রয়ের স্বচ্ছতা, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং নিবিড় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো শক্তিশালী করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মূলধনের বিশাল অঙ্ক : বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বাজার ও অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ নতুন মূলধনের জোগান দিতে হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক হিসাব বলছে, বরাবরের মতোই মোট মূলধন গঠনে সবচেয়ে বড় একক অবদান বজায় রাখবে বেসরকারি খাত, যা জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার নিজস্ব বিনিয়োগ বর্তমানের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ২ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্ষেপণ করেছে। অর্থাৎ সরকারি মূলধনের জোগান বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন-এই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কাঠামোগত বাধা দূর করা। এসব খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিনিয়োগে মূলধন গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাজেট পর্যালোচনায় বলেন, ‘বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শুধু করসুবিধা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগ এখন জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, উচ্চ সুদের হার, নীতিগত স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ভূমি প্রাপ্তি, বন্দর দক্ষতা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির প্রায় ২২-২৩ শতাংশে আটকে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে বাস্তব সংস্কার, সুশাসন এবং নীতির ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন আস্থা, যাতে টাকা খাটিয়ে তাঁরা তা লাভসহ ফেরত পান। দেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা পাবেন।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

জুনের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৬২ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুনের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৬২ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬২ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
 
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।