• ই-পেপার

ব্যাংকের টাকা লেনদেনের ফি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন

রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বুধবার (১ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

দেশের ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা পূরণে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এ সার আমদানি করবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কমিটি রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন (প্রোডইনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়। প্রতি মেট্রিক টন ৩৮০ মার্কিন ডলার দরে এ সার আমদানিতে ব্যয় হবে আনুমানিক ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশন (সিসিসি) থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতি মেট্রিক টন ৩৮০ মার্কিন ডলার দরে এ সার আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ১৮৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

এ দুটি চালানের মাধ্যমে দেশে মোট ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়তা করবে এবং চাষাবাদ মৌসুমে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে আরএমজি ক্লাব ও বিটিএমএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে আরএমজি ক্লাব ও বিটিএমএ
সংগৃহীত ছবি

দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরএমজি ক্লাব লিমিটেড এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর আম্বার গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে একমত হন। সভায় আরএমজি ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি রেজাউল আলম মিরু এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে উভয় সংগঠনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী এই খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পায়ন এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন, উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের ওপর জোর দিতে হবে।

বৈঠকে টেক্সটাইল শিল্প উদ্যোক্তা এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

দুই সংগঠনের নেতারা মনে করেন, শিল্পবান্ধব নীতিগত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে এই শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে দুই সংগঠন ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই শীর্ষ সংগঠনের এই কৌশলগত সহযোগিতা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরো ৩ মাসের সময় পেল ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরো ৩ মাসের সময় পেল ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান
প্রতীকী ছবি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম-লুটপাটের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়াতে তিন মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী এই সময় দেওয়া হয়।

বুধবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানকে এসংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

এই কম্পানিগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তাদেরকেও অবসায়নের আওতায় আনবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্তের মধ্যে রয়েছে, এই চারটি কম্পানিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন জোগান এবং প্রয়োজনীয় তারল্য সংস্থান করতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তি বিক্রি, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে এনে সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

আর যদি কোনো কম্পানি নির্ধারিত ৩ মাস সময়ের মধ্যে শর্তসমূহ পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অবিলম্বে রেজল্যুশন কার্যক্রম আরম্ভ করবে।

শর্তসাপেক্ষে সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগে দাখিল করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিআইএফসির খেলাপি ঋণ ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, লোকসান ৪৮০ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের খেলাপি ঋণ ৯৮৪ কোটি টাকা বা ৭৫ শতাংশ, লোকসান ৯৪১ কোটি টাকা। জিএসপি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৫১৫ কোটি টাকা বা ৫৯ শতাংশ, লোকসান ৩৩৯ কোটি টাকা। এছাড়া প্রাইম ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৫৩৪ কোটি টাকা বা ৭৮ শতাংশ, লোকসান ৩৫১ কোটি টাকা।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করা যাবে ট্রেড ডকুমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করা যাবে ট্রেড ডকুমেন্ট
সংগৃহীত ছবি

বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন আরো সহজ, নিরাপদ ও আধুনিক করতে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) ও বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একটি পরীক্ষামূলক কাঠামো চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর মাধ্যমে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডরে সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে এসব দলিল আদান-প্রদান ও যাচাই করা যাবে। এতে অনেক কম সময়ে এবং সহজে বৈদেশিক লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি রপ্তানি দলিল ডিজিটাল করার একটি প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে আগের নির্দেশনার পরিধি আরও বাড়িয়ে আমদানি ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রকেই এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডিজিটালাইজেশন এগিয়ে নেওয়া এবং ট্রেড ফাইন্যান্স বা বাণিজ্য অর্থায়নে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে ইন্টারঅপারেবল (আন্তকার্যক্ষম) ও আইনগতভাবে নির্ভরযোগ্য ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টেশন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস, ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস এবং এগুলোর ইলেকট্রনিক সংস্করণ দিয়ে পরিচালিত সব ধরনের আমদানি ও রপ্তানি লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।