• ই-পেপার

ঢাকা বোর্ডে এইচএসসির চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ, একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি

ঢাবি আইবিএতে এসিবিএ সনদ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবি আইবিএতে এসিবিএ সনদ বিতরণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালিত অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসিবিএ) কর্মসূচির ব্যাচ-২১-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এসিবিএর মডারেটর ড. মো. মহিউদ্দিন এবং ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এমডিপি) সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সনদপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পেশাগত জীবনে সফল হতে নেতৃত্বগুণ, সততা ও ধারাবাহিক আত্মোন্নয়নের বিকল্প নেই। তিনি অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ অংশগ্রহণকারীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দক্ষ ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে মানসম্মত নির্বাহী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় আইবিএর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আইবিএর শিক্ষকমণ্ডলী, বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সনদপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন। সনদ গ্রহণকে ঘিরে পুরো অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। পরে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন নোবিপ্রবির মুরাদ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন নোবিপ্রবির মুরাদ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুল আকবার মুরাদ।

কঠোর পরিশ্রম, ল্যাবরেটরির প্রতি একাগ্রতা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে একাডেমিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সাইদুল আকবার মুরাদ। স্নাতক পর্যায়ে তুলনামূলক কম সিজিপিএ (CGPA) থাকা সত্ত্বেও সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে তিনি যোগ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। সম্প্রতি দেশটির এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (Emporia State University)-তে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

সাইদুল আকবার মুরাদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১১তম ব্যাচ এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ICE) বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নোবিপ্রবিতে শিক্ষা জীবন শেষে মুরাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানকার বিখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পাহাং’ (University Malaysia Pahang) থেকে ২০২৩ সালে সফলতার সঙ্গে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। একই বছর উচ্চশিক্ষার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মিসিসিপি’ (University of Southern Mississippi)-তে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন তিনি।

পিএইচডি চলাকালীন নিজের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ল্যাবের কঠোর পরিশ্রমকে দেখছেন মুরাদ। তিনি জানান, বাইরের কোনো জরুরি কাজ না থাকলে দিনের সিংহভাগ সময়ই তিনি কাটাতেন গবেষণাগারে। তাঁর এই একাগ্রতার ফলও মেলে দ্রুত। অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি উচ্চমানের আন্তর্জাতিক আর্টিকেল প্রকাশিত হয় তাঁর। মুরাদের এমন কৃতিত্বে অভিভূত হয়ে তাঁর প্রফেসর তাঁকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ক্যারিয়ার গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পিএইচডি চলাকালীন দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হন সাইদুল আকবার মুরাদ। একটি, হল অব ফেম (Hall of Fame) : যুক্তরাষ্ট্রে এই স্বীকৃতিকে অত্যন্ত সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যটি, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (Graduate Research Award): যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শেষে মাত্র ২ জনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যার মধ্যে একজন ছিলেন মুরাদ।

পিএইচডি সম্পন্ন করার পর মুরাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে একটি ছিল ফ্লোরিডার ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা’ (University of South Florida) এবং অন্যটি কানসাসের ‘এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’।

সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে ‘এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের অফারটি গ্রহণ করেন।

সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে সাইদুল আকবার মুরাদ বলেন, ‘একটা সময় অনার্সের কম সিজিপিএ নিয়ে খুব চিন্তায় থাকতাম, আদৌ কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারব কি না। কিন্তু আমি কখনো আশা ছাড়িনি। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছি এবং বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ তাঁর অশেষ মেহেরবানিতে আমার জন্য একটি উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত খুশি।’

তার এ সাফল্যে তার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নোবিপ্রবির সবাই গর্বিত ও আনন্দিত।

তৃতীয় ভাষা শিখলেই মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ

অনলাইন ডেস্ক
তৃতীয় ভাষা শিখলেই মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ঋণ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তৃতীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক কর্মবাজার ও উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষাকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরো জানান, এসব ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করতে সরকার বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করবে। এর আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

প্রথম ধাপের বিশেষ বৃত্তি পেলেন জবি শিক্ষার্থীরা

জবি প্রতিনিধি
প্রথম ধাপের বিশেষ বৃত্তি পেলেন জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ আন্দোলনের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তির চেক বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মনোনীত সব শিক্ষার্থীর কাছে বৃত্তির চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। ১৫তম থেকে ২০তম ব্যাচের মোট ১ হাজার ১৬৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় রয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র সৌজন্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম কিস্তির প্রতীকী চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিক। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট বিবেচনায় নিয়ে বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, বৃত্তির অর্থ সময়মতো বিতরণ করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো শিক্ষার্থী যাতে জটিলতার মুখোমুখি না হন, সেজন্য অর্থ ও হিসাব দপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি অনুষদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আবাসন সংকট জবি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই বিশেষ বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকাংশে কমাবে।

জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবির ফলেই এ বৃত্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বাকি অর্থও দ্রুত বিতরণের দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিলেন। গত বছর ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বিশেষ বৃত্তি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি টিএসসি সংস্কার, নতুন আবাসিক হল নির্মাণ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।