দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হওয়া গ্র্যাজুয়েটরাই জাতীয় উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব।
তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেও তাদের একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যায়। তবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশেই থেকে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছেন। ফলে দেশের মানুষ সরাসরি তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুফল ভোগ করছে।’
রবিবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক রিসার্চ রিভিউ ওয়ার্কশপ-২০২৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাউরেস (SAURES) আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার।
অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার ফলেই দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন নতুন ফসল, ফল ও প্রযুক্তির বিস্তার ঘটেছে। একসময় যেসব ফল মানুষের কাছে বিলাসিতা ছিল, বর্তমানে সেগুলোর সহজলভ্যতা কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনেরই ফল।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজধানীতে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি নীতিনির্ধারকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারে। এতে গবেষণার প্রভাব জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে।’
তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একসময় ধারণা ছিল যে পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তবে সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে তাদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘গবেষণাই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান উৎপাদনের প্রধান মাধ্যম। নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সময়মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণা তহবিল প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকাশনা, গবেষণার অগ্রগতি ও জবাবদিহিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




