বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘বুয়েটের যেমন সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সৃজনশীলতা, মেধা, বুদ্ধি ও দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অনেক অবদান রয়েছে।’
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে বুয়েট অডিটরিয়ামে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘অবকাঠামোর ক্ষেত্রে, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই বুয়েটের ফ্যাকাল্টি মেম্বার্সদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না কেন, দেখবেন সেখানে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন, তারা সেখানে হয় পড়াশোনা করছেন অথবা কেউ না কেউ শিক্ষকতা করছেন। অর্থাৎ বুয়েটে ভর্তির মাধ্যমে আপনারা খুব রিয়েল একটা লেগেসি পাচ্ছেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেই ঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।’
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য—একজন শিক্ষার্থী শুধু কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একজন মানুষ—যার ন্যায়, নীতি, সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম থাকবে। একই সঙ্গে সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে তিনি গড়ে উঠবে। যেখানে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা চাকরির জন্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য, সে প্লাটফর্মগুলোতে সুযোগ পাবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বুয়েটকে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা দেশের শীর্ষ মেধাবী, সবচেয়ে বেশি সৃজনশীলতা নিয়ে আপনারাই তো আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আপনারা যারা রয়েছেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত। স্পোর্টস কালচারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুঁথিগত বিদ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনাদের ইন্টারপারসোনাল স্কিলস, ট্রান্সফারেবল স্কিলস, টিম স্কিল, লিডারশিপ—এই প্রত্যেকটা তৈরি করতে হবে।’
সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন কিভাবে বুয়েটে গবেষণার জন্য আরো বেশি ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রো-ভিসি স্যারকে বলছিলাম অডিটরিয়ামের এই অবস্থা কেন? আমাদের মনে হয় সরকারের দিক থেকেও আরো বেশি সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা করব।’
বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এন এম গোলাম জাকারিয়া।





