• ই-পেপার

ঢাবিতে ‘রাজ্জাক-শামসুন নাহার গবেষণা পুরস্কার’ প্রদান

ঢাবিতে তিতুমীর

এবারের বাজেটকে সংখ্যার দৃষ্টিতে না দেখে মূল দর্শন বোঝা জরুরি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
এবারের বাজেটকে সংখ্যার দৃষ্টিতে না দেখে মূল দর্শন বোঝা জরুরি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, এবারের বাজেটকে শুধু সংখ্যার দৃষ্টিতে না দেখে এর মূল দর্শন, লক্ষ্য এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝা জরুরি। এই বাজেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জনবান্ধব বাজেট।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তরুণদের জন্য জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ : শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ শীর্ষক জাতীয় বাজেটবিষয়ক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাবির সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির উদ্যোগে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে সংলাপটি আয়োজিত হয়।

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, শিক্ষাকে আরো গবেষণাভিত্তিক করতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

ঢাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে গবেষণানির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সরকারের সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্য দেন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নায়িম সুলতানা। এ ছাড়া সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান এবং সহকারী অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী তাদের মতামত তুলে ধরেন।

ঢাবিতে যুব কর্মসংস্থান নিয়ে দিনব্যাপী সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবিতে যুব কর্মসংস্থান নিয়ে দিনব্যাপী সেমিনার
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কেন্দ্রে যুব কর্মসংস্থানকে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক ড. সেলিম জাহান। তিনি বলেন, বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ হলেও বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই কর্মসংস্থানের পরিমাণগত অর্জনের পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারজেনারেশনাল ডায়ালগ : পাথওয়েজ ফর ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ এই দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করে।

পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু হাসানাত মোহাম্মদ কিশোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্র উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক শাফায়েত সুলতান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্সসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের কর্মবাজারে তারা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে। এ ধরনের আন্তঃপ্রজন্ম সংলাপ থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে এবং সরকারের কাছে তা উপস্থাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. উম্মে বুশরা ফাতেহা সুলতানা এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ। বক্তারা দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

ঢাবিতে ‘আরবি ভাষা ও সাহিত্যে রাজ্জাক-আলবুরুজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার’ প্রদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবিতে ‘আরবি ভাষা ও সাহিত্যে রাজ্জাক-আলবুরুজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার’ প্রদান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আরবি ভাষা ও সাহিত্যে রাজ্জাক-আলবুরুজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার’ রবিবার প্রদান করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আরবি ভাষা ও সাহিত্যে রাজ্জাক-আলবুরুজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং দাতা সদস্য মো. সরওয়ার জাহান ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য তাঁর শিক্ষাদান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত। এ ধরনের পুরস্কার শিক্ষকদের মধ্যে উৎকর্ষ সাধনের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আরো নিবেদিত হওয়ার জন্যও তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এবার পুরস্কার লাভ করেছেন আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক (২০১৬-২০১৭), অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (২০২১-২০২২), অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান (২০২২-২০২৩) এবং প্রভাষক ইমরান হোসাইন (২০২৩-২০২৪)।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী প্রফেসর সুলতানা এন. নাহার ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'S. N. Nahar Teaching Award Trust Fund' প্রতিষ্ঠা করেন।

ভর্তীচ্ছু ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা তারিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ভর্তীচ্ছু ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা তারিক
সংগৃহীত ছবি

মেয়েটির স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। কিন্তু দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তার ব্যক্তিগত সহায়তায় ভর্তি-অনিশ্চয়তায় থাকা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ভর্তীচ্ছু ছাত্রীর উচ্চশিক্ষার পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মেধাবী ওই ছাত্রী। তবে চরম আর্থিক সংকটের কারণে ভর্তি ফি জোগাড় করতে না পেরে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। দরিদ্র পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে বসেছিল।

এমন সংকটময় সময়ে তার পাশে দাঁড়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিক। রবিবার বিকেলে তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছেন, যাতে সোমবার (২৯ জুন) নির্ধারিত সময়ে ওই ছাত্রী তার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।

সহায়তা পেয়ে ওই ছাত্রী বলেন, ‘ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পারায় আমি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মনে হচ্ছিল, হয়তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না। ঠিক সেই সময়ে তারিক ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই সহযোগিতা শুধু আমাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগই করে দেয়নি, নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহসও দিয়েছে।’ 

এ বিষয়ে তারিক বলেন, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। গাইবান্ধার এক ছাত্রনেতার মাধ্যমে জানতে পারি টাকার অভাবে মেয়েটি ভর্তি হতে পারছে না। পরে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হই। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু অর্থের অভাবে থেমে যাক—এটি মেনে নেওয়া যায় না। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তার ভর্তির সব দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি।’