• ই-পেপার

কাভার্ড ভ্যানে লবণের আড়ালে ইয়াবা পাচার, আটক ৫

বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ঘরের থেকে মাজার ভক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বৃদ্ধ ও স্বামীর ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৃথক স্থান থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন উপজেলার রামনারায়ণপুর গ্রামের দুলাল শেখের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৫৫) এবং শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা গ্রামের আমিনুল ইসলাম আরমান (৬৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনারায়নপুর গ্রামের নিহত রাহেলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সুস্থ্য করার জন্য অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্ত রেহানা বেগম সুস্থ্ হয়ে ওঠেননি। এ অবস্থায় রোগযন্ত্রনা সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে রেহানা বেগম স্বামীর ঘরের ভেতর তীরের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ সময় পরিবারের লোকজন কাজের উদ্দ্যেশে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে, শেরপুর উপজেলার রণবীর বালা গ্রামের আমিনুল ইসলাম আরমান দীর্ঘদিন ধরে মাজার ভক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল। মাঝে মধ্যেই সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাড়িতে ফিরে আনেন। তবে বেশীর ভাগ সময় সে মাজার ভক্তদের বাড়িতে অবস্থান করতেন। তারই ধারবাহিকতায় ১২ জুন বিকেল ৩টার দিকে আমিনুল ইসলাম আরমান নিজ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার ১০টার দিকে ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর আমিনুল ইসলাম আরমানের মৃতদেহ দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাভারে ফুতপাত দখলমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ফুতপাত দখলমুক্ত করলো উপজেলা প্রশাসন
ছবি: কালের কণ্ঠ

জনগনের চাহিদার ভিত্তিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহামামদ সালাউদ্দিন বাবুর নির্দেশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয়পাশে হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে সাভার মাশরুম সেন্টার এবং সাভার নিউমার্কেট থেকে পাকিজা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশে হকার উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

এসময় মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বসানো অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ভাসমান কাঠের চৌকিসহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারি মালামাল পৌরসভার গাড়িতে ভরে নিয়ে যায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। তবে অভিযানের খবর পেয়ে হকাররা আগে থেকেই তাদের মালামাল নিজ দায়িত্বে সড়িয়ে নেন।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধারণ জনতা, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে সাভার মডেল মসজিদ থেকে সাভার নিউ মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রাস্তা এবং ফুটপাতে যারা অবৈধ দখলদার আছে এবং যেসব হকাররা ফুটপাত দখল করে রেখেছে জনগনের ভোগান্তি লাঘবে তাদেরকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাভারের সর্বস্তরের জনগনের চাহিদা ছিলো তারা নিরাপদে ফুটপাত দিয়ে হাটবে। কিন্তু এই অবৈধ দখলদার এবং হকারদের কারনে সাভারের লোকজন নিরাপদে এবং সুন্দরভাবে ফুটপাত দিয়ে হাটতে পারতনা। তাই জনগনের চাহিদার পূরনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’

উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ব্যক্তিগত সহকারী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন নির্বাচনের সময় আমাদের ঢাকা-১৯ এর সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ভাই জনগনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই হকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে দেখা গেলো ঈদের আগে হকাররা ঈদ উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ফুটপাতের বসার জন্য দাবি করে। কিন্তু ঈদ চলে যাওয়ার পরও অনেকদিন হয়ে গেছে তারা এখনও নিজ থেকে সড়ে যাচ্ছেনা। তাদের কারনে জনগনের হাটাচলায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাই জনগনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য বাবু ভাইয়ের নির্দেশনায় প্রশাসনের সহযোগীতায় আজকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। ভবিষ্যতেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো।’

অভিযানের সময় থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

নওগাঁয় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব ও হেনস্তার অভিযোগ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁয় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব ও হেনস্তার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়া, হেনস্তা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে পরে আবারও একই ধরনের আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে তার পথরোধ করে হেনস্তা করা হয়। পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গত বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জুতাপেটা করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তিনি মান্দা থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ করার পর থেকে মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।’

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নারায়ণগঞ্জ

২০০ বছরের শ্মশান রক্ষা মামলায় নতুন মোড়

এক টাকায় শতকোটির সম্পত্তি বন্দোবস্ত

নগর প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
২০০ বছরের শ্মশান রক্ষা মামলায় নতুন মোড়
নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত সিদ্ধিরগঞ্জ শ্মশান ও মন্দির। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় প্রায় ৭০০ শতাংশ (সাত একর) জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হিসাব করলে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় শত কোটি টাকারও বেশি। 

এই স্থায়ী বন্দোবস্তের বৈধতা, জমির প্রকৃত মালিকানা এবং প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি শ্মশান ও মন্দিরের অস্তিত্ব নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এক টাকায় স্থায়ী বন্দোবস্ত- এসব বিষয় নিয়ে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। 

এ ঘটনায় শিল্প প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মধ্যে আইনি লড়াইয়ে আদালত চূড়ান্ত রায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নারায়ণগঞ্জের প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ইনজাংশন ও স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিলের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

শ্মশান কর্তৃপক্ষ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শুধু সিদ্ধিরগঞ্জ নয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড এবং পাশের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য একমাত্র শ্মশান এটি।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় সাত একর জমির মধ্যে শ্মশান ও মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জায়গা। 

স্থানীয়দের দাবি, এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে শ্মশান ও মন্দির  থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানটি পুরো জমির মালিকানা দাবি করছে। এর মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা ও কার্যালয় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে একাধিক পাইলিং পিলারও বসানো  হয়। 

এদিকে, পারটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আম্বার পেপার মিলস উচ্চ আদালত থেকে স্থিতাবস্থার আদেশ নিয়ে এলে হঠাৎ করেই উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতে সিটি করপোরেশন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। 

শ্মশান কমিটির অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে পারটেক্স গ্রুপের লিজ নেওয়ার সময় শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল। তাদের দাবি, বর্তমানে শত কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পদ মাত্র এক টাকায় স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল, যা তদন্তের দাবি রাখে।

অন্যদিকে আম্বার পেপার মিলসের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির সব বৈধ রেকর্ড, বন্দোবস্ত ও মালিকানার কাগজপত্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। সরকারি রেকর্ডে শ্মশান বা মন্দিরের দাবির পক্ষে কোনো উল্লেখ নেই বলেও দাবি তাদের। তাদের ভাষ্য, জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত সব অর্থ পরিশোধ করেই বৈধভাবে লিজ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে একবার শ্মশানের জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় আদালতের রায়ে শ্মশানের অস্তিত্ব স্বীকৃতি পায় এবং সেখানে নিয়মিত দাহকাজ চলতে থাকে। তবে আধুনিকায়ন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর নতুন করে আইনি বিরোধ সামনে আসে।

এদিকে, উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিলের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নিম্ন আদালতে আবেদন করে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাড. সাখাওয়াত বলেন, সরকারি তদন্তে জমিটি শ্মশানের জমি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী হাট-বাজার, সড়ক, মসজিদ, মন্দির বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। এভাবে শ্মশানটির উন্নয়ন কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ফিরে যাবে।

অ্যাড. সাখাওয়াত আরো বলেন, ‘এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় বিপুল পরিমাণ এই সম্পদ স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি হাস্যকর এবং এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

তবে আম্বার পেপার মিলসের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড. মজিদ খন্দকার বলেন, ‘শ্মশান দাবিদারদের কোনো আইনি ভিত্তিসম্পন্ন কাগজপত্র নেই। আরএস, এসএ, সিএস কিংবা বিডিআরএস- কোনো জরিপেই সংশ্লিষ্ট স্থানে শ্মশান বা মন্দিরের অস্তিত্ব রেকর্ডভুক্ত নয়। বরং আরএস, এসএ ও সিএস রেকর্ডসহ সবশেষ বিডিআরএস জরিপেও ৯৯ বছরের স্থায়ী বন্দোবস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। তবে এক টাকায় স্থানীয় বন্দোবস্ত বিষয়টি আমার জানা নেই।  কাগজপত্র দেখলে বিষয়টি বোঝা যাবে।’

অ্যাড. মজিদ আরো বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। রায় আমাদের বিপক্ষে গেলে উচ্চ আদালতে যাব।’ 

এদিকে, ২০০ বছরের পুরনো এই শ্মশান ঘিরে এখন মুখোমুখি অবস্থানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং আম্বর পেপার। একপক্ষ এটিকে ঐতিহাসিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে দাবি করলেও অন্যপক্ষ জমির বৈধ মালিকানা দাবি করছে।