• ই-পেপার

রৌমারী সীমান্ত থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর দুই শিশুসহ নারীকে উদ্ধার করল বিজিবি

লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

২০টির মধ্যে ৯ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ উৎপাদন কমে বাড়ছে ভোগান্তি

এইচ এম আলাউদ্দিন, খুলনা
লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
প্রতীকী ছবি।

গ্যাস সংকটের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি উৎপাদন কমছে চালু থাকা কেন্দ্রগুলোতেও। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০টির মধ্যে ইতোমধ্যে অন্তত ৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকলেও সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবু খুলনা-বরিশালসহ পদ্মার এপারের ২১ জেলার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং সহ্য করতে হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে উৎপাদিত ও আমদানি করা বিদ্যুতের একটি বড় অংশ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হয়েও অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের। 

নাগরিক নেতাদের দাবি, এটি শুধু উৎপাদন সংকট নয়, বরং বিদ্যুৎ বণ্টনে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের আরেকটি উদাহরণ।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস স্বল্পতার কারণে ৪১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভেড়ামারা নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার প্লান্ট কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ১১৫ মেগাওয়াটের খুলনা কেপিসিএল, ২২৫ মেগাওয়াটের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার প্লান্ট, ১০৫ মেগাওয়াটের রূপসা ওরিয়ন পাওয়ার প্লান্টসহ  কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

শুধু কেন্দ্র বন্ধই নয়, চালু থাকা বেশিরভাগ কেন্দ্রও তাদের সক্ষমতার অনেক নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। 
ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বুধবার (১৭ জুন)-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার খুলনা পাওয়ার প্লান্ট উৎপাদন করেছে মাত্র ১০০ মেগাওয়াট; এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন করেছে ৫১০ মেগাওয়াট;  ১৫০ মেগাওয়াটের পায়রা ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্ট থেকে এসেছে মাত্র ১৭ মেগাওয়াট; ১২০ মেগাওয়াটের বরিশাল সামিট পাওয়ার প্লান্ট উৎপাদন করেছে ১৬ মেগাওয়াট এবং  ১০৫ মেগাওয়াটের গোপালগঞ্জের মধুমতি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন করেছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ওইদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্রগুলো থেকে মোট চার হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও ওজোপাডিকোর গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট। অবশিষ্ট দুই  হাজার ১০৪ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাগরিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এখানকার মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় লোড ডেসপাস সেন্টার (এলডিসি)
বিদ্যুৎ বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি নাগরিক নেতাদের।

ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খুলনা ও বরিশাল জোনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। দুই জোনে মোট চাহিদা ৬০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ঘাটতি থাকছে ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। ফলে অনেক এলাকায় দিনে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল এবং ভিআইপি ফিডারের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে লোডশেডিং বেশি।

এদিকে, বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কোল্ড স্টোরেজ, আইটি সেবা, হাসপাতাল এবং উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যত অর্ধেক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ওজোপাডিকো কেবল বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। এলডিসির মাধ্যমে পিডিবি থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা-ই বিতরণ করা হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতেই হয়। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামানের অভিযোগ, খুলনা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। এখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও তার বড় অংশ অন্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে স্থানীয় জনগণকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ 

অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি অ্যাড. কুদরত-ই-খুদা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি অল্প ব্যয়ে সচল করা গেলে স্থানীয়ভাবে কিছু বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমবে।’

বাউফলে ৪০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করল জনতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
বাউফলে ৪০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করল জনতা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও দরপত্র অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করার অভিযোগে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। কাজ বন্ধ করার আধাঘণ্টা ব্যবধানে প্রভাব খাটিয়ে ওই কাজ চালু করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের গালমন্দ ও হুমকি দেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে  উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী  সিনেমা হলের সামনের সড়কের নির্মাণকাজে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের  অভিযোগ, কালাইয়া বন্দরের ল্যাংড়া মুন্সীর পুল থেকে  পূর্ব দিকে সুন্দরী সিনেমা হলের সামনের সড়কের ৯৮ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ।  আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে  সড়কের সিসি ঢালাই কাজ শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকেরা। সড়কের সিসি ঢালাই কাজে নিম্নমানের লবণাক্ত সিলেকশন বালু, ঢালাই ৩ ইঞ্চির কম ও সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুটের কমসহ  নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী কাজের মান তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন এবং জনসম্মুখে নির্মাণ কাজের দরপত্র  মেনে কাজ করার অনুরোধ করেন। দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ বন্ধের আধাঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করতে শ্রমিকদের নির্দেশ দেন ফাহাদ। পরে শ্রমিকরা সেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়েই কাজ শুরু করেন। 

জানা গেছে, ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ১৮ ফুট প্রস্থের আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণ কাজটির দায়িত্ব পান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

উত্তম নামে একজন সাব ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। অনিয়মের কারণে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিলে বিষয়টি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদকে জানানো হয়। ফাহাদ আধাঘণ্টা ব্যবধানে ঘটনাস্থলে এসে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় কাজ চালু করার নির্দেশ দেন। পরে শ্রমিকেরা কাজ শুরু করেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চায়েত বলেন, সড়ক নির্মাণকাজে সিলেকশন বালু বা  বালুর পরিবর্তে ময়লাযুক্ত চট্টগ্রামের লবণাক্ত বালু ব্যবহার করে। ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের  সিসিঢালাই দেওয়ার কথা থাকলে দেড় ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীকে বিষয়টি দেখার জন্য বললে, তিনি না দেখার ভান করেন। পরে এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ এসে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন, শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন।'

স্থানীয় মো. মনজু বলেন, ‘দরপত্র অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করছেন। নির্মাণকাজের শিডিউল দেখতে চাইলেও তিনি দেননি। কাজে দুর্নীতি অনিয়ম করার জন্যই শিডিউল হাইড রেখে মনগড়া ভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজে বাধা দিলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রভাব ঘাটিয়ে ঠিকাদার অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’

এদিকে,  নির্মাণ কাজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এম এ হান্নান ও এইচএম বাবলুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের  অশ্লীন ভাষায় গালাগাল করে এবং হুমকি দেন। 

এ বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, ‘কাজ বন্ধ কিংবা চালু করা কোনো ঘটনার সঙ্গেই আমি জড়িত না। সাংবাদিকদের গালাগাল কিংবা হুমকীর অভিযোগও সত্য না।’

নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহাকরী প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মাণ কাজের শিডিউল আমার কার্যালয়ে রয়েছে।’ আর অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’ 

আর ঠিকাদারের পক্ষে নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা উত্তম বলেন, ‘তিনি শুধু শ্রমিক দিয়ে কাজ করান। মালামল সরবরাহ করেন ঠিকাদার।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে  কহিনুর এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম  বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলব।’

পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল  বলেন, ‘সড়কের নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ হবে। তা কাউকে দেখাতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। লুকোচুরি করে কাজ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়টি আমি দেখব। ’

বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ও নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ঘরের থেকে মাজার ভক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বৃদ্ধ ও স্বামীর ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৃথক স্থান থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন উপজেলার রামনারায়ণপুর গ্রামের দুলাল শেখের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৫৫) এবং শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা গ্রামের আমিনুল ইসলাম আরমান (৬৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনারায়নপুর গ্রামের নিহত রাহেলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সুস্থ্য করার জন্য অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্ত রেহানা বেগম সুস্থ্ হয়ে ওঠেননি। এ অবস্থায় রোগযন্ত্রনা সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে রেহানা বেগম স্বামীর ঘরের ভেতর তীরের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ সময় পরিবারের লোকজন কাজের উদ্দ্যেশে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে, শেরপুর উপজেলার রণবীর বালা গ্রামের আমিনুল ইসলাম আরমান দীর্ঘদিন ধরে মাজার ভক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল। মাঝে মধ্যেই সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাড়িতে ফিরে আনেন। তবে বেশীর ভাগ সময় সে মাজার ভক্তদের বাড়িতে অবস্থান করতেন। তারই ধারবাহিকতায় ১২ জুন বিকেল ৩টার দিকে আমিনুল ইসলাম আরমান নিজ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার ১০টার দিকে ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর আমিনুল ইসলাম আরমানের মৃতদেহ দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাভারে ফুটপাত দখলমুক্ত করল উপজেলা প্রশাসন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ফুটপাত দখলমুক্ত করল উপজেলা প্রশাসন
ছবি: কালের কণ্ঠ

জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর নির্দেশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে সাভার মাশরুম সেন্টার এবং সাভার নিউমার্কেট থেকে পাকিজা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশে হকার উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বসানো অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভাসমান কাঠের চৌকিসহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী মালামাল পৌরসভার গাড়িতে ভরে নিয়ে যান পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তবে অভিযানের খবর পেয়ে হকাররা আগে থেকেই তাদের মালামাল নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেন।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধারণ জনতা, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে সাভার মডেল মসজিদ থেকে সাভার নিউমার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রাস্তা এবং ফুটপাতে যারা অবৈধ দখলদার আছে এবং যেসব হকাররা ফুটপাত দখল করে রেখেছে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে তাদেরকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাভারের সর্বস্তরের জনগণের চাহিদা ছিল তারা নিরাপদে ফুটপাত দিয়ে হাঁটবে। কিন্তু এই অবৈধ দখলদার এবং হকারদের কারণে সাভারের লোকজন নিরাপদে এবং সুন্দরভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারত না। তাই জনগণের চাহিদা পূরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’

উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ব্যক্তিগত সহকারী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন নির্বাচনের সময় আমাদের ঢাকা-১৯ এর সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ভাই জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই হকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে দেখা গেল ঈদের আগে হকাররা ঈদ উপলক্ষে কয়েকদিন ফুটপাতের বসার জন্য দাবি করে। কিন্তু ঈদ চলে যাওয়ার পরও অনেকদিন হয়ে গেছে তারা এখনো নিজ থেকে সরে যাচ্ছে না। তাদের কারণে জনগণের হাঁটাচলায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাই জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য বাবু ভাইয়ের নির্দেশনায় প্রশাসনের সহযোগিতায় আজকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। ভবিষ্যতেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করব।’

অভিযানের সময় থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।