• ই-পেপার

মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

আবুধাবিতে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আবুধাবিতে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু
দিদারুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দক্ষিণ–পূর্ব রাউজানের বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম চৌধুরী (৬০) আবুধাবির একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘বাইট্টা দিদার’ নামে পরিচিত ছিলেন। দিদারুল ইসলাম মরহুম সুলতান আহমদ সওদাগরের কনিষ্ঠ সন্তান এবং দীর্ঘ এক যুগ ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ সেখানকার পুলিশ উদ্ধার করে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৭ জুন সকালে আবুধাবির আল মোল্লা সিটির একটি চারতলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও দিদারুল ইসলাম আর বের হতে পারেননি। ওই সময় তিনি ভবনের একটি টয়লেটে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটি সিলগালা করে দেয়। পরে দিদারুল ইসলামকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে রিং হলেও তিনি সাড়া দেননি। এতে তাঁর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরদিন ১৮ জুন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভবনের একটি টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আবুধাবি পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতের স্বজন শাহ আলম ও সাইফুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, আগুনের তাপ কিংবা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আবুধাবি প্রবাসী স্বজন আবু জাফর বলেন, ‘দিদার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’

দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
 

ভাতিজির বিয়েতে বরকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে চাচার মৃত্যু

নড়াইল সংবাদদাতা
ভাতিজির বিয়েতে বরকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে চাচার মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

নড়াইলে ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানের গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে নকুল মল্লিক (৫২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার মুশুড়িয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

নকুল মল্লিক একই গ্রামের সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নকুল মল্লিকের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। একই উপজেলার ধোপাখোলা এলাকা থেকে বরযাত্রীরা রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিয়ে বাড়ির গেটে পৌঁছায়। এসময় জামাইকে বরণ করতে অন্যদের সঙ্গে গেটে যান নকুল মল্লিক। জামাইকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গেটের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল ৪ দিন

অনলাইন ডেস্ক
ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল ৪ দিন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন জমা দিতে আরো ৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী কমিটিকে ২২ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ১৩ জুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবস, অর্থাৎ ১৮ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার।

শুক্রবার (১৯ জুন) কমিটির প্রধান সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন বলেন, ক্রিকেটারকে মারধরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ২৯ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নাঈম হাসানকে তল্লাশি ও আটক করা হয়েছিল, সেই তথ্যটি কোন সংস্থা বা উৎস থেকে এসেছে, তা খুব গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। জড়িতদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

গত ১২ জুন রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন নাঈম হাসান। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশা থামিয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নেয়।

গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। এক পর্যায়ে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম। এ ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন রাতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে। তাঁকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে হামলা এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত শনিবার ওই মামলায় তাঁকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর নাঈম হাসানের চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও ফরিদারপাড়া এলাকায় গিয়ে তাঁকে মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার শওকত আলী।

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রবাসীসহ নিহত ৩

হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে : এমপি বকুল

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতনিধি
হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে : এমপি বকুল

আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। প্রতিটি হত্যার হিসাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে। প্রত্যেকটি লাশের জবাব দিতে হবে।’

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুরে স্থানীয় আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত তিনজনের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এক সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এমপি বকুল আরো বলেন, ‘একটি পক্ষ প্রতিশোধ নিতে এবং মানুষ হত্যার জন্য এলাকায় এসেছিল। তারা এলাকায় উঠার জন্য আসেনি। তারা আমাদের মুখে চুনকালি দিতে এসেছিল। আপনারা লাঠিসোটা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হউন। বাইরে থেকে কোনো সন্ত্রাসী আসলে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখবেন এবং পুলিশের হাতে তোলে দেবেন। রায়পুরার চরাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নে কাউকে অন্যায় প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।’

জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। গত ১৬ জুন ভোরে তারা স্পিডবোট যোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে। এসময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিন সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ওই ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিন সমর্থক অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক প্রবাসফেরত কাউছার মিয়া, আব্দুল লতিফ ও মোটরসাইকেল মেকানিক বুলবুল মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার এক দিন পর (১৭ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর (১৮ জুন) সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই প্রবাসী কাউছার, লতিফসহ তিনজন নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ আছেন বুলবুল মিয়া। 

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, ‘হত্যায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলমান আছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত অনিকের মা বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে। অন্য দুটি হত্যার ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিখোঁজ বুলবুলের সন্ধানে তার পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করছে। পুলিশ তার সন্ধানে কাজ করছে। বর্তমানে উপজেলার নিলক্ষা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।