• ই-পেপার

৫৪ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে ভালো বাজেট দিয়েছে সরকার : হুইপ দুলু

দায়িত্ব অবহেলায় মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন চিকিৎসককে শোকজ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
দায়িত্ব অবহেলায় মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন চিকিৎসককে শোকজ
সংগৃহীত ছবি

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ (আরএমও) তিন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) সকালে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ করা হয়।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অলক কান্তি তালুকদার, মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা দাস এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) বিপ্লব হোসেন।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে নিজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩) মারা যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, অপমৃত্যুর ঘটনা হলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলামকে অবহিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের শোকজ করা হয়। নোটিশে আগামী কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, অপমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল থেকে পুলিশকে অবহিত করা একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তবে এর আগেও একাধিক ঘটনায় পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে অবহিত করা নিয়মের অংশ। বারবার বলার পরও তারা সেটা আমলে নিচ্ছিলেন না।  এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরায় ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাগুরায় ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের নোমানী ময়দান থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে পূর্বাশা সিনেমা হলের সামনে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্রাজিল সমর্থকরা জড়ো হন। পরে তারা পতাকা, ফেস্টুন, ভুভুজেলা এবং ঘোড়ার গাড়িসহ বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতেন। সবুজ-হলুদ রঙের পোশাক ও ব্রাজিলের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সমর্থকরা আশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের প্রিয় দল ব্রাজিল আগামী বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেবে এবং দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় নেইমারের নেতৃত্বে আবারও বিশ্বসেরার মুকুট জিতবে। তারা বিশ্বাস করেন, বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ব্রাজিল আবারও নিজেদের ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রাখবে।

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা
সংগৃহীত ছবি

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের নজরদারিতে ক্লোজসার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্সের ওপর ও ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। 

এর আগে গত ১৮ জুন মাজারে ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসায় জেলা প্রশাসন। ওইদিনই ডেগ ও দানবাক্স পাহারার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

মাজারের আয়-ব্যয়ে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাজারের দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেগ নজরদারি করতে একাধিক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নতুন স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দানবাক্সের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের ফলে মাজারে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের দান কার্যক্রমে আস্থা, দান বাক্সে অর্থ জমা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরো সুশৃঙ্খল ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে এবং মাজারকেন্দ্রিক স্বচ্ছতা আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

জামালগঞ্জে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার সাচনা বাজারে উত্তর ইউনিয়ন ও সচেতন নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস শহীদ ছবর আলী তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং উত্তর কামলাবাজ সামাজিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইনসান আহমেদ মনিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আলী আক্কাছ মুরাদ ও মো. খুরশেদ আলম, সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাকর মজুমদার, কালীপুর নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা নূরুল হক, ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনির হোসেন এবং উত্তর কামলাবাজ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি এমদাদুর রহমান হিরণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রধান শক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও মেধার বিকাশ দেশের ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করতে পারে। কিন্তু যুবসমাজ মাদকের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়লে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মাদকাসক্তি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তারা আরো বলেন, মাদকাসক্তি বিভিন্ন অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর অপরাধসহ নানা সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব রয়েছে। তাই মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ নয়, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তাদের মতে, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সমাবেশে উপস্থিত জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। যারা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা— হয় মাদক ছাড়তে হবে, নয়তো এই এলাকা ছাড়তে হবে। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।