‘ওই, একটাও সামনে আসবি না। একটাও সামনে আসবি না। মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু। একটাও সামনে আসবি না।’—পুলিশের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে করে এমন হুংকার দেওয়া হয়েছে যুবলীগের মিছিল থেকে।
আজ রবিবার ভোরে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার ভোগড়ার কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিক্ষোভ ওই মিছিলের আয়োজন করা হয়।
পুলিশ দেখে হুমকি ও মিছিলের একটি ভিডিও সকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভিডিওটি তারা দেখেছে। এবিষয়ে কাজ করছে পুলিশ।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লৌহ সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান শাকিল এন্টারপ্রাইজের সামনে ২০ থেকে ৩০ জনের একদল যুবক ব্যানার নিয়ে মিছিল শুরু করে। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক, সার্থক হোক’ এবং ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।’ ব্যানারের নিচে ‘গাজীপুর মহানগর যুবলীগ’ লেখা ছিল। ব্যানারের এক পাশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্য পাশে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আত্মগোপনে থাকা কামরুল আহসান সরকার রাসেলের ছবি ছিল। মিছিলের ওই ভিডিও নিজ সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করেন রাসেল।
মিছিলকারীরা ‘রাজপথ ছাড়ি নাই, শেখ হাসিনার ভয় নাই’ এবং ‘যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিতে দিতে দ্রুত বোর্ডবাজারের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় মহাসড়কের বিপরীত দিক থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিছিলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে মিছিলকারীদের কয়েকজন তাদের লক্ষ্য করে চিৎকার করে করে ওই হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন।
নরগরীর বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, ভিডিওটি দেখেছি। এটি আজকের, নাকি আগের তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার কালের কণ্ঠকে জানান, আজকে সকালে মিছিলটি হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
টাঙ্গাইলে মিছিল
টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডের পোস্ট অফিসের মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে তা বড় কালীবাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তবে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি রুহুল আমিন।