• ই-পেপার

তিস্তা এক্সপ্রেসে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরের মৃত্যু

কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন
সেলিমা আহমাদ মেরী। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই মিনহাজ আল-ইসলাম। তিনি জানান, সেলিমা আহমাদ মেরী দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সেলিমা আহমাদ মেরী দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন। তিনি নারী উদ্যোক্তা সংগঠন বাংলাদেশ ওমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

সপ্তাহে একদিন অফিস করেন নবীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার

ভোগান্তিতে সেবাগ্রহিতরা

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
সপ্তাহে একদিন অফিস করেন নবীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নবীগঞ্জ। প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কেন্দ্র হলো সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই অফিসে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম নিয়মিত অফিস করেন না। সপ্তাহে মাত্র একদিন (রবিবার) তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীন আচরণে দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

​প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষগুলো জমি রেজিস্ট্রি বা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাজে এসে সাব-রেজিস্ট্রারকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে যারা জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি বা ঋণের কাজে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসেন, তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। মাসের পর মাস দলিল পেন্ডিং পড়ে থাকছে, ফলে মানুষ তাদের জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। সাব-রেজিস্ট্রারের এই খামখেয়ালি আচরণের ফলে দলিল লেখক সমিতির সদস্যরাও পড়েছেন বিপাকে।

তাদের অভিযোগ, নিয়মিত অফিস না করায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ​এ বিষয়ে কথা হয় নবীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামের সঙ্গে। তিনি তার নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, তাকে শুধুমাত্র নবীগঞ্জেই নয়, বরং একই সাথে বানিয়াচং ও হবিগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই বাড়তি দায়িত্বের কারণেই তিনি সপ্তাহে প্রতিদিন নবীগঞ্জ অফিসে সময় দিতে পারছেন না।

তবে তার এই বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব থাকলেও সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ​জনসাধারণের দাবি, কাজের চাপের দোহাই দিয়ে জনগণকে সেবা বঞ্চিত রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী একজন সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব হলো প্রতিটি কর্মস্থলের মানুষের সেবার মান নিশ্চিত করা।

তারা বলছেন, শুধুমাত্র রবিবার এসে অফিস করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, যা অবিলম্বে নিরসন হওয়া প্রয়োজন। ​ভুক্তভোগীদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রারের এই নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। দলিল রেজিস্ট্রি করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া, কাজের চাপে রবিবার অফিসে তীব্র ভিড় হয়, যেখানে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবাটুকুও পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন অবিলম্বে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামের এই কাজের চাপের বিষয়টির সুরাহা করা হয়। অথবা বিকল্প ব্যবস্থায় বিকল্প কোনো কর্মকর্তাকে পদায়ন করে নবীগঞ্জবাসীকে নিয়মিত সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। ​জনস্বার্থে এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নবীগঞ্জবাসী।

মানিকগঞ্জে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ২ কৃষকের

সিংগাইর, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ২ কৃষকের
সংগৃহীত ছবি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজ আলীর ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে বৃষ্টির সময় কবির হোসেন ও শহিদুল ইসলাম মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরের জামাল ক্লিনিকে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে যুবকের মৃত্যু

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে জাহাঙ্গীর তালুকদার নামে  এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকালে উপজেলার বারহাট্টা ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহাঙ্গীর তালুকদার (৩৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ তালুকদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই আকাশ মেঘলা হয়ে ওঠে। এর মধ্যে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির পাশের মাঠে বেঁধে রাখা গরু আনতে যান জাহাঙ্গীর। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দূর থেকে বিষয়টি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে জাহাঙ্গীর বজ্রাঘাতের শিকার হন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।