বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজ শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতকরণ: সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও শ্রমিকদের বাস্তবতা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এই আহবান করা হয়। সংলাপের আয়োজন করে কর্মজীবী নারী ও ক্রিশ্চিয়ান এইড-বাংলাদেশ।
কর্মজীবী নারীর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উন্মে কুলসুম ফেরদৌসী।
সংলাপে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, ‘অটোমেশনের ফলে একদিকে কর্মসংস্থান কমছে, অন্যদিকে উৎপাদনের চাপ বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, ৩৫ বছর বয়স অতিক্রম করলেই অনেক কারখানায় ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয়।’ ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো নারী শ্রমিক যেন বাদ না পড়েন, সে দাবি জানান তারা।
ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা বলেন, ‘শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়া ন্যায্য রূপান্তর সম্ভব নয়। এজন্য শ্রমিক কল্যাণ ও পুনর্বাসন তহবিল গঠন এবং ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা বলেন, এ ধরনের রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ ও ‘শেয়ারড রেসপনসিবিলিটি’ ভিত্তিক অর্থায়ন প্রয়োজন।’
কারখানা ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিরা জানান, কিছু খাতে অটোমেশন এলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে মানবশ্রমের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগ জরুরি।
বিজিএমইএ প্রতিনিধি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাস্ট ট্রানজিশন মানেই ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশীদারিত্বমূলক রূপান্তর। এ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।‘




