• ই-পেপার

ঢামেকে চিকিৎসাধীন ইথানের শরীরে এখনো গুলি, ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন (৪২) নামের এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিউদ্দিন সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি এবং মাদামবিবিরহাট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে সীতাকুণ্ডের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মাঝখানে চাপা পড়েন মহিউদ্দিন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি কতুব উদ্দিন শিবলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে সীতাকুণ্ডে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মো. আবু তাহের, সাবেক আমির মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী, সহ-সেক্রেটারি কতুব উদ্দিন শিবলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে জানতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রেমের বিয়ের আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা নুপুরের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ভাই-ভাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর
প্রেমের বিয়ের আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা নুপুরের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ভাই-ভাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় প্রেম করে বিয়ের মাত্র আট মাস পর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নুসরাত জাহান নুপুরের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় চার মাস পর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বড় ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পীরগাছা উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, ঘটনার চার মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের স্বতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান নুপুর একই ইউনিয়নের পাঠক শিকড় গ্রামের আহাদ হোসেনকে প্রেম করে বিয়ে করেন। প্রায় আট মাস আগে হওয়া এই বিয়ে ছেলেপক্ষ মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার তা মেনে নেয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থতার কথা বলে নুপুরকে বাবার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পরদিন থেকেই স্বামী আহাদ হোসেনকে তালাক দিতে তার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আহাদকেও শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। ওই রাতে নুপুর ও আহাদকে মারধর করা হয় এবং জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই খালিদ হাসান মিলুসহ পরিবারের কয়েকজনের নির্যাতনে নুপুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় আহাদ হোসেনকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর সময় নুপুর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকের দাবি ছিল, নুপুরের মরদেহে আত্মহত্যার সুস্পষ্ট কোনো আলামত ছিল না। তাদের সন্দেহ, মারধরের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের স্বামী আহাদ হোসেন বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ চার মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নিহতের ভাই ও ভাবিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মামলা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রায়পুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মামলা
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের একটি বাসায় ঢুকে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের ৫ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে তাদের বাসায় এক লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী বাহির থেকে গেট বন্ধ করে দেয়। এতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে খবর দিলে তারা বাসায় ঢুকে নিহতদের রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। অভিযুক্ত ঘাতক বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদে গিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনগণ জড়ো হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে সে মারা যায়। প্রায় দেড় বছর ঘাতক যুবক একই ভবনের পাঁচ তলায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে সে এ বাসা ছেড়ে চলে যায়। অন্তর জানত বাসা ভাড়ার টাকা সবাই শাহিনুরের কাছে জমা দেয় এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। এতে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই অন্তর ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা।

নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই সে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাটির মূল ঘটনা উদঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।

বাদী জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া দিত। পরে বাড়িওয়ালা নিয়ে যেত। এ ছাড়া বাসার দায়িত্বে ছিল আম্মু। বাসা ছেড়ে এখান থেকে যাওয়ার পর অন্তরকে আর কখনো আসতে দেখিনি।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, এক লোক ৪ জনকে খুন করতে পারে কী না তা নিয়ে আমরা সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। খুনের সঙ্গে আর কেউ আছে কি না বা কি কারণে করা হয়েছে, আশা করি তদন্ত শেষে প্রশাসন আমাদেরকে জানাবে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহীনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত কিশোরের ৭ দিন পর মৃত্যু

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত কিশোরের ৭ দিন পর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দোহা‌রে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত স্বাধীন নামে এক কিশোর সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যান। 

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিহত স্বাধীন (১৮) দোহার উপজেলার লটাখোলা নতুন বাজার এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী শুকুর আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন দোহার উপজেলার পোদ্দাবা‌ড়ি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন স্বাধীন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।