• ই-পেপার

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

দুই বাতি-এক ফ্যানের ঘরে বিদ্যুৎ বিল আড়াই কোটি টাকা

কেন্দুয়া(নেত্রকোনা)প্রতিনিধিঃ
দুই বাতি-এক ফ্যানের ঘরে বিদ্যুৎ বিল আড়াই কোটি টাকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের মিঠুর চক গ্রামের এক দরিদ্র নারীর ঘরে রয়েছে মাত্র দুটি বৈদ্যুতিক বাতি ও একটি ফ্যান। অথচ চলতি মাসে তার নামে এসেছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ১০৪ টাকার বিদ্যুৎ বিল। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার সুমা জানান, তাদের পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু এবার কোটি টাকার বিল হাতে পেয়ে তারা হতবাক হয়ে যান। পরে বুঝতে পারেন, এটি নিশ্চয়ই কোনো ভুল।

রবিবার (২৮ জুন) বিলটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। একটি দরিদ্র পরিবারের নামে কীভাবে এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এ ধরনের ভুল সাধারণ গ্রাহকদের অযথা হয়রানি ও মানসিক চাপের মুখে ফেলে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিল প্রস্তুতের আগে আরও সতর্ক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় জানায়, কম্পিউটারে তথ্য এন্ট্রির সময় সংখ্যাগত ভুল হওয়ায় এমন বিল তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরই বিল সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহককে প্রকৃত বিলই পরিশোধ করতে হবে।

হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, তথ্য ইনপুটের ভুলের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বিল সংশোধন করা হয়েছে। তাই গ্রাহকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা

তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ তদন্ত কমিটির
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তিনজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া তদন্ত শেষে সাতটি সুপারিশও করা হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, এসআই মনির এবং এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন নাঈম। পতেঙ্গা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে লালখান বাজার এলাকায় নেমে আরেকটি ফ্লাইওভারে ওঠার কথা ছিল তাঁর।

দুই ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশ তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন ও পরিবারের সদস্যদের চেষ্টায় থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় তাঁকে।

এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সদস্য রাসেল চৌধুরীকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপি লাইনে সংযুক্ত করা হয়। ডিবি পরিচয় দিয়ে নাঈমকে আঘাত করার অভিযোগে সোহেল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর খুলশী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় নাঈমের ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল, পুলিশ সদস্য রাসেল ও সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়।

ঘটনার পর সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত ১৮ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও পরে চার কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়।

পাবনায় পাপিয়া হত্যা : নিরপেক্ষ তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় পাপিয়া হত্যা : নিরপেক্ষ তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
সংগৃহীত ছবি

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামের গৃহবধূ মোছা. পাপিয়া খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। রবিবার (২৮ জুন) সকালে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে নিহতের স্বামী মো. হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, অভিযুক্তের একাধিক পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে পাপিয়া খাতুন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এতে আরো বলা হয়, ঘটনার আগে বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলোর সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনায় মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনার হেমায়েতপুর এলাকায় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকার একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কৌশলে মন্দিরে প্রবেশ করে ভক্তদের দানকৃত দানবাক্স ভেঙে ভেতরে থাকা সব টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পাবনা থানার অধীন হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. রাজিব হাসানের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। আশ্রমের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোরকে শনাক্ত করা হয়।

শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি মো. মৃদুল (২৫)। তিনি হেমায়েতপুরের বুদেরহাট এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে পাবনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকার কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল ইসলাম জানান,  গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চুরি হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।