উপমহাদেশের রাগ ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মহাসাধক সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’-এর ভূমি রক্ষার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বদলীয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তিকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সঙ্গীতাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন আকন্দ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, জেলা সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন এবং সঙ্গীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলমসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তায় পরিচালিত সঙ্গীতাঙ্গনের ৪৯ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এ প্রতিষ্ঠানের ভূমি কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া হবে না। ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে সঙ্গীতাঙ্গনের জমি রক্ষায় আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর এই সম্পত্তিকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ঘোষণা করে সংরক্ষণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৯৫৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন জেল রোড এলাকায় ৪৯ শতক জমিসহ বাড়িটি ক্রয় করেন। পরের বছর মৌখিক দানের মাধ্যমে সেখানে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ মিউজিক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’ রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতসহ শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।





