• ই-পেপার

টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ১১

গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোট, ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
গভীর সমুদ্রে বিকল ফিশিং বোট, ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার

সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোটসহ ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ২৫ জুন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাট থেকে ‘এফবি সামিহা’ নামের একটি ফিশিং বোট ১০ জন জেলেসহ মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যায়। সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম গভীর সমুদ্র এলাকায় বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে বোটটি সাগরে ভাসতে থাকে।

এ অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে বোটে থাকা এক জেলে মোবাইল ফোনে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিকল বোটসহ ১০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।

উদ্ধার শেষে ফিশিং বোট ও জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড জানায়, সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাসের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানসুরুল হক মনার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. তাজুল ইসলাম, জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিপন কুমার সূত্রধর এবং নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা কমিটি ‘তরী’র আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে নিরাপদ ট্রেনযাত্রা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা উল্লেখ করেন, গত ২২ জুন ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন। পরে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারেননি।

মানববন্ধন থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

ছাতকে কারখানার নর্দমা পরিষ্কারের সময় শ্রমিকের মৃত্যু

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে কারখানার নর্দমা পরিষ্কারের সময় শ্রমিকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আকিজ প্লাস্টিক কারখানায় নর্দমা পরিষ্কারের কাজের সময় মারা যাওয়া শ্রমিক সিরাজ মিয়া।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আকিজ প্লাস্টিক কারখানায় নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করতে গিয়ে সিরাজ মিয়া (৪৫) নামে এক  শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজ মিয়া উপজেলার গদার মহল গ্রামের সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সিরাজ মিয়া একাই নর্দমা ও ট্যাংক পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে নর্দমায় পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার সময় তার মাথা নর্দমার ভেতরে তলিয়ে যায় এবং দুই পা উপরের দিকে ছিল। কিছুক্ষণ পর সহকর্মীরা তাকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। ফ্যাক্টরির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণেও তাকে ট্যাংকের পাশে কাজ করতে দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়ে যান।

পরে কারখানার চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। এছাড়া পরিবারকে মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সিরাজ মিয়া কারখানায় ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নর্দমা বা ট্যাংক পরিষ্কার করা তার নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে ছিল না। তবুও তাকে ওই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয় এবং কর্মরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। 

এ বিষয়ে ছাতক সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পটিয়ার ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ার ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ার শিক্ষা খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বড়লিয়া শাহ ছৈয়দ আব্দুছালাম আউলিয়া (রা:) দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেস্ক-১) মো. মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত জারি করা স্মারকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজের অনুমোদিত তালিকায় এ তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ জুলাইের মধ্যে সরেজমিন জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন ঊঊউ জচগঝ এ আপলোড করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ভবনে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ সম্ভব, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এরপর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট কাটিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান আরো উন্নত হবে।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, ‘শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। পটিয়ার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত এই অর্থ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা পরিবেশের সুফল পাবে। আগামী দিনেও পটিয়ার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

মনসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আলম ফারুকী বলেন, ‘নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ অনেক উন্নত হবে। এটি প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় অর্জন।’

রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন ভবনের প্রয়োজন ছিল। সরকারের এই বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।’

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মঈনুল আলম ছোটন বলেন, ‘পটিয়ার শিক্ষা খাতে উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করেছিলেন এনামুল হক এমপি তার বাস্তব প্রতিফলন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমোদন প্রদান করায় এমপির প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে পটিয়ার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে যাবে। শিক্ষার উন্নয়নেই সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে পটিয়া। 

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের এ বিনিয়োগ শুধু ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপেরও দাবি জানান। এসব বরাদ্দের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পটিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং শিক্ষার উন্নয়নেই সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ার স্বপ্ন আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।