অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সবাই জিম্মি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ইউনূসের আঠারো মাসের শাসনে আমরা সবাই জিম্মি হয়ে গিয়েছিলাম। ওই সময় শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জয়কালী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফেনী শাখার আয়োজনে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেনি, ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সে সময় বাউলদের ওপর, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও মাজারে হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক, নারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, যা ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে আছে। এমনকি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদেরও সে সময় নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার শাসন যদি দীর্ঘায়িত হতো, তবে দেশটা পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত হতো।
বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্দেশে সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে ডিসি, এসপিসহ প্রশাসনে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হলেও সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে রাখা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা কি তবে ঘুরেফিরে আবার সেই ইউনূস সরকারের শাসনামলেই চলে যাচ্ছি?
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরালাল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অনিল নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালবেলা সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ডি এন চ্যাটার্জী, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছালাহ উদ্দিন মামুন, জেলা উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





