যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কম্পানিগুলোর বিপুল মুনাফার একটি অংশ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআই খাতের দ্রুত উত্থান এবং সম্ভাব্য বিপুল আয়ের সুফল যেন কেবল কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে লক্ষ্যেই নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা তিনটি প্রধান প্রস্তাব সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—এআই কম্পানিতে সরকারি মালিকানা অংশগ্রহণ, বিশেষ কর আরোপ এবং সরকারি অর্থায়নের বিনিময়ে শেয়ার নেওয়া।
এদিকে, ওপেন এআই এবং অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য গোপনে আবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা যায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, শেয়ারবাজারে এলে ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এআই খাতের আয় থেকে সাধারণ মানুষের অংশ নিশ্চিত করার উপায় খুঁজছে।
মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স প্রস্তাব করেছেন, বড় এআই কোম্পনিগুলোর ৫০ শতাংশ মালিকানা সরকারের হাতে থাকা উচিত। পাশাপাশি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেও সরকারি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। তার মতে, এতে জনগণ আর্থিক সুবিধা পাবে এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত ঠেকানো সহজ হবে।
আরেকটি প্রস্তাব অনুযায়ী, কম্পানিগুলো নগদ কর দেওয়ার পরিবর্তে সমপরিমাণ মূল্যের শেয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। এতে ধীরে ধীরে জনগণের মালিকানা বৃদ্ধি পাবে, অথচ সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া এআই অবকাঠামো ও চিপ উৎপাদনে সরকারি বিনিয়োগের বিনিময়ে মালিকানা অংশ নেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। এর আগে ইন্টেল-এর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি সহায়তার বিনিময়ে মালিকানা অংশ গ্রহণের নজির রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি বিকাশে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও সরকারের বিনিয়োগকারীর ভূমিকায় চলে যাওয়া স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এদিকে ওপেনএআই একটি ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই তহবিল বিভিন্ন এআই কম্পানিতে বিনিয়োগ করবে এবং সেখান থেকে অর্জিত মুনাফা দেশের নাগরিকদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক “ডিজিটাল ডিভিডেন্ড” ধারণা নিয়ে কাজ করছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, এআই কম্পানির কাছ থেকে আদায় করা করের অর্থ সরাসরি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাবেই পাঠানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা এ ধারণার তুলনা করেছেন আলাস্কা পার্মানেন্ট ফান্ড-এর সঙ্গে। সেখানে তেল থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ প্রতি বছর অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হয়। এখন একই মডেলে এআই খাতের আয় জনগণের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের তথ্য সরকারি, গবেষণা ও অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই এআই শিল্পের বিকাশ ঘটছে। ফলে এই খাতের আর্থিক সুফলের একটি অংশ সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছানো উচিত।




