• ই-পেপার

সন্ধ্যার মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা

লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

অনলাইন ডেস্ক
লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে যে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। 

এ লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ সম্ভব হলে রাজস্ব সংগ্রহও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাজেট এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় অনেক ছোট। অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। সে কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর সেই সক্ষমতা তৈরির অন্যতম ভিত্তি হবে এই প্রকল্প।

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার নির্ভুল হিসাব ও কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমান সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের সরকারি ক্রয় ও দরপত্র কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পরিসংখ্যানকে আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী করতে বিবিএসকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ের কাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা হবে। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, পরিকল্পনা বিভাগ এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও তথ্যভান্ডার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত কার্যকর হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে পারলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও (সচিব) মোঃ মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরী প্রমুখ।

৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা
সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। এটি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। 

রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গতকাল কয়েকটা অনলাইন মিডিয়া পোর্টালে আমার উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উপর্যুক্ত সংবাদের মিডিয়া ফ্রেমিং নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ফলে আমার যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি বলে মনে করি।

১. চিকিৎসা ব্যয়: বাংলাদেশে মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে যে কোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পেয়ে থাকেন।

২. বিদেশে চিকিৎসার নিয়ম: মন্ত্রীদের বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ: কোনো মন্ত্রী যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান, তবে প্রথমে দেশের একটি উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ডের চিকিৎসকেরা যদি প্রত্যয়ন করেন যে সংশ্লিষ্ট রোগের প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, কেবল তখনই বিদেশে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

সরকারপ্রধানের অনুমোদন: মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা উপদেষ্টার বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়।

বিল বা ভাউচার পেশ: বিদেশে চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফেরার পর খরচের প্রকৃত রসিদ, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যাচাই-বাছাই শেষে সেই বিল সরকারিভাবে পরিশোধ বা সমন্বয় করে।

৩. আমার অবস্থান: আমি মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে বিগত সরকারে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে দেশে ও বিদেশে আমার চিকিৎসা ব্যয় আইননুসারে সরকার বহন করবে।

৪. আমার শারীরিক অবস্থা: আমি দীর্ঘদিন যাবত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত। সেইসাথে হাই ডায়াবেটিস (দিনে তিনবার ইনসুলিন নিই), উচ্চ রক্তচাপ, ও নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছি। ২০১৫ সালে আমার হার্টে স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়। এ যাবত ৫ বার আমার এনজিওগ্রাম করা হয়। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হই এবং দেশের সরকারি মেডিকেল ও প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাগ্রহণ ও ডায়াগনোসিস করি। রিপোর্টে দেখা যায় আমার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত (Atrial Fibrillation / AFib)। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের বোর্ড গঠন করা হয়। লিখিতভাবে আমাকে জানানো হয় ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটা জটিল অপারেশন করা আবশ্যক এবং এই অপারেশন করার মতো অত্যাধুনিক লেটেস্ট মেশিন ও প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি দেশে নেই। ফলশ্রুতিতে আবুধাবিতে অবস্থিত একটি মার্কিন হাসপাতাল ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যারেথমিয়া বিশেষজ্ঞ ও সার্জন রয়েছেন।

৫. বিদেশে আমার চিকিৎসা ব্যয়: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আমি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাই। সেখানে আবারও আমার এনজিওগ্রাম করানো হয় এবং ডায়াগনোসিস করে অপারেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায় আমার হৃৎপিণ্ডের দেওয়ালে জমাট রক্তকণা লেগে আছে। চিকিৎসক জানালেন, প্রথমে চিকিৎসার মাধ্যমে এটা অপসারণ করতে হবে; এরপর অপারেশন। অপারেশন না করালে রক্তজমাট বেঁধে ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্টফেল করার আশঙ্কা আছে। এদিকে পবিত্র হজ্বের সময়ও নিকটবর্তী। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হজের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আমি দেশে ফিরে আসি। এটুকু পর্যন্ত আমার চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। যার প্রতিটা ব্যয়ের রশিদ ও ভাউচার আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।

৬. অপারেশন ব্যয়: পবিত্র হজ্বের দায়িত্ব পালন শেষে আবারও অসুস্থতা অনুভব করায় আমি দেশের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হই এবং তারা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ প্রদান করেন। বিগত জানুয়ারি মাসে আমার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বিল দিই প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যদিও বিল আরও বেশি আসে, কিন্তু থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। আমি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে কৃতজ্ঞ। এ সংক্রান্ত সমস্ত বিলের কপি আমি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে জমা করি। 

৭. সরকার কর্তৃক বিল প্রদান: আইনানুসারে সরকার কর্তৃক মন্ত্রী/উপদেষ্টার চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে। সরকার শুধুমাত্র আমার হাসপাতালের বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের ব্যয় বহন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমার পরিচর্যার জন্য সঙ্গে যাওয়া আমার সহযাত্রীর সমস্ত খরচ আমি বহন করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার হোটেলে বসবাসের বিল, খাওয়ার বিল, যাতায়াত খরচও ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছি। সরকার প্রদত্ত প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, ভাউচার, রিসিপ্ট আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যে কেউই চাইলে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ব্যয়ের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে পারবেন।

আমি উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এবং নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা তসরুপ করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। আইনমতে, যতটুকু আমার প্রাপ্য তাও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি। কিন্তু কিছু মিডিয়া বৈধ, নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ফ্রেমিং করছে যেন জনমানসের মনে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়। আমি এসব সংবাদ ও মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের তীব্র নিন্দা জানাই। আল্লাহ তা’আলা সবাইকে সহি বুঝ দান করুন।’

৮ জেলায় গরমের দাপট অব্যাহত থাকার আভাস

অনলাইন ডেস্ক
৮ জেলায় গরমের দাপট অব্যাহত থাকার আভাস

দেশের আট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং রাতে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।  

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

এতে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে ও রাতে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে বৃষ্টি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে— এমন অবস্থায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

শিল্প পার্কগুলোতে গ্যাস সংকট কাটাতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শিল্প পার্কগুলোতে গ্যাস সংকট কাটাতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত

দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্প পার্কগুলোতে গ্যাস সংকট কাটাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির।

আজ রবিবার (২৮ জুন) সকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা ভবনে আয়োজিত বিশ্ব এমএসএমই দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি গতিশীল, নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার আন্তরিক।

তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তাদের সংকট কাটাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম তৈরি হওয়ার ফলে দেশে আয় বৈষম্য তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।