শহীদ মিনারের পেছনে উদীয়মান সূর্যের যে লাল বৃত্ত দেখা যায় সেটি প্রথমদিকে ছিল না। স্বাধীনতার পর সেটি স্থাপন করা হয়। অনন্য এ কাজটি করেছেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।
একটি টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ভেঙে ফেলা শহীদ মিনার নতুন করে গড়া হল। এর পরের বছর আমি বলিয়ে যে আমি একা সাজাবো। অনেকে বলল, হাসপাতালের প্রাচীরটা উঁচু করে দিতে হবে। ওই দিকে হাসপাতালে নার্স-রোগীর স্বজনদের দেখা যায়। আমি বললাম- আমি একটা জিনিস করবো কোনো দিকে চোখ যাবে না। গোল্ডেন সেকশন দিয়ে আমি সাইজটা বের করলাম যাতে সূর্যটা কতো বড় হবে।’
মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, ‘সূর্যটা বানানো হল। হুলুস্থুল দেখা গেল। লাইট দেওয়ায় পর সেটি আরও ভালো দেখা গেলো। পরে সারা বাংলাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়ল। বাচ্চারা যে শহীদ মিনার বানাল তারা লালটা দেবেই। মানুষের মনে লাল সূর্যটা জায়গা করে নিল।’
তখনকার কর্মকর্তারা লাল বৃত্তটিকে স্থায়ীভাবে রাখতে বলেন। কিন্তু তিনি ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘বসন্তকালে নতুন ফুল ফোটে। সৌরভ ছড়িয়ে একসময় সেই ফুল ঝরে যায়। বছর শেষে আবার সজীবতা নিয়ে আসে নতুন ফুল। সে কারণে ফেব্রুয়ারি এলে আমরা শহীদ মিনারে লাল বৃত্তটি লাগাব। এটা বিবর্ণ হয়ে গেলে আবার নতুন বছরে নতুন লাল বৃত্ত লাগাব।’
তার এ প্রস্তাবও পরবর্তীতে গ্রহণ করা হয়। সে থেকে প্রতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে নতুন লাল বৃত্ত যুক্ত করা হয়। শহীদ মিনারের ‘লাল সূর্যে’ অমর হয়ে থাকবেন মুস্তাফা মনোয়ার।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এ শিল্পী আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।









