• ই-পেপার

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়তে চায় পুলিশ

নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ কিভাবে সবুজ ছায়া দিচ্ছে, সেই ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা ছোট সোনামণিদের গল্প আকারে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সারা দেশে একযোগে ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি নিজেই একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এই গল্প বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে একটি নিমগাছ রোপণ করলাম। এই নিমগাছ নিয়ে তোমাদের একটা সত্যিকারের ঘটনা বলি। তোমরা যারা ছোট বন্ধুরা আছো, তোমরা নিশ্চয়ই আরাফাতের ময়দানের নাম শুনেছ। এখন যদি তোমরা আরাফাতের ময়দানের ছবি দেখো, দেখবে সেখানে অনেক গাছ লাগানো আছে। সেই গাছগুলো কিন্তু সব নিমগাছ।

তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। ১৯৭৮ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আরাফাতের ময়দান দেখে তৎকালীন সৌদি বাদশাহকে বলেছিলেন, এই মাঠটি এত ফাঁকা কেন? এখানে গাছ লাগালে হজ করতে আসা হাজি সাহেবরা গরমে গাছের নিচে সুন্দরভাবে বসতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন সৌদি বাদশাহ বলেছিলেন, মরুভূমিতে তো কোনো গাছ হবে না, আমরা কী গাছ লাগাব? এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে বের করলেন যে সেখানে নিমগাছ বেঁচে থাকতে পারবে। পরে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ নিমগাছের চারা সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন।

সৌদি সরকার পরবর্তীতে সেই চারা থেকে কলম করে আজ আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আরাফাতের ময়দানে গেলে যে গাছগুলো দেখা যায়, তার সবই বাংলাদেশের নিমগাছ। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সৌদি আরবের মানুষ কিন্তু ওগুলোকে নিমগাছ বলে ডাকে না। ওটা তাদের কাছে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী

একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর মালিকানায় পুরনো মালিকদের ফেরত আসার সুযোগ রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এ যুক্ত করা ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সরকার এই ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে একীভূত হওয়া কোনো দুর্বল ব্যাংকের পূর্বতন মালিকরা পুনরায় মালিকানায় ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ পাবেন না।

ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’

এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিনেন্স' সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমানে পুনর্গঠিত সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ওপর সাবেক মালিকদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরে পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি হয়েছিল।

অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস
ফাইল ছবি

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলসহ একাধিক সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি চূড়ান্ত পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া অর্থবিল-২০২৬ এ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগবে না টিআইএন নম্বর।

এর আগে, বিলটির ওপর সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতি নিয়ে দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের আর্থিক প্রস্তাবগুলো কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধন করতে ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ সংসদে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব তোলেন।

বিলটি টেবিলে ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বিশাল ঘাটতি বাজেট, কর ও ভ্যাটের বোঝা, ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর থেকে ঋণের আশ্বাসের বাস্তবতার মতো নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিলটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।

সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনা ও প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে অর্থ বিলটি একাধিক সংশোধনীসহ চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

বিল পাসের পর বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি চরম দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনপ্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সব ধরনের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, সরকার এখন থেকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে বেসরকারি উদ্যোগ, নতুন উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানই হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে এবং মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

বাজেট নিয়ে দীর্ঘ ও গঠনমূলক আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মতামত জনগণের প্রত্যাশারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি নির্ভরযোগ্য রূপরেখা।

বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা, লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচার, বিনিময় হার নিয়ে কারসাজি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমান সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন। তবে কৃষি, শিল্প, সেবা ও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা এবং সরকারের শক্ত নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না, বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ পৃথক করা হচ্ছে এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত একক হারের ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকানগুলোকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে চলতি অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বর্তমানের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

পূর্ববর্তী সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যত্রতত্র ঋণের কারণে বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি নিম্ন পর্যায় থেকে মধ্যম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই বিশাল ঋণের আসল ও চড়া সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা বর্তমান সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই ঋণ নির্ভরতা কমাতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং বন্ড ও ইকুইটি ফাইনান্সিং সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে মোট ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ১৫ টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০ টির বেশি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

চীন থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক
চীন থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, জানতে চেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। 

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপরে আলোচনায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, যদি পেয়ে থাকে তাহলে তার পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, সে বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট করা উচিত।’

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কি কেবলমাত্র চাইতে গেছি ভিক্ষার ঝুলি হাতে?’, না। এমনটি কেউ আশা করেন না। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”

এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা স্বপ্ন দেখালেও বছরজুড়ে সেই স্বপ্নভঙ্গের পরিণতি জনগণকে ভোগ করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তবে শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত ঘাটতি আরো বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।’