• ই-পেপার

সারা দেশে হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা-শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবার মানোন্নয়নে নতুন আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা-শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবার মানোন্নয়নে নতুন আশা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার মা ও শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় পর্যায়ের লার্নিং প্রচার অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পুষ্টি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন) এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি ‘দ্য চার্চ অব জেসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেন্টস’-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক কনসোর্টিয়ামের অংশ, যা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, ভিটামিন অ্যাঞ্জেলস ও আইডিই-এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউএইচ উইং) শেখ মোমেনা মনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুদের জন্য কমিউনিটি পুষ্টিসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পুষ্টি তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দৃঢ় অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।’

এ ছাড়া তিনি দেশের পিছিয়ে থাকা ও প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যাবশ্যকীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পটির অবদানের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইপিএইচএনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস আলী দেশব্যাপী মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার পাশাপাশি কমিউনিটি-ভিত্তিক তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা (সিএমএএম) এবং শিশু ও নবজাতকের খাদ্যাভ্যাসসংক্রান্ত (আইওয়াইসিএফ) কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে টেকসই সহযোগিতার প্রয়োজনিয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রকল্পটি দেশের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা উন্নত করতে এবং মানসম্মত পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর পূজা পান্ডে রানা বলেন, ‘প্রকল্পটি স্থানীয় অংশীদার সিএনআরএস ও এফআইভিডিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে পুষ্টি-নির্দিষ্ট এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল উভয় ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তীব্র অপুষ্টি ইউনিটগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্তন্যপান করানোর কর্নার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মা ও ছোট শিশুদের জন্য আরো কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্জিত অগ্রগতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুদের কাছে পৌঁছাতে এবং অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশব্যাপী পুষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের অর্জিত শিক্ষা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা আরো উন্নত করতে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য এসব উদ্যোগকে আরো সম্প্রসারণের প্রয়োজনিয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

বর্তমানে সুনামগঞ্জ, বরিশাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাস্তবায়নাধীন ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ প্রকল্পটি দেখিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য একটি সুস্থ সূচনা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

চলতি বছরে হামের পর এবার বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে।

আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বাসিন্দা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩১৭ জনের। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোট শনাক্ত রোগীর মধ্যে চার হাজার ৯১৯ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ১১৯ জন ডেঙ্গু রোগী।

জুনেই বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু

মোট রোগীর মধ্যে চলতি মাসের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জুনে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ১২০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০ এবং মে মাসে ৭১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে জুন মাসেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। 
 

সমালোচনার মুখে স্ট্যাটাস মুছলেন ডা. শাফী

সাংবাদিকদের দিয়ে হাসপাতালের টয়লেট পরিষ্কার করাতে বললেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিকদের দিয়ে হাসপাতালের টয়লেট পরিষ্কার করাতে বললেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
সংগৃহীত ছবি

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর বাথরুম, টয়লেট ও ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব সাংবাদিকদের দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে কিছুক্ষণ পরই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

এদিকে সরকারি পদে থেকে একজন কর্মকর্তার এমন মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Shafi

বুধবার (২৪ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ডা. শাফী লেখেন, আন্ত মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীন সাংবাদিকদের বাংলাদেশের ৬০০ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেটসহ হাসপাতাল ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব অন্তত এক অর্থবছরের জন্য দেওয়া উচিত।

তিনি আরো লেখেন, সাংবাদিকরা যদি এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারেন, তাহলে তাদের স্থায়ীভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রের কাজ ও জনগণের কল্যাণে যে ভালো করতে পারবে, দায়িত্ব তার কাছেই দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী বলেন, ‘আমরা যেহেতু পারছি না, তাই এ ধরনের একটি আলোচনা হতে পারে কি না, সেই জায়গা থেকেই কথাটি বলেছি। হাসপাতালের বাথরুমগুলো কেন এমন অবস্থায় থাকে, সেটি কোথাও থেকে কেউ তুলে ধরছে না। সব দায় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে পরে তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সব দায় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভবনের সম্প্রসারণ হয় না, তীব্র জনবল সংকট রয়েছে, কিন্তু পুরো বিষয়টি না তুলে কেবল ডাক্তার ও ব্যবস্থাপকদের দায়ী করা হচ্ছে।’ সাংবাদিকরা পুরো তথ্য তুলে ধরছেন না বলে দাবি করেন তিনি। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘সরকারি পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি দায়িত্ব। এ ধরনের দায়িত্ব সাংবাদিকদের ওপর অর্পণের প্রস্তাব বা মন্তব্য সরকারি দায়িত্ব ও জবাবদিহির চরম লঙ্ঘন।’

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই অপরিচ্ছন্ন বাথরুম, নষ্ট স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ক্ষোভ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

বিএইচআরএফের তীব্র নিন্দা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই নিন্দা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাংবাদিকদের হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন ওই কর্মকর্তা, যা সাংবাদিক পেশার প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

বিএইচআরএফ মনে করে, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সেবার মানহানি ও রোগী ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সেবার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিক্রিয়ায় যে ধরনের বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন, তা শুধু সাংবাদিক সমাজকেই হেয়প্রতিপন্ন করেনি, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।

স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি এমন আচরণ করেছেন, যা দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংগঠনটি আরো উল্লেখ করে, গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। সাংবাদিকদের হেয় করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বিএইচআরএফ।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি সম্মানজনক ও পেশাদার অবস্থান নিশ্চিত করবে।

সাংবাদিকদের বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দিতে চান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা : বিএইচআরএফের তীব্র নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিকদের বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দিতে চান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা : বিএইচআরএফের তীব্র নিন্দা
সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)।

বুধবার (২৪ জুন) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাংবাদিকদের হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন ওই কর্মকর্তা, যা সাংবাদিক পেশার প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

বিএইচআরএফ মনে করে, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সেবার মানহানি ও রোগী ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সেবার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিক্রিয়ায় যে ধরনের বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেছেন, তা শুধু সাংবাদিক সমাজকেই হেয়প্রতিপন্ন করেনি, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি এমন আচরণ করেছেন, যা দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংগঠনটি আরো উল্লেখ করে, গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। সাংবাদিকদের হেয় করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বিএইচআরএফ। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি সম্মানজনক ও পেশাদার অবস্থান নিশ্চিত করবে।