বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘ধর্ষণ, বলাৎকার ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন একাডেমিক ভবনের ২০৬ নম্বর কক্ষে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনাসভার শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রাবি বসুন্ধরা শুভসংঘের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ এবং কার্যকরী সদস্য মিরা আক্তার।
আরিফ মাহমুদ বলেন, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন শুধু আইনি নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণসমাজকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে।
মিরা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; সমাজে সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশু নিরাপত্তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে।
আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক এবং সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস।
প্রধান আলোচক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয়, পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বিশেষ আলোচক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপরাধকে সামাজিকভাবে ঘৃণিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।
অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ গড়া সম্ভব।
সভায় বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিন টনিকের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভসংঘের সদস্যরা অংশ নেন। তারা বিষয়ভিত্তিক মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।











