লা লিগার পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক অফ-ফর্মের পুরো দায় যেন এসে পড়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের কাঁধে। ফরাসি এই তারকাকে নিয়ে চারদিকের এমন সমালোচনাকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘সীমা ছাড়ানো’ বলে মন্তব্য করেছেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিএসজি ফরোয়ার্ড দেম্বেলে তার সাবেক ক্লাব সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
২০২৪ সালে ফ্রি ট্রান্সফারে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন এমবাপ্পে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সমর্থকরা ঘরের মাঠেও তাকে দুয়ো দিতে ছাড়ছেন না। এমনকি ক্লাব থেকে তার বিদায় চেয়ে করা একটি অনলাইন পিটিশনে অবিশ্বাস্যভাবে লাখ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছে।
অথচ এই সময়ে এমবাপ্পের সাবেক ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) দুই দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে, অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদকে চেনা ছন্দের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
এমবাপ্পের ওপর চলমান এই মানসিক চাপ নিয়ে দেম্বেলে বলেন, ‘তাকে নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, তা অত্যন্ত অন্যায্য। কিলিয়ানকে নিয়ে কিছু মানুষ একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছে। ও একজন অসাধারণ খেলোয়াড় এবং মাঠের বাইরে ভীষণ ভালো একজন মানুষ। স্রেফ কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেই তাকে নিয়ে এত মাতামাতি। মানুষের উচিত তাকে এভাবে তাড়া করা বন্ধ করা।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে দেম্বেলে আরো বলেন, ‘সে জুতার ফিতা বাঁধল কি বাঁধল না, মোজা টেনে তুলল কি তুলল না—সেটা নিয়েও কথা হয়। এটা আসলেই বড্ড বেশি। দিনশেষে সে ও তো একটা মানুষ। ফ্রান্স দলের হয়ে সে আমাদের সাথে দারুণ খেলে, ও আমাদের একজন নেতা।’
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের। তার বিদায়ের পর ফ্রান্সের ডাগআউটে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ ও ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের আসার জোর গুঞ্জন রয়েছে।
এই বিষয়ে দেম্বেলে বলেন, ‘দেশম একজন অনন্যসাধারণ কোচ। ফরাসি জাতীয় দলের কোচদের ইতিহাসে তিনি চিরকাল কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন। তবে আমরা আশাবাদী, একদিন জিদানকে ফ্রান্সের বেঞ্চে স্বাগত জানাতে পারব। আমি নিশ্চিত, তিনি দায়িত্ব নিলে দারুণ কিছু করবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের হয়ে ফাইনালে গোল করেছিলেন দেম্বেলে। অন্যদিকে ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি এমবাপ্পের। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মাঠে নামছে ফরাসিরা। আগামী মঙ্গলবার সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান।




