• ই-পেপার

রাফিনিয়াকে নিয়ে দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল

বেলজিয়াম শিবিরে বড় ধাক্কা, ‘সবার আগে পরিবার’ জানালেন তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
বেলজিয়াম শিবিরে বড় ধাক্কা, ‘সবার আগে পরিবার’ জানালেন তারকা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল বেলজিয়াম শিবির। অসুস্থতার কারণে রোববার ইরানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না ম্যানচেস্টার সিটির তারকা উইঙ্গার জেরেমি ডোকুর। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচের আগের দিন ডাচদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

ইএসপিএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন ডোকু। তবে শিষ্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খুব বেশি মুখ খোলেননি বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া। 

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দোভাষীর সহায়তায় তিনি বলেন, ‘সে খেলতে পারছে না, তাই তাকে ছাড়াই আমাদের মাঠে নামতে হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম যে সে থাকছে না।’

খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ গার্সিয়া। তার সাফ কথা, ‘শতভাগ মেডিকেল ক্লিয়ারেন্স না থাকলে আমি কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর পক্ষপাতী নই। শারীরিক ঘাটতি থাকলেও খেলা যায়, কিন্তু চিকিৎসাগতভাবে পুরোপুরি ফিট থাকাটা জরুরি। তবে আমি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের দল ভালো করবে এবং কালকের ম্যাচে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।’

এর আগে মিশরের বিপক্ষে বেলজিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন এই উইঙ্গার, খেলেছিলেন ৮৬ মিনিট পর্যন্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের সপ্তাহেও অনুশীলনের মাঝে শ্বাসকষ্টের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। কোচ অবশ্য জানালেন, ‘মিশরের বিপক্ষে ও ঠিকঠাকই খেলেছিল। কিন্তু এরপরই সমস্যাটা আবার বাড়ে। জীবনের মতো শরীর বা পারফরম্যান্সেও চড়াই-উতরাই থাকে। তাই মেডিকেল টিমই তাকে বিশ্রামে রেখে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মাঠের সমস্যার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও অবশ্য আলোচনায় আছেন ডোকু। আগামী জুলাইয়ের শুরুতে, অর্থাৎ নকআউট পর্বের সময় তার প্রথম সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা রয়েছে স্ত্রীর। সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে প্রয়োজনে বিশ্বকাপ ছেড়েই চলে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন এই উইঙ্গার।

ডোকুর জায়গায় একাদশে কে আসছেন, তা খোলসা না করলেও স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে গত মৌসুমে নাপোলির হয়ে প্রায় পুরোটা সময় মাঠের বাইরে থাকা ৩৩ বছর বয়সী এই তারকাকে এখনই শুরুর একাদশে ভাবছেন না গার্সিয়া। ইরানের বিপক্ষেও তিনি থাকছেন বদলি বেঞ্চেই। 

মেসির বার্সা-ফেরার স্বপ্ন আবার জাগছে, তবে...

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির বার্সা-ফেরার স্বপ্ন আবার জাগছে, তবে...
ছবি : রয়টার্স

লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই চলেছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আবারও প্রমাণ করেছেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। ৩৮ বছর বয়সেও তার পারফরম্যান্স বিস্মিত করছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।

বিশ্বকাপে ওই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন। ১৬ গোল নিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে, পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে।

মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার ইউরোপে ফেরার সম্ভাবনা। তবে বাস্তবতা হলো, তিনি আর ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে ফিরছেন না। কয়েক মাস আগে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে নিজের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

তবু বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য সুখবর হতে পারে অন্য একটি সম্ভাবনা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘টোটাল সকার’-এর দাবি, ভবিষ্যতে আবারও বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা যেতে পারে মেসিকে, যদিও তা হবে শুধু একটি বিদায়ী সম্মাননা ম্যাচে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনা ও ইন্টার মায়ামি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী ‘হোয়ান গ্যাম্পার ট্রফি’কে কেন্দ্র করে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথমে চলতি বছর ম্যাচটি আয়োজনের চিন্তা থাকলেও এখন ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে নতুনভাবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়া স্পোর্টিফাই ক্যাম্প ন্যূ’তে এই আয়োজন হতে পারে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ম্যাচটি শুধু নতুন ক্যাম্প ন্যুর উদ্বোধনী উৎসবই হবে না, বরং বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক বিদায়ী অনুষ্ঠানও হবে। এমনকি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই ম্যাচে মেসি দুই দলের জার্সিতেই কিছু সময় খেলতে পারেন।

২০২১ সালে অশ্রুসিক্ত বিদায়ের পর যে বিদায়ি সংবর্ধনা তিনি পাননি, অবশেষে সেটিই হয়তো পেতে যাচ্ছেন বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা।

আর্জেন্টিনাকে হারানোর ছক কষছে অস্ট্রিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে হারানোর ছক কষছে অস্ট্রিয়া
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত অস্ট্রিয়া। ডালাসে সোমবারের (২২ জুন) গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ‘জে’ ম্যাচকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী রাল্ফ রাংনিকের শিষ্যরা। যদিও প্রতিপক্ষ দলে রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, তবু নিজেদের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রাখছে ইউরোপের দলটি।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। অন্যদিকে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রিয়াও। ফলে দুই দলের লড়াইকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা।

অস্ট্রিয়ার অন্যতম তারকা কনরাড লাইমার প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান দিলেও হার মানার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে রাজি নন। ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তাই তারাই বর্তমানে বিশ্বের সেরা দল। আর মেসি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।’

তবে এই ম্যাচকে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ হিসেবেও দেখছেন বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, ‘তার (মেসি) মতো মাপের ফুটবলারের মুখোমুখি হওয়া এবং নিজেদের শক্তি যাচাই করা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার। কারণ এতে বোঝা যায় আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।’

আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা অনেক মানসম্পন্ন এবং বিশেষ একটি দল। অবশ্যই আমরা আমাদের সামর্থ্য দেখাতে চাই। তবে গ্রুপ পর্ব পার হতে হলে বাকি দুই ম্যাচও আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

কোচ রাল্ফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি দলগত ঐক্য বলেও মনে করেন লাইমার। তার ভাষায়, ‘আমাদের এই দলের মূল শক্তি হলো আমরা সত্যিকারের একটি দল। সবাই জাতীয় দলের হয়ে জিততে চায় এবং ভালো ফুটবল খেলতে চায়, যা মাঠে স্পষ্ট দেখা যায়। আমরা এখন দারুণ ছন্দে আছি।’

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জানে, এই ম্যাচে জয় পেলে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে শেষ ৩২-এর টিকিট। মেসির হ্যাটট্রিকের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে অস্ট্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শুধু ম্যাচ খেলতে নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে অঘটন ঘটাতেই মাঠে নামবে।

মহাকাশে বিশ্বকাপের বল! ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে গবেষণায় নাসা

ক্রীড়া ডেস্ক
মহাকাশে বিশ্বকাপের বল! ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে গবেষণায় নাসা
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ এবার পৌঁছে গেছে মহাকাশে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ বলটি নিয়ে বিশেষ পরীক্ষা চালিয়েছেন নভোচারীরা। ফুটবল প্রযুক্তি ও বলের গতিবিধি সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পেতেই এই গবেষণা পরিচালনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

শনিবার (২০২ জুন) নাসা জানায়, আইএসএসে অবস্থানরত নভোচারীরা অ্যাডিডাস নির্মিত ট্রিওন্ডা বল ব্যবহার করে মাইক্রোগ্রাভিটিতে বলের ভারসাম্য ও ভরকেন্দ্র কীভাবে এর গতিপথকে প্রভাবিত করে, তা পরীক্ষা করেছেন। এর মাধ্যমে ২০১৯ সালের একটি গবেষণার পুনরাবৃত্তি করা হয়।

নাসা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল মহাকাশে গেছে। ক্রীড়া প্রকৌশলীরা একটি ফুটবলের ভরকেন্দ্র ও ভারসাম্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করেন, যাতে ম্যাচ চলাকালে বলের গতিবিধি আরো নির্ভুল ও পূর্বানুমানযোগ্য হয়।’

গবেষণায় দেখা হয়েছে, বলের ভারসাম্যের সামান্য পরিবর্তনও এর চলাচলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বলের ভেতরে থাকা আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি মাঠের পারফরম্যান্সে কী ভূমিকা রাখে, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য অ্যাডিডাসের তৈরি ট্রিওন্ডা বলটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। এতে সংযুক্ত ৫০০ হার্টজ গতির একটি মোশন সেন্সর ম্যাচ চলাকালে বলের অবস্থান ও গতিবিধির তথ্য সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠাতে পারে। ফলে অফসাইডসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে রেফারিদের সহায়তা করে এই প্রযুক্তি।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রিওন্ডা’ নামটি এসেছে স্প্যানিশ ভাষার ‘তিন তরঙ্গ’ ধারণা থেকে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ঐক্যের প্রতীক। বলটির নকশায়ও তিন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে।