বয়স এখনো ১৬ হয়নি। চেহারায় নিষ্পাপ সারল্য। কিন্তু এরই মধ্যে ভেঙে চলেছেন একের পর এক ব্যাটিং রেকর্ড। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট, আইপিএল, ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর—সর্বত্রই বৈভবের ব্যাটে যেন ভর করে টর্নেডো।
এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে এবার তিনি ডাক পেয়েছেন ভারতের মূল ক্রিকেট দলে। ডাকটা একটু আগেই পেয়েছেন, আগে মানে বেশি আগে। ভারতের আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফরে অভিষেক হলে বৈভব ভারতের ক্রিকেট ‘দেবতা’ শচিন টেন্ডুলকারের ৩৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে কম বয়সী ভারতীয় ক্রিকেটার বনে যাবেন।
অল্প বয়সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তো দিনের পর দিনের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেনই। এবার ভিন্ন কারণে আলোচনায় বৈভব। এটাও অবশ্য বয়সের কারণেই। বলা যায় বয়স বিড়ম্বনা। বয়স নিয়ে মজার বিড়ম্বনা অবশ্য আগেও হয়েছে তার। গাড়ি চালানোর বয়স না হলেও তার গ্যারেজে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, যেগুলো তিনি উপহার পেয়েছেন। তবে এবারের বিড়ম্বনাটি একটু ভিন্ন। আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফরকালে বৈভবকে আলাদা চেঞ্জিং রুম ব্যবহার করতে হবে।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ১৬ বছরের কমবয়সীদের নাবালক (মাইনর) হিসেবে বিবেচনা করে। আর নাবালকদের সুরক্ষা ও গোপনিয়তা নিশ্চিত করতে রয়েছে তাদের কঠোর আইন। ইসিবির শিশু সুরক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী সূর্যবংশী বড়দের সাথে চেঞ্জিং রুম শেয়ার করতে পারবেন না। ম্যাচ পূর্ববর্তী ওয়ার্ম-আপ, কৌশলগত আলোচনা, দলীয় মিটিং এবং সাধারণ ম্যাচের দিনের পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য সূর্যবংশী মূল ড্রেসিংরুমে থাকতে পারবেন। তবে পোশাক পরিবর্তন এবং শাওয়ার নেয়ার সময় তাকে অবশ্যই আলাদা রুম ব্যবহার করতে হবে। এই আইনের প্রয়োগ করতে ভারতীয় দলের জন্য তিনটি আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে আয়োজকদের।
একটি সবার জন্য কমন ড্রেসিং রুম। আরেকটি সিনিয়রদের পোশাক বদলানো ও শাওয়ারের জন্য। আরেকটি বৈভবের জন্য আলাদা। তবে কোনো ভেন্যুতে তিন রুমের ব্যবস্থা করতে না পারলে বৈভবকে পোশাক বদলানো ও শাওয়ারের কাজটি দলের অন্য সদস্যরা আসার আগেই সেরে ফেলতে হবে।
ভারতের কেউ কেউ এই নিয়মের কথা শুনে অবাক হলেও ইংল্যান্ডে দুই দশক ধরে সব ধরনের খেলাধুলায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কঠোরভাবে মানা হয়। যেহেতু এটি একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, আইসিসির কোনো ইভেন্ট নয়; তাই এই নীতিমালার ব্যাপারে আইসিসিরও কিছু করার নেই।
আলাদা চেঞ্জিং রুম ব্যবহার করতে হলে বৈভব একাকিত্বে ভূগবেন কিনা, এ নিয়ে কারো কারো শঙ্কা ছিল। তবে বৈভবের বাবা-মা সফরে দলের সাথে থাকবেন বলে বৈভবকে একাকিত্বে ভুগতে হবে না। কারণ শিশু সুরক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, নাবালকের পোশাক বদলানোর সময় বাবা-মা সেই রুমে থাকতে পারেন। বয়স বিবেচনীয বৈভবের দেখভাল করার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাদের খরচে তার বাবা-মাকে সফরে যাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। তারা টিম হোটেলে থাকবেন।
আগামীকাল শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ভারতের আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর। এই সফরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে তারা। আর ইংল্যান্ড সফরে আছে ৫টি টি-টোয়েন্টি এবং ৩টি একদিনের ম্যাচ।
বৈভব যার রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছেন, সেই শচিন টেন্ডুলকারও তার প্রথম ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে বয়স বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন। ১৯৯০ সালের ১৪ আগস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি (১১৯ রান) করে ভারতকে নিশ্চিত হারের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী শচিন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হিসেবে তাকে ঐতিহ্যবাহী ম্যাগনাম শ্যাম্পেইনের একটি বোতল উপহার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডের আইনে ১৮ বছরের নিচে কারো অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ। তাই উপহার পেয়েও শচিন মাঠে বোতলটি খোলার বা পানের অনুমতি পাননি।
শচিন সেই না-খোলা শ্যাম্পেইনের বোতলটি সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন। ৮ বছর পর মেয়ে সারা টেন্ডুলকারের প্রথম জন্মদিন তিনি সেই বিশেষ শ্যাম্পেইন দিয়েই উদযাপন করেছিলেন।