• ই-পেপার

ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা

‘এই আজেন্টিনা দলকে হারানো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এই আজেন্টিনা দলকে হারানো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন’

বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে জর্দানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ডালাসে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ডালাসে পৌঁছে গেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকার লিওনেল মেসির ভূয়সী প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ তারকা নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।

ম্যাচের আগে সংবাদে সম্মেলনে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো বলেন, মেসি বর্তমানে কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও আরো দুর্দান্ত খেলছেন। 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আর্জেন্টিনা দল প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফুটবল খেলছে। যেখানে কোনো খেলোয়াড়ই গা ভাসিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান না। এই অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সবাইকে সেরাটা দিতে বাধ্য করে’।

তাগলিয়াফিকো বলেন, ‘দলে আসা প্রতিটি খেলোয়াড়ই সতীর্থদের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে চান। একই মানসিকতার ১৫-২০ জন খেলোয়াড় যখন একসঙ্গে হন, তখন প্রতিপক্ষের জন্য তাদের হারানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে যোগ করেন এই ডিফেন্ডার।’

মেসিকে দলের প্রধান পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দলের সবাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের অধিনায়ককে সমর্থন দিয়ে যাবেন যাতে কাতার বিশ্বকাপের মতো আবারও স্মরণীয় কিছু করা যায়।

জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচের সংখ্যা গণনা করার চেয়ে প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমকে তিনি এগিয়ে রাখেন। অতীত দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে অত্যন্ত গর্ব অনুভব করেন এই রাইটব্যাক।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে খেলাকে অত্যন্ত বিশেষ অনুভূতি বলে বর্ণনা করেছেন। টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতা একটি 'স্বপ্ন' হলেও তারা বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চান বলে যোগ করেন তিনি।

২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে
২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সতীর্থ হয়ে খেলতে চান ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ছবি : এক্স থেকে

আজন্ম স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বর্তমানে বিশ্বকাপে মজে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়স ৪১ হওয়ায় সোনালি ট্রফি ছোঁয়ার এটা শেষ সুযোগ বলে অনেকে মনে করছেন। 

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ নাও হতে পারে। পরের বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে পারেন। এমন ইঙ্গিতই ‘সিআর সেভেনের’ কণ্ঠে।

বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের বিপরীতে আরেকটি স্বপ্ন দেখছেন রোনালদো। তার চাওয়া, ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলবেন তিনি। এমন ইচ্ছের কথা অনেকবারই সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। 

ছেলেকে তো অবশ্যই বলেছেন। তা না হলে কি আর রোনালদোকে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। তা কি বলেছেন তার ছেলে চলুন শুনি রোনালদের মুখেই। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র সবসময় আমাকে বলে খেলা চালিয়ে যাও। যেন ২০৩০ বিশ্বকাপে আমরা সতীর্থ হতে পারি।’

বাবার স্বপ্নপূরণে সঠিক পথেই আছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রও। ১৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বাবার মতো গতির সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়েও দুর্দান্ত। লেফট উইঙ্গার হলেও ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র আক্রমণভাগের যেকোনো জায়গায় মানিয়ে নিতে সক্ষম।

তার প্রমাণ ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে তিনটি শিরোপা। এর মধ্যে ভ্লাতকো মাকোভিচ টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলও করে। এদিকে বাবার সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৬ গোলও করা হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আছে ১৫টি অ্যাসিস্টও। সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে নিয়মিত গোলও করে যাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র।

তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই সম্প্রতি সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল উইয়াম’ জানিয়েছে, রোনালদোর বড় ছেলেকে ২০২৬-২৭ মৌসুমে মূল দলের অনুশীলনে যুক্ত করতে পারে আল নাসর। সংবাদ সত্যি হলে ছেলের সঙ্গে নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন ‘সিউউউ’ হয়তো হাতছোঁয়া দূরত্বেই থাকবে।

আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক
মিসরের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও না পাওয়ার হতাশা ফুটে উঠেছে ইরানের অধিনায়ক তারেমির চোখেমুখে। ছবি : রয়টার্স

শুধু মাঠের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, বাইরেও লড়তে হচ্ছে ইরানকে। কাগজে-কলমে সবার জন্য নিয়ম একই থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে আলাদা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাই হয়ে আসছে।

অন্যরা নিজেদের ম্যাচের ভেন্যুর কাছাকাছি ক্যাম্প করার সুযোগ পেলেও ইরানকে ম্যাচ খেলতে হয় অন্য দেশ থেকে এসে। ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষ হতেই তাদের ফিরতে হয় মেক্সিকোয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে দলের অনেকে আবার পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও। সবকিছু মিলে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। 

মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে তাই ক্ষোভই ঝারলেন ইরানের অধিনায়ক মেহদী তারেমি। তার মতে, ইরানের সঙ্গে ফিফা অন্যায় করছে। টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বাদ পড়া যেন দেখতে চায় আয়োজকরা।

ইরারের ভোগান্তি নিয়ে তারেমি বলেছেন, ‘জঘন্য একটা বিশ্বকাপ। সব সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল  ফিফার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর আমাদের ড্রেসিং রুমে এসে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, সব সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ফিফা কিছুই করেনি। অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।’

ইরানের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে জানিয়েছে তারেমি বলেছেন, ‘এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি টুর্নামেন্ট থেকে আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়, তাহলে ঠিক আছে। আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। লজিস্টিক সমর্থন দেওয়ার মতো এখানে কেউ নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’

ইরান বিশ্বকাপে থাকুক এমনটা চায় কিনা জানতে চাওয়া হলে তারেমি বলেন, ‘এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। মানুষ কি চায়, জানি না। তবে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মনে হয় হ্যাঁ, তারা এরকমই চাচ্ছে। তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায়ায় আমাদের ফিরে যেতে হবে কেন?’

সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করা ইরান এখন নকআউটে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরাদের তালিকায় ৬ নম্বরে আছে। শেষ ৩২ এ সুযোগ পাবে কিনা তা আজই জানা যাবে। কেননা তাদের নকআউট ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য ম্যাচগুলোর ওপরে। অবশ্য আজ মিসরের বিপক্ষে জিতলেই সরাসরি সুযোগ পেত ইরান। শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানও করেছিল তারা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তাদের গোলটি।

কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসালেন শ্রেয়াস

ক্রীড়া ডেস্ক
কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসালেন শ্রেয়াস

ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচ হেরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। বেলফাস্টে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে ম্যাচে হেরে সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩৪ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নেয় আইরিশরা।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হারের ফলে শ্রেয়াস আইয়ার ভারতের ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেক নেতৃত্বেই ম্যাচ হারার তিক্ত স্বাদ পেলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। খবর এবিপি

বেশির ভাগ ভারতীয় অধিনায়কই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দায়িত্ব পাওয়ার পর জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। বীরেন্দ্র শেবাগ, এম এস ধোনি, রোহিত শর্মা এবং এমনকি আয়ারের ঠিক আগের পূর্বসূরি সূর্যকুমার যাদবের মতো কিংবদন্তিরাও জয় দিয়ে তাদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু করেছিলেন।

তবে বেলফাস্টের এই ধাক্কার ফলে আয়ার একটি বিশেষ, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যানগত ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে হার দিয়ে যাত্রা শুরু করে অধিনায়করা হলেন বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত,  শুভমান গিল  এবং সর্বশেস শ্রেয়াস আইয়ার (সর্বশেষ অন্তর্ভুক্ত)।

অভিজ্ঞতার বিচারে টি-টোয়েন্টিতে আইয়ারের ওপর ব্যাপকভাবে ভরসা রেখেছিলেন নির্বাচকরা। কারণ ১ বছর বয়সে তিনি শিখর ধাওয়ান এবং সূর্যকুমার যাদবের পরেই তৃতীয়-বয়স্ক ভারতীয় অভিষেককারী অধিনায়ক হিসেবে এই দায়িত্বে আসেন।

এ ছাড়া টসের জন্য মাঠে নামার আগে আইয়ারের ঝুলিতে ছিল রেকর্ড সৃষ্টিকারী ১১৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। যা দিয়ে তিনি অধিনায়কত্বের আগে রোহিত শর্মার খেলা ৮০ ম্যাচের পূর্ববর্তী মাইলফলককে ছাড়িয়ে যান।