কলকাতার রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন এক অস্ট্রেলিয়ান পর্যটক। মার্কো রোমস নামের অস্ট্রেলিয়ান পর্যটক তার ইনস্টাগ্রামে অস্বস্তিকর সে ঘটনার ভিডিও পোস্ট করেছেন। মুহূর্তেই ভাইরাল সেই ভিডিও। সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার।
ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ান যুবক মার্কো কলকাতার একটি ঘিঞ্জি এলাকায় হেঁটে যাচ্ছেন। তাকে দেখেই বন্ধুদের সঙ্গে রিকশায় বসে থাকা এক তরুণ এগিয়ে আসে। পর্যটকের দিকে নিজের গাল বাড়িয়ে দিয়ে সেখানে আঙুল দিয়ে বলছিল, ‘আমাকে চুমু দাও, এখানে চুমু দাও।’ এই আবদারে স্পষ্টতই বিব্রত অস্ট্রেলিয়ান বলতে থাকেন, ‘দুঃখিত, আমি তোমাকে চুমু দেব না। আমি সমকামী নই, আমি স্ট্রেইট।’
কিন্তু তাতেও নিবৃত হয়নি সেই তরুণ। সে চুমুর জন্য বারবার ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে, ‘একটা চুমু দাও।’ মার্কো এগিয়ে যেতে চাইলে এক পর্যায়ে সেই তরুণ হাত ধরে তাকে থামানোর চেষ্টা করে। কোনোরকমে সেখান থেকে রক্ষা পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া পর্যটককে বলতে শোনা যায়, ‘হায়! আমার চেয়ে কম বয়সী একটা ছেলের হাতে আমাকে চরম হেনস্তার শিকার হতে হলো।’ ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ভারতীয় ছেলেরা কেন সব সময় চায় আপনি তাদের চুমু দিন?’
ইনস্টাগ্রামে শেয়ারের পর নেটিজেনদের দৃষ্টি কাড়ে ভিডিওটি। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, সাড়ে ৮ লাখেরও বেশি ভিডিওটি দেখেছেন, মন্তব্য করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। বেশিরভাগ মানুষই কলকাতার তরুণটির আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন, লজ্জিত হওয়ার কথা বলেছেন। অনেকে পর্যটকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে, তরুণটিকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ ভারতীয়রাও এড়িয়ে চলে, এমন ঘিঞ্জি এলাকায় কেন গেলেন সেই পর্যটক। একজন লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় আপনি ভুল ভারতে এসে পড়েছেন।’
একজন লিখেছেন, ‘ভারতের ভালো জায়গাগুলোতে যাওয়ার পরিবর্তে, আপনারা কেবল কনটেন্টের ভিউ পাওয়ার জন্য ইচ্ছে করেই এই ধরনের ঘিঞ্জি এলাকায় যান, তারপর অদ্ভুত ক্যাপশন দিয়ে রিল আপলোড করেন।’ আরেকজনের ক্ষোভ আরো বেশি, ‘আপনার যদি ভারতের আসল পর্যটন এলাকায় যাওয়ার সামর্থ্য না থাকে, তবে কনটেন্ট আর ভিউর জন্য যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানোর পর ভারতের দোষ দেবেন না।’
ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা যাই বলুন, একজন পর্যটকের যে কোনো জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। তিনি যাতে ভারতের যে কোনো স্থানে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে ঘুরতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কলকাতার এই তরুণের আচরণ ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।




