• ই-পেপার

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩

এক সংস্কৃতির বিতর্কে উত্তাল অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি

শিপন আহমদ (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
এক সংস্কৃতির বিতর্কে উত্তাল অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি
পলিন হ্যানসন

বহুসংস্কৃতিবাদ নাকি একক সাংস্কৃতিক পরিচয়—এই প্রশ্নে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি। ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকার, ধর্মীয় সংগঠন ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্বের অন্যতম বহুসংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রশ্ন। সরকার, বিরোধী দল, ধর্মীয় সংগঠন এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, গত ১৭ জুন ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া ভাষণে পলিন হ্যানসন বলেন, অস্ট্রেলিয়া বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ হলেও সাংস্কৃতিকভাবে ‘এক ছাতার নিচে’ থাকা উচিত। তার এ বক্তব্য ঘিরেই দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বহুসংস্কৃতিবাদকে ‘ব্যর্থ নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ার জন্য একক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে অভিবাসন কমানো, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস বিলুপ্ত করা এবং সম্প্রচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

হ্যানসনের দাবি, অস্ট্রেলিয়া বহু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের আবাসভূমি হলেও সাংস্কৃতিকভাবে একটি অভিন্ন পরিচয় থাকা প্রয়োজন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত বহুসংস্কৃতিবাদ নীতি সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে এবং জাতীয় মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতিকে সমানভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাষণে তিনি অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে উচ্চ অভিবাসন প্রবাহ আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে হ্যানসনের বক্তব্যের পরপরই এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত।

তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি দেশের মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাই অস্ট্রেলিয়ার অগ্রগতির ভিত্তি।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও ওয়ান নেশনের প্রস্তাবগুলোর বাস্তবতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল এক বিবৃতিতে হ্যানসনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য অভিবাসী বা মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার সমাজ, অর্থনীতি ও ইতিহাসের অংশ এবং কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর।

সংগঠনটি আরো বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার, পারস্পরিক সম্মান এবং বহুসংস্কৃতিবাদ আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভিত্তি। এসব মূল্যবোধ দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। 

হ্যানসনের ভাষণ চলাকালে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের ভেতরেও প্রতিবাদ দেখা যায়। একদল কর্মী ব্যানার প্রদর্শন করে তার নীতির বিরোধিতা করেন। পরে কর্তৃপক্ষ ব্যানারটি সরিয়ে দেয় এবং ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠানোর কথা জানায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পলিন হ্যানসনের বক্তব্য শুধু অভিবাসন নীতিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করেনি বরং অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিচয়, সামাজিক কাঠামো এবং বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক আগামী মাসগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মুহুর্মুহু হামলা

লেবানন ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
লেবানন ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি ভয়াবহ বিমান হামলার পর নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে হাজারো বেসামরিক মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করেছে।

সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার টাইর ও সাইদা শহরের মধ্যবর্তী কাসমিয়েহ সেতু দিয়ে হাজারো লেবানিজ নাগরিক উত্তরাঞ্চলের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। 

এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, কারণ পরিবারগুলো সম্ভাব্য আরো হামলার আশঙ্কায় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের নেতাদের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা হলেও দক্ষিণ লেবাননে সহিংসতা থামেনি। বরং সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং স্থিতিশীলতার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও তাদের কয়েকজন সেনা সদস্য হতাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে নতুন মানবিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবু সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কাঠামোর আওতায় লেবানন থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত নয় এবং আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের থাকছে।

ইরান চুক্তির জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন হতাশ ট্রাম্প : মোজতবা খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
ইরান চুক্তির জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন হতাশ ট্রাম্প : মোজতবা খামেনি
ছবি : রয়টার্স

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একদিন পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম এই বিবৃতি দেন। 

বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বলেন, ‘মার্কিন নেতা (ট্রাম্প) একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়েছিলেন এবং এই চুক্তি করতে তিনি ‘সব ধরনের চাপ’ দিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দেওয়া নিজের প্রথম বিবৃতিতে মোজতবা ইরানের জনগণকে বলেন, তিনি প্রাথমিকভাবে ‘নীতিগত কারণে’ চুক্তিটির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার’ আশ্বাস পাওয়ার পর অবশেষে এতে অনুমোদন দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে অবশ্যই মার্কিন প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন।’

গতকাল ১৮ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর করার পর, উভয় নেতা ভার্চুয়ালি এই দলিলে স্বাক্ষর করেন।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি মেনে না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। 

মোজতবার লিখিত বিবৃতিতে চুক্তি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি বিরল চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি আরো জানান, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, মার্কিন পক্ষ যদি অতিরিক্ত দাবি তোলে, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না।’ তিনি চুক্তিকে সমর্থন করে বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের এই আলোচনার অর্থ কোনোভাবেই শত্রুপক্ষের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খামেনির বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তিনি বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী আলোচনা পর্যায়ে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুসরণ করবে এবং দেশের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে

চুক্তির প্রথম বাস্তব প্রভাবগুলো দেখা দিতে শুরু করার সময়ই মোজতবার এই মন্তব্য আসে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির চারপাশে সামুদ্রিক অবরোধ সংক্রান্ত সব অভিযান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এখন আর ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

এদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে দ্রুত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রণালি ব্যবহার ফি মওকুফ করা হবে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই চুক্তি একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো, চূড়ান্ত সমাধান নয়। এতে দুই পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
 

ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : মার্কিন মেরিন কর্পস

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করতে দুই দেশ চুক্তি স্বাক্ষর করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কিছু মার্কিন জাহাজ ওই এলাকায় থাকবে।

এর কিছুক্ষণ পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানান, ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা করবেন, এ আশ্বাস দেওয়ার পর তিনি চুক্তিটি অনুমোদন দেন।

খামেনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হতাশা থেকে চুক্তি করতে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি আরো জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হলেও তা শত্রুপক্ষের শর্ত মেনে নেওয়া বোঝাবে না। চুক্তি নিয়ে এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া। 

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চে তিনি দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে। ওই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত করে।

এদিকে ট্রাম্প সরাসরি খামেনির বক্তব্যের জবাব না দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তিনি আশা করেন ইসরায়েল ও লেবাননে হিজবুল্লাহর মধ্যকার আলোচনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আলোচনার অগ্রগতি বজায় রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এমন শর্ত। এ ছাড়া দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার (২২৭ বিলিয়ন পাউন্ড) তহবিলের প্রতিশ্রুতি, যদিও এই অর্থ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, দুই পক্ষকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়। 

এদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তিটি আগেই দূর থেকে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এখন আরো আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন না। তবে ভ্যান্স আগে বলেছিলেন, চুক্তি কার্যকর হয়েছে এবং ৬০ দিনের আলোচনার নতুন সময়কাল শুরু হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এমনকি রিপাবলিকান দলের ভেতরেও অনেকেই চুক্তির শর্ত, বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন, এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল। তিনি আরো বলেন, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং তারা শিখেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুমকি দিলে তা কাজে লাগে।

অন্যদিকে উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তির শর্ত না মানলে ইরান কোনো অর্থ বা নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা পাবে না। তিনি জানান, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং এই অঞ্চলে কোনো প্রক্সি গোষ্ঠীকে অর্থায়ন না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যেরও সমালোচনা করেন, যারা চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। ভ্যান্স বলেন, তাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রের ওপর প্রকাশ্যে আক্রমণ করা ঠিক নয়।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সমালোচনা করে বলেন, তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন হবে, আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী? আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান শুধু হত্যার মাধ্যমে করা যায় না।’

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের পাশে ছিল। চুক্তি ঘোষণার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। এর মধ্যে লেবাননে হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবরও রয়েছে। হিজবুল্লাহ চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। 

ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলকে শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।