• ই-পেপার

ইরানকে ফের হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজে টোল বসানোর ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাবের নিহতদের স্মৃতিচারণ করলেন ইরানের স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাবের নিহতদের স্মৃতিচারণ করলেন ইরানের স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা শুরুর আগে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (এমবি গালিবাফ) তাদের দেশের ‘মিনাব স্কুল’ হামলায় নিহতদের স্মরণ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সময় এই শহীদদের আত্মত্যাগই তাদের পথ দেখাবে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চলমান কূটনৈতিক বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ইরান এবার অপর পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। অতীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নজিরের কথা উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, বিপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এবার তাদের অঙ্গীকার পূরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হবে।

এই কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে এসেছেন। সংসদ স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বে এই দলে আরো রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-মন্ত্রী আলী বাঘেরি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির চেয়ারম্যান হামিদ বোর্দে।

ইরানি প্রতিনিধিদল জুরিখে পৌঁছানোর পর সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের স্বাগত জানিয়েছে। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের পরবর্তী আলোচনার জন্য ইরানি দলটি এখন বার্গেনস্টকের পথে রয়েছে। 

আইন অমান্য করায় সৌদিতে ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
আইন অমান্য করায় সৌদিতে ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

বাসস্থান (ইকামা), শ্রম আইন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ২৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৮৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে আবাসন বা বাসস্থান আইন লঙ্ঘনের দায়ে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার সময় ৪ হাজার ৫৭৬ জন এবং শ্রম আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে আরো ২ হাজার ৮৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অবৈধভাবে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টাকালে মোট ১ হাজার ৬৬৮ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাওয়ার সময় আরো ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের কাজের সুযোগ দেওয়া, থাকার জায়গা বা যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ার অপরাধে ২৪ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে বা থাকতে যেকোনো উপায়ে সাহায্য করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা আইন লঙ্ঘনের তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে। 

সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে ব্রিটেনের পত্রিকা ‘দ্য অবজারভার’ জানিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সরকারি সূত্র এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, স্টারমার পদত্যাগের বদলে দেশের শাসনকার্য চালিয়ে যাওয়ার দিকেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদের ওপর গত কয়েক মাস ধরেই চাপ তৈরি হচ্ছিল। তবে এই সংকট শুক্রবার (১৯ জুন) আরো তীব্র আকার ধারণ করে। ওই দিন তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ উপনির্বাচনে এমন একটি আসনে জয়লাভ করেন, যা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতৃত্বের জন্য স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ চলছিল। তবে শুক্রবার অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সংসদে প্রবেশ করার ঘটনাটি স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, দলের ভেতরে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে বার্নহ্যামের সংসদ সদস্য হওয়া জরুরি ছিল, যা তিনি এই জয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

অবজারভার পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, দলের ভেতরে নিজের সমর্থন কমে যাওয়া এবং বার্নহ্যামের উত্থানের কারণেই স্টারমার সোমবার পদত্যাগের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আলজাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আলজাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬
ছবি : রয়টার্স

চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চলার পরেও গাজা উপত্যকায় থামছে না ইসরায়েলি হামলা। শনিবার (২০ জুন) নতুন করে চালানো বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশু ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক ক্যামেরাম্যানসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বোমা ফেলে ইসরায়েল। এতে আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ উইশাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি হামলায় আহমেদ উইশাহর ভাই এবং আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও ছিটমহলটিতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাত ২টার দিকে গাজা শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে প্রথম হামলাটি চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এ হামলায় জিনা (৪) ও লানা (১৪) নামে দুই বোন নিহত হয়। নিহতদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে বসে ছিলাম, হঠাৎ রকেট এসে আমাদের ওপর পড়ল। আমরা সাধারণ নাগরিক, জীবনে কখনো অস্ত্র ধরিনি। তবে দখলদার বাহিনী আর আলোচনা দল যে যুদ্ধবিরতির কথা বলছে, তা কি আসলেই যুদ্ধবিরতি?’ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এই হামলার ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা একটি সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় আলজাজিরার ওই ক্যামেরাম্যানকে হত্যা করেছে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সংঘাত ও চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কাল মিলিয়ে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।