• ই-পেপার

পশ্চিম তীরে দুই ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা

এআইয়ের সবচেয়ে বড় সংকট এখন চিপ নয়, বিদ্যুৎ

অনলাইন ডেস্ক
এআইয়ের সবচেয়ে বড় সংকট এখন চিপ নয়, বিদ্যুৎ
ছবি : সংগৃহীত।

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রন ডিসান্টিস খরার সময় এআই ডেটা সেন্টারগুলোকে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার থেকে নিষিদ্ধ করেন। একই সঙ্গে তিনি এমন নিয়ম চালু করেন, যাতে ডেটা সেন্টারের কারণে সেবা সংস্থাগুলো অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পানির দরকার, তখন সেটি কিভাবে ডেটা সেন্টারে ব্যবহার হতে পারে।

এদিকে গত সপ্তাহে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি কাউন্টিতে প্রস্তাবিত একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। প্রায় ৬০০ জন মানুষ সভায় অংশ নিয়ে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। বাইরে আরো প্রায় ৩০০ জন ‘মানুষ আগে, মুনাফা নয়’ এবং  ‘আমরা পানি চাই’ স্লোগান দেন। এখন সব জায়গায় একই ধরনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ডেটা সেন্টারকে অনেকেই বিদ্যুৎ ও পানির অতিরিক্ত ব্যবহারকারী অবকাঠামো হিসেবে দেখছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে খুব কম আপত্তি দেখা গেলেও ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০টি হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৭ জন আমেরিকান তাদের আশপাশে ডেটা সেন্টার নির্মাণ দেখতে চান না। এই পরিস্থিতিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও উঠে এসেছে, মহাকাশে কোনো সিটি কাউন্সিল, জোনিং বোর্ড বা পানি কর্তৃপক্ষ নেই এবং সেখানে প্রতিবেশীদের অভিযোগও নেই।

এদিকে মহাকাশ ভিত্তিক এআই ডেটা সেন্টার আসছে। এখানে এমন ৭টি স্টক রয়েছে যা থেকে প্রচুর লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ঢেউ ডেটা সেন্টারগুলোকে বিদ্যুৎ গ্রিড এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সীমার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে কম্পানিগুলো এখন কেবল দ্রুত কম্পিউটিং নিয়েই নয়, বরং পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়েও বেশি চিন্তিত হচ্ছে।

বৃহৎ আকারের এআই সিস্টেম চালানো ও প্রশিক্ষণ দিতে প্রচুর এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে এই চাহিদা অনেক দ্রুত বাড়ছে। এই কারণেই এখন কিছু বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহাকাশে এআই কম্পিউটিং সিস্টেম বা ডেটা সেন্টার স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

কক্ষপথে সূর্যের আলো প্রায় অবিরাম পাওয়া যায় এবং সেখানে শক্তির সরবরাহ অনেক বেশি স্থিতিশীল। পাশাপাশি পৃথিবীর মতো জমির সীমাবদ্ধতা, শীতলীকরণের জটিলতা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের চাপের মতো সমস্যাও সেখানে নেই। এই ধারণা অনুযায়ী, মহাকাশের ডেটা সেন্টারগুলো পৃথিবীর স্থলভাগের কেন্দ্রগুলোর বিকল্প হবে না। বরং ভবিষ্যতে যখন প্রযুক্তি ও অর্থনীতি আরো উন্নত হবে, তখন এটি বিশেষভাবে বেশি শক্তি-নির্ভর কম্পিউটিং কাজের জন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনার সামনে এখনো বড় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন উৎক্ষেপণের উচ্চ খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা এবং মহাকাশে যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। তবুও এর মূল যুক্তি হলো, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রমশ বিদ্যুৎনির্ভর হয়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে এর জন্য এমন স্থান খোঁজা হতে পারে যেখানে শক্তির সরবরাহ সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে এখন নতুন বড় বাধা হয়ে উঠছে সেমিকন্ডাক্টর নয়, বরং বিদ্যুৎ সরবরাহ। এআই মডেলগুলো যত বড় ও জটিল হচ্ছে, ততই সেগুলো চালাতে ও প্রশিক্ষণ দিতে বিপুল পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে বড় বড় ডেটা সেন্টার চালানো প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই চাপের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিড অনেক ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কম্পানিগুলোকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, ভবিষ্যতের এআই অবকাঠামো কোথায় গড়ে তোলা হবে। এই পরিস্থিতিতে ‘মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার’ ধারণাটি আবার আলোচনায় এসেছে। ধারণাটি হলো, কক্ষপথে সূর্য থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন শক্তি পাওয়া যায়, যা পৃথিবীর মতো বিদ্যুৎ সংকট, জমির অভাব বা স্থানীয় বিরোধিতার সমস্যাগুলো কমিয়ে দিতে পারে।

এই মডেলে ডেটা সেন্টারগুলো মহাকাশেই এআই-এর কাজ সম্পন্ন করবে এবং শুধু ফলাফল পৃথিবীতে পাঠাবে। টেসলা প্রধান ইলন মাস্কও বলেছেন, ভবিষ্যতে এআই বিকাশে চিপের চেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হতে পারে বিদ্যুৎ। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি এবং প্রচলিত শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন না থাকায় কক্ষপথভিত্তিক কম্পিউটিং দীর্ঘমেয়াদে পৃথিবীর স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।

তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের উপায় হবে সৌরশক্তি চালিত এআই স্যাটেলাইট। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যবহার করে শত শত গিগাওয়াট থেকে ভবিষ্যতে এক টেরাওয়াট পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন শক্তি দরকার এমন এআই সিস্টেম তৈরি করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন বা প্রায় অসম্ভব হবে।
এই মন্তব্যগুলো এআই শিল্পে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শুধু উন্নত চিপই নয়, বরং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহও এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেনসেন হুয়াং মনে করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। তবে এআই কম্পিউটিংকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার ধারণা সম্পর্কে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক। হুয়াং মহাকাশভিত্তিক এআই কম্পিউটিংকে একটি “স্বপ্ন” হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক এআই সার্ভার র্যাকগুলোতে কম্পিউটিং যন্ত্রাংশের পাশাপাশি শীতলীকরণ (কুলিং) ব্যবস্থারও বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ এআই অবকাঠামোর আকার যত বড় হয়, তাপ নিয়ন্ত্রণ বা থার্মাল ম্যানেজমেন্ট তত বেশি জটিল হয়ে ওঠে। তার মতে, এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মহাকাশে বড় আকারের এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা সহজ হবে না।

এদিকে আইবিএম-এর সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণ যুক্তি দিয়েছেন, এআই পরিকাঠামো খাতে ব্যয়ের বর্তমান গতিপথ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নাও হতে পারে।প্রমাণিত এআই রাজস্বের চেয়ে এআই পরিকাঠামোতে ব্যয় দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তার উদ্বেগ, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ গিগাওয়াট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অবকাঠামোগত খরচ শেষ পর্যন্ত ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং  বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যে ভবিষ্যতের মুনাফা এই বিনিয়োগগুলোকে সার্থক প্রমাণ করবে। ব্যবসায়িক দিকটি এখনও অনিশ্চিত।

এর মানে এই নয় যে, এআই-এর চাহিদা ভুয়া, বরং এর অর্থ হলো পরিকাঠামো নির্মাণের তুলনায় অর্থায়ন পিছিয়ে থাকতে পারে। এই সেই ক্ষেত্র যেখানে আশাবাদী এবং সংশয়বাদী উভয়ই মূলত একমত। এই শিল্পের সীমাবদ্ধতা ক্রমশ চিপস (২০২৩ সালে) থেকে বিদ্যুতের (২০২৬ সালে) দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে ডেটা-সেন্টারের প্রসারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহই প্রধান সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে। গ্রিড আপগ্রেড, সঞ্চালন লাইন, সাবস্টেশন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া কৌশলগত সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

আমিরাতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
আমিরাতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালু করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী ১৫ বছরের নিচে কেউ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না।

এই নিয়ম বাস্তবায়নে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক এবং এক্সকে ১২ মাস সময় দেওয়া হয়েছে তাদের সিস্টেম পরিবর্তন করার জন্য। এই সময়ের মধ্যে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে বয়স যাচাইব্যবস্থা আরো কঠোর করতে হবে এবং শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন বন্ধ বা সীমিত করতে হবে। যদি তারা এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রশাসনিক শাস্তি ও দেশে কার্যক্রম সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগে থেকেই যেসব শিশুর অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো কী হবে বা তারা কি অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লগইন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্ল্যাটফর্মগুলোকে যা করতে হবে

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক এবং এক্সকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাইব্যবস্থা চালু করতে হবে। এর মধ্যে সরকারি ডিজিটাল আইডি, বায়োমেট্রিক যাচাই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স অনুমান পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া যাবে না এবং বয়স লুকিয়ে রাখার বা নিয়ম এড়ানোর চেষ্টা হলে তা শনাক্ত ও বন্ধ করতে হবে। প্ল্যাটফর্মগুলোকে অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণের সুবিধা, শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছতা রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও মানতে হবে।

১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার সীমা, স্ক্রিন-টাইম নিয়ন্ত্রণ, অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করা, মেসেজিং ও লাইভস্ট্রিমিংয়ে নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালগরিদমিক সুপারিশ সীমিত করার মতো ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

শাস্তি

নিয়ম ভাঙলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্তে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার তালিকা উল্লেখ করা হয়নি। বরং শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত ডিজিটাল কাঠামোর অধীনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।

এই নিয়ম বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির জাতীয় গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ এবং টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সরকার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে। এই দুই সংস্থা নিয়ম না মানলে সতর্কবার্তা দেওয়া, আংশিক বা পুরোপুরি প্ল্যাটফর্ম ব্লক করা, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করার ক্ষমতা পাবে। তবে এসব ব্যবস্থা ধাপে ধাপে  প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট

বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলো আর অনুমোদিত হবে না। তাদের অ্যাকাউন্টগুলো অবশ্যই প্ল্যাটফর্মগুলোকেই নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ১৫ থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা অ্যাক্সেস রাখতে পারবে, তবে শুধু উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থার অধীনে। অফিশিয়াল গেজেটে এই প্রস্তাবনাটি প্রকাশের পর প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের সিস্টেমগুলো অভিযোজিত করতে এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার জন্য ১২ মাস পর্যন্ত একটি রূপান্তরকালীন সময় দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অনেক শিশু ইতিমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। তাই হঠাৎ করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত নির্দেশনা এবং পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক উপকরণ, গাইডলাইন এবং স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার টুলস দেওয়া হবে।

শিশুদের জন্য বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বয়স উপযোগী নিরাপদ ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ডিজিটাল ব্যবহার এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিকাশমূলক কার্যক্রমের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করা, যাতে তারা ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার

এই প্রস্তাবনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আগেই থাকা কিছু বিকল্প ব্যবহার ঠেকানো যায়। এতে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমন অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও বন্ধ করতে হবে, যেগুলো নিয়ম ভেঙে ব্যবহার করা হচ্ছে, এর মধ্যে শিশুদের এমন অ্যাকাউন্টও আছে যেগুলো তারা বাবা-মা বা অভিভাবকের প্রোফাইল ব্যবহার করে চালাচ্ছে।

এই কাঠামোতে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর, যাতে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বাড়িতে অভিভাবকরাও দায়িত্বশীল থাকবেন যাতে শিশুদের জন্য তৈরি সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজে ভাঙা না যায়। এ ছাড়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিও এই নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে না।

কোনো ট্র্যাকিং বিজ্ঞাপন নয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের লক্ষ্য করে ট্র্যাকিং-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও আচরণভিত্তিক প্রোফাইলিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, শুধু বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং প্ল্যাটফর্মগুলো যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে শিশু ও কিশোর ব্যবহারকারীদের ডেটা ব্যবহার করে আয় করে আসছে, সেটিও বন্ধ করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালাতে হলে ন্যূনতম তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং তা নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে না।

এ ছাড়া সরকারি ডিজিটাল আইডি, পরিচয়পত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক মিলকরণ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স অনুমান, এই পদ্ধতিগুলো গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া শুধু ব্যবহারকারীর নিজের বলা বয়স গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিশু বা পরিবারের গোপনীয়তা লঙ্ঘন না করে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এই প্রস্তাব গেজেটে প্রকাশের পর কার্যকর হবে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন নিয়ম মানতে ১২ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে কর্তৃপক্ষ এর পূর্ণ বাস্তবায়ন কাঠামো ও প্রয়োগ পদ্ধতি ঘোষণা করবে।

১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন

অনলাইন ডেস্ক
১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তির জবাবে প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) খাতের সঙ্গে জড়িত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বৈঠকের এক মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওই বৈঠকে দুই দেশ শুল্ক কমানোর বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হলেও প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ৮০টি চীনা কম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একটি নতুন কালো তালিকা প্রকাশ করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে। তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও রয়েছে।

এর জবাবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ‘চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান’ তালিকা সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়া। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মার্কিন কম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স, ওশকোশ ডিফেন্স, এমপি মেটেরিয়ালস এবং  ইউএসএ রেয়ার আর্থ।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান সব ধরনের সংশ্লিষ্ট রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের তথাকথিত চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান তালিকায় আরো প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার জঘন্য কর্মকাণ্ডের জবাবে আনা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, এই পদক্ষেপ ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার’ জন্যও নেওয়া হয়েছে।

এই ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স (যার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মহাকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে) এবং ওশকোশ ডিফেন্স, যা সামরিক যানবাহনের বহর তৈরি করে। এই তালিকায় মার্কিন বিরল মৃত্তিকা উৎপাদক এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থও রয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রপ্তানিকারকদের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে চলমান যেকোনো প্রাসঙ্গিক রপ্তানি কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘যেকোনো দেশ বা অঞ্চলের সংস্থা বা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে... যারা চীন থেকে উদ্ভূত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানান্তর বা সরবরাহ করে।’

চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থাগুলো এখন থেকে ৪৬টি মার্কিন কম্পানির তৈরি পণ্য কিনতে পারবে না। এই তালিকায় রয়েছে বড় প্রতিরক্ষা কম্পানি লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন এবং বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা বিভাগ।

এ ছাড়া জেনারেল ডাইনামিক্স এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি প্রধান সামরিক ঠিকাদার ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনে কর্মরত মার্কিন বিনিয়োগ থাকা কম্পানিগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির কারণে এসব কম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

এদিকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের নিরাপত্তায় সমর্থন দিয়ে আসছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ এখন পর্যালোচনাধীন। মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
 

মস্কোতে ৬০ ড্রোন ভূপাতিত, ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
মস্কোতে ৬০ ড্রোন ভূপাতিত, ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৫
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের হামলায় একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক দিন পর সোমবার ভোরে মস্কোর দিকে আসা কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। এ সময় নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ ড্রোনের হামলায় একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা একজন মিশরীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের একই পরিবারের তিন সদস্যও রয়েছেন।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, রাজধানীর দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা দল পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দোমোদেদোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঝুকোভস্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর মোট ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই সংখ্যার মধ্যে ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত এলাকাগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর শহরটিতে অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলায় গত সপ্তাহে মস্কোর একমাত্র তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই সর্বশেষ হামলাগুলো ঘটল।

আঞ্চলিক প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক ১৩ বছর বয়সী বালক, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী নানি নিহত হয়েছেন এবং বালকটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। সোমবার টেলিগ্রামে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের শহর জাপোরিঝিয়ায় ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলেও একটি ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এতে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার টেলিগ্রামে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলাটি একটি কৃষি স্থাপনায় আঘাত হানার পর যানবাহন এবং জ্বালানি মজুতের ট্যাংকে আগুন লেগে যায়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার অধিভুক্ত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল শহর সোমবার সমস্ত উন্মুক্ত জনসমাগম বাতিল করেছে এবং রাস্তার বাতি বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছেন এর গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ। তিনি জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়ানদের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ক্রিমিয়া, সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এর সরবরাহ পথ এবং অন্যত্র জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায়, শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে।

রুশ ড্রোন হামলায় তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, রুশ ড্রোন পানামার পতাকাবাহী একটি তুর্কি শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ ‘ভিকট্রেস’-কে আঘাত হেনেছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা বলেছেন, ৫৮ বছর বয়সী একজন মিশরীয় রাঁধুনি নিহত হয়েছেন এবং তুর্কি ও ভারতীয় নাগরিকসহ আরও আটজন নাবিককে লাইফবোটে করে জাহাজ থেকে নামতে হয়েছে। কুলেবা টেলিগ্রামে বলেন, জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী, ভিকট্রেস জাহাজটির পরিচালক তুরস্কের রানা দেনিজচিলিকের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুলেবা বলেন, পালাউ এবং বেলিজের পতাকাবাহী জাহাজগুলোও রাতারাতি হামলার শিকার হয়েছে, কিন্তু কেউ আহত হয়নি এবং জাহাজগুলো তাদের যাত্রা পুনরায় শুরু করেছে। রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের সামুদ্রিক রপ্তানি পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য জাহাজ ও বন্দরগুলোতে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের নৌবাহিনীর দাবি, রুশ ড্রোন হামলায় পানামার পতাকাবাহী তুর্কি মালবাহী জাহাজ ভিকট্রেস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানান, হামলায় ৫৮ বছর বয়সী এক মিশরীয় রাঁধুনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া তুরস্ক ও ভারতের নাগরিকসহ আরও আটজন নাবিককে লাইফবোটে করে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কুলেবা টেলিগ্রামে বলেন, হামলায় জাহাজটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তথ্য সংস্থা এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির পরিচালনাকারী তুর্কি প্রতিষ্ঠান রানা দেনিজচিলিক-এর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কুলেবা আরো জানান, পালাউ ও বেলিজের পতাকাবাহী আরো দুটি জাহাজও রাতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব জাহাজের কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরে তারা আবার যাত্রা শুরু করেছে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে রপ্তানি কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। এসব হামলায় ইউক্রেনের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা যুদ্ধকালীন অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।