• ই-পেপার

ভেনিজুয়েলার কারাকাস বিমানবন্দর বন্ধ

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
রয়টার্স ছবি

ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ৯৭১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ধসে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা বিবেচনায় এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে কর্তৃপক্ষ এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বলেন, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করছেন তিনি।

পাশাপাশি দেশটির পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রাথমিক তহবিল গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গেও কাজ করছেন।

উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে বেসরকারি খাতের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দেশের জনগণকে শান্ত ও ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকার আহ্বান জানিয়ে রদ্রিগেজ বলেন, যেসব ভবন নিরাপদ রয়েছে, সেসব ভবনের বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করা উচিত।

এ ঘটনায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা বৃহস্পতিবার ৭টায় দেশের সব ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় প্রার্থনার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে আরো শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।

এই ভূমিকম্পকে দেশটির গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ১৯০০ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫।

ভারত

পুলিশের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা
সংগৃহীত ছবি

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুধু তা-ই নয়, কর্মরত এক ঊধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এক কর্নেল, এক মেজরসহ সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়েরকৃত এফআইআরে পুলিশ ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরো ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় সেনা সদস্যকে আসামি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ, সরকারি কর্মকর্তা ও থানার ভেতরে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ।

এসএইচওর করা এফআইআরে বলা হয়েছে, তিনি যখন পাড্ডারের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন, তখন সেনা সদস্যরা থানায় হামলা চালান। ওই অনুষ্ঠানে কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন। থানার ভেতরে সহিংস ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত থানায় ফিরে আসেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, অভিযোগকারী কর্মকর্তা থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনা সদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালাযন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সেনা সদস্যরা তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন এবং এসডিপিও আথোলি শ্রী বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলা করেন।

এফআইআর অনুযায়ী, সেনা সদস্যরা লাঠি, রড এবং সরকারি অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় থানার প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন।

হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ‘হত্যা করা’ বলে দাবি করেছে পুলিশ।

জানা যায়, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পরই সেনা সদস্যরা থানায় হামলা চালান।

নিরাপত্তা শঙ্কায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বস্তি দেবে ইরান চুক্তি?

অনলাইন ডেস্ক
নিরাপত্তা শঙ্কায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বস্তি দেবে ইরান চুক্তি?
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ ছাড়া ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্বর্তী এই চুক্তি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক শান্তি চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান উপসাগরীয় দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তিন দিনের আঞ্চলিক সফরের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় পৌঁছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করেছেন।

1

বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মিত্রদের আশ্বস্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তি তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই করা হবে। আমরা এমন কিছু করব না যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে।’

বাহরাইনে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে এমন একটি স্থায়ী শান্তি চায়, যা অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি বৈঠকে ওমানের প্রস্তাবিত নিরাপদ নৌ-চলাচল করিডোরকে স্বাগত জানান। এই করিডোর হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সহজ করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হওয়ার পর রুবিওর এই সফর ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই সমঝোতা হয়।

2

সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে রুবিও আঞ্চলিক নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে প্রস্তাবিত চুক্তি ইরানের পক্ষে অতিরিক্ত সুবিধাজনক নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন কিছু করব না যা আমাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে।

তবে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।

এ ছাড়া ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতেও দুপক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

জিসিসিভুক্ত দেশগুলো (সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত) যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র। যুদ্ধ চলাকালে তারা বিভিন্নভাবে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করেছে, তবে একই সঙ্গে ইরানি হামলারও শিকার হয়েছে।

পুনর্গঠনে এক হাজার কোটি ইউরোর চুক্তির আশা ইউক্রেনের

অনলাইন ডেস্ক
পুনর্গঠনে এক হাজার কোটি ইউরোর চুক্তির আশা ইউক্রেনের
সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেন আগামী দুই দিনে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ইউরোরও বেশি মূল্যের ১৬০টির বেশি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো।

বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের গদানস্ক শহরে অনুষ্ঠিত একটি বড় পুনর্গঠন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

স্ভিরিদেনকো বলেন, সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে ১৬০টিরও বেশি সমঝোতা ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার মোট মূল্য ১০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রথম কিস্তি হিসেবে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী স্ভিরিদেনকো আরও বলেন, এই অর্থ দেশটির পুনর্গঠন কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ইউক্রেন আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করছে। গদানস্কের এই সম্মেলনকে সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।