• ই-পেপার

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ভারত-জাপানের নতুন চুক্তি

অন্তর্বর্তী চুক্তি ব্যর্থ হলে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী চুক্তি ব্যর্থ হলে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত পূরণ না করে, তাহলে তেহরান উপযুক্ত জবাব দেবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনার বরাতে আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আমরা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন জোরালোভাবে দাবি করছি।’

যদি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরানও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন গালিবাফ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের আলোচক দলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়।

একই সঙ্গে ইসরায়েলের হুমকিকেও তিনি ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ বলে আখ্যায়িত করেন। 

এ অবস্থায় নিজেদের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে গালিবাফ দাবি করেন, ‘রমজান যুদ্ধ’ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।

তার ভাষায়, ‘আজ সবাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারাই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে।’

পাকিস্তানে যাত্রীবোঝাই বাস খাদে, নিহত অন্তত ৪০

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে যাত্রীবোঝাই বাস খাদে, নিহত অন্তত ৪০
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই বাস মহাসড়ক থেকে পাথুরে গিরিখাতে পড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত এবং আরো ৮ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুন) ভোরে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী দুর্গম দানা সার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিরিখাতে পড়ে যায়। তিনি বলেন, বাসটিতে শুধু নির্ধারিত যাত্রীরাই ছিলেন না, বিকল হয়ে যাওয়া অন্য একটি বাসের যাত্রীরাও এতে উঠেছিলেন। ফলে বাসটি অতিরিক্ত যাত্রীতে ভরে গিয়েছিল।

এক বিবৃতিতে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং আহতদের চিকিৎসা দিতে কাজ করছেন। পাকিস্তানে, বিশেষ করে পার্বত্য এলাকাগুলোতে, সড়কের খারাপ অবস্থা, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

সরকার অস্ত্র দিয়ে এখন সন্ত্রাসী বলছে—পাকিস্তানের কাশ্মীর সমাবেশে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
সরকার অস্ত্র দিয়ে এখন সন্ত্রাসী বলছে—পাকিস্তানের কাশ্মীর সমাবেশে অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। যদিও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে। বৃহস্পতিবার চলমান আন্দোলনের ২৪তম দিনে রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে বিশাল এক বিক্ষোভ সমাবেশে অ্যাকশন কমিটির নেতা সরদার আমান খান পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

আমান খান দাবি করেছেন যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীই মূলত কাশ্মীরিদের হাতে প্রথম অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীই জম্মু ও কাশ্মীরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার করেছিল। আমান খান বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনীই কাশ্মীরিদের হাতে বন্দুক তুলে দিয়েছিল। আর আজ তারাই আমাদের সন্ত্রাসী বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।’ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময়, আমান খান গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জৈশ-ই-মোহাম্মদ-এর একটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। যেখানে সশস্ত্র অংশগ্রহণকারীরা একে-৪৭ রাইফেল এবং তলোয়ারের মতো বিপজ্জনক অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করেছিল।

রাওয়ালকোটের ডেপুটি কমিশনারের উদ্দেশে আমান খান বলেন, ‘আপনি নিজেই এখানে বন্দুক ও তলোয়ার নিয়ে মিছিলের আয়োজন করতেন। আপনার কি মনে আছে? আর এখন আপনি আমাদের সন্ত্রাসী বলবেন? এই সব বিক্ষোভকারী মানুষ এই মাটির প্রকৃত উত্তরাধিকারী।’ পাকিস্তান সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে আমান খান বলেন, এই আন্দোলনের ৩৮ দফা দাবি মেনে না নিলে বিষয়টি আর এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি তখন পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে পাততাড়ি গুটানোর দাবিতে এক দফা আন্দোলনে রূপ নেবে।

২৫ দিন ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শ মানুষ। অ্যাকশন কমিটির শীর্ষ নেতাসহ অন্তত ৬০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধের জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধের জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলো সামরিক কৌশলের চিরচেনা রূপ বদলে দিয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে রণক্ষেত্রের আধিপত্য এখন আর শুধু দামি যুদ্ধবিমান, ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ড্রোন এখন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে ভারত এখন দেশীয় ড্রোন উৎপাদন, ড্রোন-প্রতিরোধী (অ্যান্টি-ড্রোন) প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় ব্যাপক গতি এনেছে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে, সামান্য খরচে তৈরি ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ ড্রোনগুলো লাখ লাখ ডলার মূল্যের ভারী সাঁজোয়াযান ধ্বংস করে দিচ্ছে। একইভাবে, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ অ্যাটাক ড্রোনের ঝাঁক অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে অনায়াসেই ফাঁকি দিচ্ছে। বিশ্বরাজনীতির এই নতুন সমীকরণ এবং পূর্ব লাদাখে চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা, জম্মু বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ও অতিসম্প্রতি ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো নিজস্ব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো নয়াদিল্লিকে আত্মনির্ভরশীল ড্রোন প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।

প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে ভারত এখন দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সর্ববৃহৎ সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের এই বিশাল উদ্যোগের ফলে আদানি গ্রুপ, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, আইডিয়াফোর্জ ও অ্যাস্টেরিয়া অ্যারোস্পেসের মতো ভারতের নিজস্ব ড্রোন নির্মাতারা বড় ধরনের সুবিধা পাবে।

এই নতুন ড্রোনবহরটি ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সীমান্ত নজরদারি, নিখুঁত হামলা ও রসদ সরবরাহে দারুণভাবে সহায়তা করবে। এটি আমেরিকার তৈরি বিখ্যাত ‘এমকিউ-নাইন বি প্রিডেটর’ ড্রোনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া সরকারের ‘ড্রোন শক্তি মিশন’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব একটি শক্তিশালী ড্রোন ইকোসিস্টেম তৈরি করছে।

ড্রোনের শক্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি শত্রুপক্ষের ড্রোন থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই লক্ষ্যে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ‘পেলোরাস টেকনোলজিস’ -এর মতো শীর্ষস্থানীয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই সংস্থাটি এমন কিছু অত্যাধুনিক সিস্টেম তৈরি করছে, যা শত্রুপক্ষের ড্রোনকে অনেক দূর থেকেই শনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিষ্ক্রিয় (জ্যাম) করে দিতে সক্ষম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ‘পুলিশ এক্সপো’-তে পেলোরাস টেকনোলজিস তাদের এই ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকৌশলের এই দ্রুত পরিবর্তন মূলত একটি নতুন যুগের সংকেত দিচ্ছে। দেশীয় ড্রোন ও সাইবার নিরাপত্তায় ভারতের এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, আগামী দিনের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ট্যাঙ্কের গোলার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন।