দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, শুধু সাধারণ নাগরিক নয়, খোদ নিরাপত্তা বাহিনীরা সদস্যরাও দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে কোস্ট গার্ডের স্টেশনে হামলা, রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হামলায় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা সেই বিষয়টিই সামনে এনেছে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের শঙ্কা বাড়ছে।
কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সুন্দরবনে আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ দস্যুচক্র। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, নদীপথে চাঁদাবাজি, জেলে ও বনজীবীদের জিম্মির মতো ঘটনায় গোটা সুন্দরবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মোংলার সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের হাড়বাড়িয়া স্টেশনে দুর্বৃত্তরা হামলা করে। এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে গত মঙ্গলবার রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার দে। অন্যদিকে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে দুই ছিনতাইকারী। এর আগেও সাভার ও কুমিল্লায় পুলিশের ওপর বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অপর এক খবরে বলা হয়েছে, নোয়াখালী জেলায় গত দেড় মাসে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদকসেবীদের তৎপরতায় জেলার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। শুধু নোয়াখালী নয়, খোঁজ নিলে দেখা যাবে আরো বহু জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র এমনই। পুলিশের তরফ থেকে বারবার জিরো টলারেন্স, নিয়মিত টহলের কথা বলা হলেও এর দৃশ্যমান প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পুরনো দস্যুবাহিনীর সদস্যরাই আবার তৎপর হয়েছে। বিশ্লেষকদের অভিমত হলো, দস্যু তৎপরতার পুনরুত্থানে শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দায়ী নয়, এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক সামাজিক কারণ। আত্মসমর্পণ করা দস্যু পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, ঘোষিত পুনর্বাসন কর্মসূচি টেকসই হয়নি।
দেখা যাচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর সঙ্গে বিবিধ বিষয় যুক্ত থাকে। একই কারণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও কোনো সাময়িক বা খণ্ডকালীন কাজ নয়, এটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।
কাজেই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। উন্নত প্রশিক্ষণসহ পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল জোরদার এবং টহলের পরিসর বাড়াতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অধরাই থেকে যাবে।

