আয়াতের অর্থ
‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সঙ্গে এবং প্রসব করে কষ্টের সঙ্গে, তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ৩০ মাস। ক্রমে সে যখন পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং ৪০ বছরে উপনীত হয়...আমি তোমারই অভিমুখী হলাম এবং আমি অবশ্যই আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৫)
আয়াতে মা-বাবার আনুগত্য ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
শিক্ষা ও বিধান
১. আয়াত দ্বারা প্রমাণ হয়, সন্তানের সদাচার ও যত্ন লাভে পিতার তুলনায় মায়ের অধিকার বেশি। হাদিসেও নবীজি (সা.) মাকে তিনবার অগ্রগামী বলেছেন।
২. আয়াতের আলোকে আলী (রা.) বলেছেন, গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময় ছয় মাস। বিয়ের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর স্ত্রী সন্তান জন্ম দিলে সন্তানের নসব (পরিচয়) স্বামী থেকে প্রমাণ হবে। এ বিষয়ে সাহাবিরা একমত হয়েছেন।
৩. মা সন্তানকে সর্বোচ্চ দুই বছর স্তন্য দান করতে পারবে। এরপর দুধ পান করানো হারাম।
৪. মানুষ পূর্ণ শারীরিক সক্ষমতা লাভ করে ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যবর্তী সময়ে এবং জ্ঞান-বুদ্ধির পূর্ণতা লাভ করে বয়স ৪০ বছর হলে।
৫. ঈসা (আ.) ও তাঁর খালাতো ভাই ইয়াহইয়া (আ.) ছাড়া সব নবী-রাসুল ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নবুয়ত লাভ করেছেন। (তাফসিরে মুনির : ১৩/৩৪৩)



