• ই-পেপার

শান্তিরক্ষী বাহিনী বনাম দুর্ধর্ষ মিলিশিয়া

সাত নেপালি সেনা উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

আজকের খেলা

আজকের খেলা

নরওয়ে-সেনেগাল (সকাল ৬টা)

জর্দান-আলজেরিয়া (সকাল ৯টা)

পর্তুগাল-উজবেকিস্তান (রাত ১১টা)

ইংল্যান্ড-ঘানা (রাত ২টা)

ক্রোয়েশিয়া-পানামা (কাল ভোর ৫টা)

কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

কুমিল্লা নগরীতে ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সিটি করপোরেশনের ড্রেনে পড়ে আট বছরের শিশু স্মৃতি আক্তারের প্রাণহানি ঘটেছে। গত রবিবার রাত ৯টার দিকে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার দুপুরে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গিয়েছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, নিহত শিশু স্মৃতি আক্তার কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে শিশুটির নানার বাড়ি। সেখানে তার মামার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান শেষে স্মৃতি তার মা কোহিনূর বেগমের সঙ্গে নিজ বাসায় ফিরছিল। জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা না পেয়ে তারা হেঁটেই রওনা দেয়। ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় স্মৃতি মায়ের হাত থেকে ছিটকে জলাবদ্ধ সড়কের ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায়। ওই সময় আশপাশের লোকজন প্রায় ১৫ মিনিট পর উদ্ধার করলেও তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ চলছিল। কয়েকটি স্থানে ড্রেনের ঢাকনা খোলা ছিল এবং অনেক স্ল্যাব ভাঙা অবস্থায় ছিল। টানা বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় খোলা ড্রেন ও ভাঙা স্ল্যাব পানির নিচে ঢুকে যায়, ফলে পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে তা ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। আমি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নগরীর অরক্ষিত স্ল্যাবগুলো ঢেকে দেওয়া হবে।

হামে আরো তিন শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো তিন শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে আরো ১৬০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৬৫ জনের। তাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৪ জন। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে এ তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  গতকাল হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৯০ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ২৫০ জনের। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৭৪, চট্টগ্রামে ৫০, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৫৪, খুলনায় ২৭ ও রংপুরে আটজন মারা গেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ৩৬৭ জন রোগীর মধ্যে ৩০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রাজশাহীতে ৫২ জনের মধ্যে ৪৭, সিলেটে ৬৫ জনের মধ্যে ৬০ ও চট্টগ্রামে ২১০ জনের মধ্যে ২১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালে ১১০ জনের মধ্যে ১১০, ময়মনসিংহে ৬০ জনের মধ্যে ৫৭, খুলনায় ৮৪ জনের মধ্যে ৮৩ ও রংপুরে ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সরকারের তথ্যানুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী হামের প্রকোপ বর্তমানে হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতির মূল্যায়ন মূলত সিআরএফ রিপোর্ট বা কেস রিপোর্ট ফরমের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। সন্দেহজনক হামের রোগীদের সমস্যার বিবরণ দিয়ে এই ফরম পূরণ করা হয় এবং পরে এই রিপোর্টগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পাঠানো হয়।

দল থেকে ‘বাদ’ মমতা নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা তৃণমূল বিদ্রোহীদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
দল থেকে ‘বাদ’ মমতা নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা তৃণমূল বিদ্রোহীদের

নিজের গড়া রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকেই অপসারিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির দখল নিয়েছে বিদ্রোহী শিবির, অন্তত এমনই দাবি করছেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে তৃণমূলে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তাঁর জায়গায় বেছে নেওয়া হয়েছে নতুন সাধারণ সম্পাদক।

গতকাল সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন ছিল। সেই অধিবেশন শেষ হতেই তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা নিউ টাউনের একটি হোটেলে গোপন বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই তৃণমূলের ৩০ জনের একটি নতুন কমিটি তৈরির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিদ্রোহী শিবিরের এই বৈঠকে তৃণমূলের গঠনতন্ত্রের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; কিন্তু ২০২২ সালের পর আর তৃণমূলের কোনো জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। এই কারণ ও যুক্তি দেখিয়ে প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হয় আগের জাতীয় কর্মসমিতি। এর পরই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ঋতব্রতদের তৃণমূল। সেই কর্মসমিতির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। এ ছাড়া বেছে নেওয়া হয়েছে সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ।

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ দেখা যায়। সেই ফুলকি ধীরে ধীরে বড়সড় আগুনের চেহারা নেয়। একে একে বিধায়করা বিদ্রোহ শুরু করেন। বিদ্রোহের সূত্রপাত সইকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়। সেই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন। সেই নিয়ে টালবাহানা চলে বেশ কয়েক দিন। দলের মধ্যে ভাঙন ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে। তৃণমূলের রাশ আলগা হতে থাকে মমতার হাত থেকে। প্রথম পর্যায়ে একসঙ্গে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রতকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা করা হয়। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা