বেনজীরকে ফেরত পেতে ইউএই সরকারের কাছে তিন দিনের মধ্যে
সব নথি পাঠানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেনজীরকে ফেরত পেতে ইউএই সরকারের কাছে তিন দিনের মধ্যে
সব নথি পাঠানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন এক গণজাগরণের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস মেনে নেওয়া হবে না। সরকার যদি কোনো বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে বা দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেয়, তাহলে জনগণ তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে এ আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি প্রতিবেশী দেশ ‘পুশ ইন’-এর মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় সীমান্তে বিজিবির সদস্যদের পাশে দেশের জনগণও ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ যেমন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না, তেমনি অন্য দেশকেও বাংলাদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। জাতীয় স্বার্থে বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
যুবসমাজের প্রতি আহবান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের তরুণরাই অতীতে বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবর্তনের নেতৃত্ব তাদেরই দিতে হবে। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ ও মাওলানা মামুনুল হক। আরো বক্তব্য দেন অন্যান্য শরিক দলের নেতারা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি ও জনকল্যাণের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্বের মতো সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর দাবি, গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষেই তারা প্রচারণা চালিয়েছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক লড়াই।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে। গণভোটে জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে।

বিচার বিভাগে যেসব সীমাবদ্ধতা আছে, সেই সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির সঙ্গে বিচারকদের দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
ঢাকা বিভাগে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে এ আহবান জানান বিচার বিভাগের প্রধান। গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা বক্তব্য দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিচারকরা তাঁদের বক্তব্যে আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি এজলাস (বিচারকক্ষ), খাসকামরা, রেকর্ডরুম, মালখানা ও আবাসন-সংকট নিরসনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আদালত ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিজিটাইজেশনের দাবিও তুলে ধরেন।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি এসব দাবি নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতি কাজ করে যাচ্ছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারকদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতিয়েস কুনিয়া—মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ঝলক দেখা গিয়েছিল যাঁদের পায়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই দুজনই নায়ক। আগের ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা ভিনিসিয়ুসের এদিন গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্ট্রাইকার কুনিয়ার জোড়া গোল। তাতে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় ব্রাজিলের। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা সেলেসাওদের।
কেউ বলে থাকেন টুর্নামেন্টের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন এই মতটাও জোরালো যে শুরু যেমনই হোক, টুর্নামেন্টের মাঝে নিজেদের ক্রমে তুলে ধরাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পরও তাদের শিরোপা জয় সেই মতটাকে এখন জনপ্রিয় করেছে। কার্লো আনচেলোত্তির জুড়ি নেই, কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে। দলের ফাঁকফোকরও তাঁর অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়তে বাধ্য। মরক্কো ম্যাচে প্রথমার্ধটা ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে ছিল না, আক্রমণভাগও ছিল না সহজাত ছন্দে। পরে ইগর থিয়াগোকে উঠিয়ে কুনিয়াকে নামানোর পর সেই আক্রমণে ধার বাড়ে। ব্রাজিল সেই ম্যাচ যে সম্ভাবনায় রেখে শেষ করেছিল, হাইতি ম্যাচটা সেখান থেকেই শুরু করে সেই কুনিয়াকে প্রথম একাদশে রেখে। আর ভিনিসিয়ুস এদিনও খেলে গেলেন একই রকম ছন্দে। এই বিশ্বকাপটাই হয়তো মাতাতে যাচ্ছেন তিনি। ব্রাজিল দলটাও তাঁর সঙ্গে একই লয়ে বাজতে পারলে এই আসরটি হয়তো হবে তাদের। তবে জয়ে ফেরার ম্যাচটা শেষ করেছে তারা রাফিনিয়ার চোটের দুঃসংবাদ নিয়েও। হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা অনুভব করার পর প্রথমার্ধেই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান বার্সেলোনা তারকা। এই মুহূর্তে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে তাঁর। চোট কতটা গুরুতর জানা যাবে এরপরই। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত সপ্তাহখানেক মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।
আনচেলোত্তিকে এখন সেই জায়গাটাও মেরামত করতে হবে। ইতালিয়ান কোচ ঠিকই এর সমাধান বের করে নেবেন। এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো উতরেই তো একজন কোচ সফলদের কাতারে নাম লেখান। আর আনচেলোত্তি তো সেখানে প্রতিষ্ঠিত নাম। রাফিনিয়া অবশ্য দুটি ম্যাচের কোনোটিতেই নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি। এদিনও মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত খুব বেশি আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল না তাঁর খেলায়। তবে ম্যাচের শুরুতেই বল জালে জড়িয়েছিলেন, সেটি অফসাইডে বাতিল না হলে হয়তো গল্পটা অন্য রকম হতে পারত। এরপর প্রতি-আক্রমণে পাওয়া সহজ সুযোগটাও নষ্ট করেছেন তিনি। তবে কুনিয়া তা করেননি। ২৩ মিনিটে হাইতি মাঝমাঠে বল হারালে, সেই বল ধরে ভিনিসিয়ুস গোলের সুযোগ তৈরি করেন, বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে নেওয়া তাঁর ডান পায়ের জোরালো শট হাতে জমাতে পারেননি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক, কুনিয়া সেই বলই জালে জড়িয়ে দিয়েছেন। সেদিক থেকে ম্যাচের তিনটি গোলেই তাই অবদান ভিনিসিয়ুসের, প্রথম গোলটির উৎস যে তিনিই। কুনিয়া তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন রিয়াল তারকারই দুর্দান্ত এক ব্যাক হিলে বল পেয়ে। তবে যে কারো জন্য কোনাকুনি ওই জায়গা থেকে বল জালে পাঠানোটা সহজ নয়। কুনিয়া সেটি করেছেন দারুণ মুন্সিয়ানার সঙ্গে। তাঁর ডান পায়ের মাপা শট দূরের পোস্টের ওপরের ডান কোণ দিয়ে জড়ায় জালে। ম্যাচের তখন ৩৬ মিনিট। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাও তখন মুঠোয় নিয়ে ফেলেছে আনচেলোত্তির দল। স্কোরলাইন আর পারফরম্যান্স মিলিয়ে সমর্থকরাও একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিল ম্যাচটা জিতে যাচ্ছে। ব্যবধান কত হয় সেটিই ছিল দেখার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে সেলেসাওরা। এবার সেই ভিনির পায়ে গোল। লুকাস পাকেতা নিচ থেকে বাড়িয়েছিলেন, ভিনি সেই বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের দুই পায়ের নিচ দিয়ে তা জালে ঠেলেছেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আর না বাড়াটা কিছুটা হতাশার। ৪০ মিনিটে চোট নিয়ে রাফিনিয়া মাঠ ছেড়ে গেলে তাঁর জায়গায় নেমেছিলেন তরুণ রায়ান।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামাদের মধ্যে এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি দুজনই গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন। মার্তিনেলির শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। এনদ্রিক বল জালে পাঠিয়ে উদযাপনও শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেটি বাদ হয় অফসাইডে। তবে ৩-০ গোলের এই জয়ও ব্রাজিলকে গ্রুপসেরা হওয়ার পথে অনেকখানিই এগিয়ে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুসও বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ৩-০ গোলের এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে টুর্নামেন্টে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। মানসিকভাবে আরো স্থিরতা নিয়ে পরের ম্যাচটায় আমরা এখন নামতে পারব।’
রাফিনিয়াকে হারালেও আনচেলোত্তি নিশ্চিত করেছেন, পরের ম্যাচে নেইমারকে পেতে যাচ্ছেন তারা।