ক্রীড়া প্রতিবেদক : এবারের বিশ্বকাপের আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা আর ইরানের ভিসা বিতর্ক, যেটা দলটির প্রস্তুতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। ইরানের কোচিং স্টাফ আর ফুটবলাররা এই বিষয়গুলো কিভাবে দেখছেন? তাঁদের বক্তব্যের অপেক্ষায়ই ছিল সবাই। সব প্রশ্নের উত্তর পেতে ইরানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সংবাদ সম্মেলনে রূপ নিয়েছিল। আজ সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে সেই প্রতীক্ষিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধি হয়ে আসেন কোচ আমির গ্যালেনোই এবং ফরোয়ার্ড মেহেদী তারেমি। নিউজিল্যান্ডেরও বিশ্বকাপে এটি প্রথম ম্যাচ।
তবে ম্যাচ নিয়ে আলোচনার চেয়ে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে রাজনৈতিক প্রভাব, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের ভূমিকা—এসবই প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। ম্যাচের আগের দিন এসব প্রসঙ্গ এড়িয়েই গেলেন গ্যালেনোই, ‘আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি। ইরানের ভেতরের এবং বাইরে থাকা সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা আমাদের কাজ। আমরা রাজনীতির মানুষ নই।’ একের পর এক রাজনৈতিক প্রশ্নে কিছুটা বিরক্ত হয়ে তারেমি তো বলেই ফেললেন, ‘কেউ তো ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন করলেন না।’
লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচের ভেন্যু সোফাই স্টেডিয়ামের বাইরে প্রবাসী ইরানিরা তাদের দেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও খবর বের হয়। এমন থমথমে অবস্থার মধ্যে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার জন্য মাঠে নামার অপেক্ষায় ইরান। ইতিহাসে এই প্রথম আয়োজক দেশে খেলতে এসেছে এমন এক দেশ, যারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত।
অবশ্য এই সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে সব পক্ষ থেকেই ‘অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে’ সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা এসেছে। তার আগে অবশ্য ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন ক্যাম্প করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়।