গত শুক্রবার ১২ জুন মহান ভারতের মহান হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী যশোরের বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে সড়কপথে ঢাকায় এসেছেন। বহুদিন পর একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের হৃদয় জয় করতে এলেন। ভদ্রলোককে দু-তিনবার দেখেছি। তখন তিনি এত বড় ছিলেন না, নামডাকও ছিল না, যখন জর্জ ফার্নান্ডেজ, ওড়িশার বিজু পট্টনায়েক, জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, চরণ সিং, চন্দ্র শেখর, জগজীবন রাম, মধু লিমায়ে, হেমবতী নন্দন বহুগুনা, নানাজি দেশমুখ, অটল বিহারি বাজপেয়ি, লালকৃষ্ণ আদভানি, কর্পূরী ঠাকুর, রাজনারায়ণ, মোহন ধাড়িয়া, ইটনার ভুপেস দাসগুপ্ত, সমর গুহ, শান্তিময় রায়, কমলাপাতি ত্রিপাঠী, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, অশোক সেন, গণি খান চৌধুরী, দেবকান্ত বড়ুয়া, যশোবন্ত রাও চৌহান, শরদ পাওয়ার, জ্ঞানী জৈল সিং, বসন্ত শাঠে, দেবীলাল, ভজন লাল, মাধব রাও সিন্ধিয়া, প্রণব মুখার্জি, অজিত পাঁজা, প্রিয়রঞ্জন দাশ মুন্সি, সোমেন মিত্র, সুব্রত মুখার্জি ও নরসিমা রাওয়ের সঙ্গে উঠাবসা করেছি। উনার মনে আছে কি না জানি না, কিন্তু আমার মনে আছে। তাই এই সময় যখন সবচেয়ে ক্ষুরধার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক চেতনা সমৃদ্ধ একজন মানুষের প্রয়োজন, তখন বোঝা যায় ভারত কতটা গুরুত্ব দিয়ে দিনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন যথাযোগ্য মানুষকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠিয়েছে।
আমরা বহু বছর সুখ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে কাটিয়েছি। সেটি হাজার বছরের কম হবে না। কিন্তু ইংরেজ আমাদের শান্তিতে, সম্প্রীতিতে থাকতে দেয়নি। হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ ঘটিয়ে তারা দারুণ মজায় শাসন করেছে। মারাত্মক বিভেদ সৃষ্টি করেছে উনিশ শতকে। এই বিংশ শতাব্দীর প্রায় পুরোটাই দ্বন্দ্ব, দ্বন্দ্ব আর দ্বন্দ্ব। ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগের মধ্য দিয়ে সেটি আবার চরম আকার ধারণ করে। তারপর প্রায় সময়ই দ্বন্দ্ব লেগে থেকেছে। কিন্তু ছোটখাটো কিছু দ্বন্দ্ব থাকার পরও ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে মুসলমানদের পুরোপুরি পিছে ফেলতে পারেনি। সাতচল্লিশে ভারত-পাকিস্তান আলাদা দুটি রাষ্ট্র হলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আরো বেড়ে যায়। পাকিস্তানিরা সব সময় ভারতকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করে। চাণক্যের দেশ ভারত, কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে যতটা করার তা করেনি। ভারত একটি প্রতিষ্ঠিত কৃষ্টিসভ্যতার, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতির দেশ। সেখান থেকে বাংলাদেশের যতটা সম্মান-সহমর্মিতা পাওয়ার কথা, তা পায়নি। আজ ভারতের যে উত্থান, সে উত্থানে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই—এটি যাঁরা ভাবেন, তাঁরা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩-২৪ বছর পাকিস্তানিরা আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে, ভারত কোনো মানবের নয়, দানবের দেশ। শুধু একাত্তরে ক্ষতবিক্ষত, খণ্ডিত অন্তরাত্মা নিয়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে প্রায় কোটি মানুষ জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে ক্যাম্পে ক্যাম্পে কঠিন পরিবেশে তারা ভারতের হৃদয় দেখার বা বোঝার সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে ভারতও বাংলার মানুষের অন্তরাত্মা স্পর্শ করতে তেমন চেষ্টা করেনি, বরং আমরা ছিলাম বিদেশিনির্ভর। আমরা ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার জিনিসপত্র ব্যবহার করতাম। চীনের জিনিসপত্রের প্রতি তখন আমাদের তেমন আকর্ষণ ছিল না। সেই সময় প্রায় সবকিছুই যখন ভারত থেকে আসে, ভারতের নিম্নমানের জিনিস আমাদের চোখে লাগতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারীরা বলা শুরু করে, ভারত বাংলাদেশকে বাজার বানাতে তাদের দেশের পচা মাল চালাতে আমাদের সাহায্য করেছে। হ্যাঁ, এর যে কোনোই সত্যতা নেই, তা নয়। কিছু ভারতীয় মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী তাঁদের পচা মাল আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বেশিসংখ্যক আমাদের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ভারতের বাজারের নিম্নমানের দ্রব্য, যা তাদের বাজারেই চলেনি, তা এনে আমাদের বিভ্রান্ত করেছেন। সেই সময় ওইভাবে বঙ্গবন্ধু নিহত না হলে এমন হতো না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর স্বাধীনতার স্বপ্নই অনেকটা ওলটপালট হয়ে যায়। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পর আবার বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা ক্ষমতায় এলে ভারতের দৃষ্টি পুরোটাই বাঙালি জাতির ওপর না দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর দেওয়া হয়—এটি ভারতের জন্য মারাত্মক ভুল। নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবার প্রতি তাদের একই রকম আচরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা তারা করেনি বা করতে পারেনি। বাংলাদেশে ভারতের প্রথম হাইকমিশনার হয়েছিলেন আমার টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনীর ছাত্র সুবিমল দত্ত। তারপর সমর সেন। একজন অত্যন্ত ভালো হাইকমিশনার এসেছিলেন বিহারের মাইথনের মুচকুন্দ দুবে। এরপর একজন চমৎকার মহিলা এসেছিলেন বীণা সিক্রি। অভাবনীয় তৎপর যথার্থ একজন ভারতীয় হাইকমিশনার। তারপর মনে হয় এই এলেন রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনায় ভরপুর চাণক্যের দেশের প্রকৃত প্রতিনিধি দিনেশ ত্রিবেদী। দেখা যাক তিনি কী করেন।
ভারতের প্রতি যতটা ক্ষোভ বাংলাদেশের মানুষের, তার চেয়ে অভিমান অনেক বেশি। আর নতুন নেতারা ভারতকে যত তাচ্ছিল্যই করুন, যত খারাপই বলুন, বাংলাদেশের প্রাণ ভারতকে সম্মান করে, ভারত ভারতের মহান প্রাণ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আজও আলোড়ন তোলে। কিন্তু এই কয়েক দিন সীমান্তে যা হচ্ছে, তা বলার মতো নয়। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বহু মানুষকে পুশ ব্যাক করার ভারতের চিন্তা বা চেষ্টা খুবই হাস্যকর। এমনটা ভারতের জন্য মানায় না। ঠিক আছে, ভারত যাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে, তারা যদি ভারতের বোঝা হয়ে থাকে, সরকারি হিসেবে তদন্ত করা হোক। মিথ্যা তদন্ত নয়, সেখানে সত্য থাকতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সরকার যেকোনো জায়গায় বসে তদন্ত করুক, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একসময় আমরা কিন্তু সবাই ভারত উপমহাদেশেরই ছিলাম। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার জন্মভূমি ভারতবর্ষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ধাত্রীর ভূমিকা পালন করেছে। এতে আমরা খুবই ঋণী। কিন্তু আমাদের জন্য যে ভারতের তেমন লাভ হয়নি, উপকার হয়নি; এটিও সত্য নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আগে ভারতের থলিতে কোনো সশস্ত্র বিজয় ছিল না। আটচল্লিশে কাশ্মীরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত একেবারে নাস্তানাবুদ হয়েছিল। ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধে ভারতের শোচনীয় পরাজয়। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ হয়। সেখানেও ভারত তেমন সুবিধা করতে পারেনি। একমাত্র ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে বিজয় পতাকা হাতে পেয়েছিল ভারত। আজ ভারত এক পরাশক্তি। ব্যাপারগুলো ভারতের হৃদয়কে, যাঁরা ভারতকে চালান, তাঁদের ভেবে দেখতে বলছি। দেখা যাক, দিনেশ ত্রিবেদী কতটা কী করতে পারেন। আমরা সবাই ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক যারা চাই, তারা দুই হাত প্রসারিত করে বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় থাকলাম।
অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই প্রথম বাজেট পেশ করেছে। চিরাচরিত নিয়মের মতো হয়ে গেছে। বাজেট পেশ করে সরকারি দল সেটি যত খারাপই হোক, বলবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাজেট, ঠিক তেমনি বিরোধী দল সত্যিকার অর্থে অতি উত্তম বাজেটকেও বলবে একেবারে অখাদ্য, এটি কোনো বাজেটই হয়নি। এ এক অলঙ্ঘনীয় রীতির মতো হয়ে গেছে। আমি এখন বিরোধী দলেও না, সরকারি দলেও না, একেবারে সাধারণ মানুষ। আমার কাছে এই বাজেটকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কাগজের মতো মনে হয়নি। যতটা সম্ভব যথার্থই হয়েছে। দেশের শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষ বাজেট বোঝে না, বাজেট নিয়ে তাদের তেমন মাথাব্যথাও নেই। তাদের ব্যথা ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোক্রমে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারবে কি না। বাংলাদেশের প্রথম বাজেট হয়েছিল ৫৭৮ কোটি টাকা। আর এবারের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। কোথায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি আর কোথায় ৫৭৮ কোটি! এই বিপুল বাজেট নিয়ে আমার তেমন ভাবনা নেই, আমার ভাবনা এই বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে। তবে একটি বিষয় আমার খুবই অবাক লেগেছে, ট্যাক্স প্রত্যাহারেও বিরোধী দল নিন্দা করেছে। ৬০টি দ্রব্যের ওপর শুল্ক ছাড় দিয়েছে বর্তমান সরকার। আর বাজেটের পরমুহূর্তে প্রতিবছরই নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ে। এবার আহামরি তেমনটি হয়নি। এটি নিশ্চয়ই বাজেটের সফলতা। এ জন্য অবশ্যই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অভিনন্দন জানাতে হয়। সেই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের না খাওয়া কর্মীদের সামলাতে পারেন, তাহলে অবশ্যই তিনি সাধুবাদ পাবেন এবং এর ফলও দেখতে পাবেন। সরকারে এবং বিরোধী দলে কোনোখানে না থাকায় মুক্তমনে হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে মানুষের সরকার হিসেবে, জনগণের সরকার হিসেবে অভিনন্দন জানাতে চাই।
মা ছাড়া সন্তানের অবলম্বন কী? একজন মা সন্তানের জন্য যে কষ্ট করেন, সন্তানকে যে পরিমাণ ভালোবাসেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এর কোনো বিকল্প নেই। সেদিন মিরপুরে নূরজাহান বেগম নামের এক পূর্ণবয়সী মা মারা গেছেন। সে এক জঘন্য ইতিহাস। সমাজে প্রতিষ্ঠিত চারটি সন্তান থাকতেও মা কবে মরেছেন কেউ জানে না। মেয়ে মায়ের সঙ্গেই থাকে। অথচ মা মরে পড়ে আছেন, সে মেয়েও জানে না। এক ছেলে কানাডায়, এক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক, আরেক ছেলে বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব। কী হবে আমার দেশে? যুগ্ম সচিব খুবই দায়িত্বপূর্ণ পদ। সে যদি মায়ের সঙ্গে এমন করে, তাহলে দেশের সঙ্গে কেমন করবে? দেশের প্রতি তার কি মায়া থাকবে? আমরা তো সরকারি কর্মচারী নই। আমার মা মারা গিয়েছেন ২০০৪ সালে। তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ারে লাইভ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ৩ এপ্রিল রাত ১টা ৪০ মিনিটে তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। আমি তাঁর দুটি পা বুকে চেপে বারবার কালেমা পড়ছিলাম, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সা.)’। লাইফ সাপোর্ট খুলে নিলে কী একটা যেন ঘর থেকে চলে গেল। আমি অনেকবার ভেবেছি, শব্দটা এসির কম্প্রেসর বন্ধ হলে যেমন হয় অনেকটা তেমনি। আর এই সমাজের প্রতিষ্ঠিত সন্তানরা মাকে দেখে না, বাবাকে দেখে না। ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি বউদের খরপোশ, আলাদা হয়ে গেলে সন্তানের খরপোশ, মা-বাবার খরপোশ কোথায়? দেখা যাক, এ নিয়ে সরকার কী করে, সমাজ কী করে? সুস্থ সমাজে এমন অন্যায়-অবিচার চলতে পারে না।
কোথায় আছি, তা-ও বুঝতে পারছি না। রামিসা নামের সাত-আট বছরের ফুলের পাপড়ির মতো একটি সন্তান ধর্ষণের শিকার হয়ে ধর্ষকের হাতেই নিহত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অল্প সময়ে ধর্ষক ও ধর্ষকের স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড দিলেই হবে না, সমাজে দণ্ডের প্রভাব পড়তে হবে। যেকোনো দণ্ড দেওয়া হয় সমাজকে সংশোধিত হওয়ার জন্য, সমাজের দূষিত মানুষকে সমাধান করার জন্য। আশা করি, রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার যথাযথ সমাজের ওপর প্রভাব ফেলবে।
গত পরশু ছিল আমার জন্মদিন। কিছুই বুঝতে পারলাম না। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর কেমন যেন সবকিছুই অন্ধকার, খালি খালি লাগে। ছেলেমেয়েদের জন্য দারুণ কষ্ট হয়। এর মধ্যেই সেদিন ১৩ জুন মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের ভিপি টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল হাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই ১৯৬২-৬৩ সালে শিক্ষা কমিশন আন্দোলন থেকে তাঁর সঙ্গে পরিচয়। সত্যি কথা বলতে কি, একসময় আব্দুল হাই আমার নেতা ছিলেন (১৯৬২-১৯৭১)। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। আগস্টের দিকে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা মানকারচর এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন রংপুরের মতিউর রহমান এবং আরো একজন এমপি। মানকারচরে কামাখ্যা মন্দিরের নিচে প্রায় লাখো শরণার্থীর সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন এই আব্দুল হাই। তাঁর ক্ষুরধার বক্তৃতা শুনে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, তোমার ভাষা বুঝিনি, তবু সাধারণের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখলাম, আমরা বাংলা বুঝলে আরো হৃদয়াঙ্গম করতে পারতাম। এমন একজন সাথি, যাঁর আস্থা-বিশ্বাস পরিচয়ের দিন থেকে আমৃত্যু অটুট ছিল। তাঁর জানাজায় শরিক হয়ে কলিজার বোঁটা ছিঁড়ে যেতে চাচ্ছিল। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, মহান আল্লাহ যেন আব্দুল হাইকে বেহেশতবাসী করেন। আর যেন মুক্তিযোদ্ধাদের মান-সম্মান হারাতে না হয়। ইদানীং মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের পতাকায় আবৃত করে পুলিশি সালাম দিয়ে বিউগল বাজিয়ে চিরবিদায় জানানো হয়। কিন্তু যাঁরা বিদায় জানান, তাঁদের তেমন বোধশক্তি নেই। ময়মুরব্বিরও কোনো খবর রাখেন না। টাঙ্গাইল মুক্তিযুদ্ধে শুধু কাদেরিয়া বাহিনীই ছিল। আমি উপস্থিত থাকার পরও দু-চারবার দেখেছি কেউ জিজ্ঞেস করে না, অনুমতি নেয় না। কোনো বোধও নেই। কিন্তু কালিহাতীর ইউএনওকে দেখলাম, তাঁর কিছুটা জ্ঞান-বুদ্ধি আছে। কিন্তু সখীপুরে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় এক মহিলাকে দেখে বলেছিলাম, পুরুষের জানাজায় মহিলা শরিক হয়ে সরকারি সম্মান জানানো শরিয়ত শুদ্ধ নয়। কিন্তু তিনি তা মানেননি, বরং বাচ্চাদের মতো সরকারের দায়িত্ব বলে নানা কথা বলেছেন। সে যাক, আমি যখন সরকারি সম্মানের কথা বলেছিলাম, তখন আমার অন্তরে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃতই রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর কথা। যাঁরা গার্ড অব অনার দেবেন, তাঁরা অজু করে পূতঃপবিত্র হয়ে একজন স্বাধীনতাযুদ্ধের মহান সৈনিককে অন্তিমবিদায় জানাবেন। কিন্তু তা হওয়ার নয়। আল্লাহ আব্দুল হাইকে তাঁর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে বেহেশতবাসী করুন। আমিন।
লেখক : রাজনীতিক



বাংলাদেশ থেকেও এই সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও আইইডিসিআরের গবেষকরা সেখানে অংশগ্রহণ করছেন। তাঁদের উপস্থিতি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, গবেষণার ফলাফল এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সফল উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী কৌশল থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ডেঙ্গু আজ যেহেতু একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই এর সমাধানও হতে হবে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও স্থানীয় উদ্যোগের সমন্বয়ে।
এখন দর-কষাকষিতে ইরান এমন কিছু দাবি সামনে নিয়ে এসেছে, যাতে যুদ্ধকালে, এমনকি যুদ্ধপূর্ব সময়ে তারা যেসব আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, সেগুলো পুষিয়ে নেওয়া যায়। এত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে ইরানের শত শত কোটি জব্দ ডলার ফেরত চাওয়া ছাড়াও ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিকে তারা চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব দাবি সামনে আনা হয়েছে, তা হচ্ছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে দিতে হবে এবং তারা ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সেই নিশ্চয়তা। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যদি হস্তান্তর করতেই হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই কেন করতে হবে, এটি একটি বড় প্রশ্ন। এর কোনো সদুত্তর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও জানানো হয়নি। বিষয়টি এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমানো যেতে পারে