• ই-পেপার

আত্মশুদ্ধি দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি

ইসলামে আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের ১০ উপায়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ইসলামে আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের ১০ উপায়
সংগৃহীত ছবি

মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা বাহ্যিক সৌন্দর্য, সম্পদ বা ক্ষমতার মধ্যে নয়; বরং অন্তরের পবিত্রতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতার মধ্যেই নিহিত। মানুষ যতই পার্থিব উন্নতির শিখরে আরোহণ করুক না কেন, যদি তার হৃদয় কলুষিত হয়, তবে সে প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি লাভ করতে পারে না। ইসলাম মানুষের বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি অন্তরের সংশোধন ও আত্মশুদ্ধির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ একটি পরিশুদ্ধ আত্মাই মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য, দুনিয়ার প্রশান্তি এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতার পথে পরিচালিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

  قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا ۝ وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا

অর্থ্যাৎ : ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা : শামস, আয়াত : ৯-১০)
তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো আত্মশুদ্ধির উপায়গুলো জানা এবং সেগুলো বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা। নিচে আত্মশুদ্ধির দশটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় আলোচনা করা হলো-

১. কোরআন তিলাওয়াত ও তার অর্থ অনুধাবন করা
কোরআন মানুষের অন্তরের রোগের সর্বোত্তম চিকিৎসা। এর তিলাওয়াত হৃদয়কে কোমল করে, ঈমানকে দৃঢ় করে এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 

يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ

অর্থ্যাৎ : ‘হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ ও অন্তরের রোগের নিরাময় এসেছে।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৫৭)
শুধু তিলাওয়াত নয়, কোরআনের অর্থ ও শিক্ষা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করাও আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

২. নিয়মিত সালাত আদায় করা
সালাত মানুষের চরিত্র গঠন করে এবং পাপাচার থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ

অর্থ্যাৎ : ‘নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)
যে ব্যক্তি একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সালাত আদায় করে, তার অন্তর ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ হতে থাকে।

৩. আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার করা
জিকির অন্তরকে জীবন্ত রাখে এবং ইস্তিগফার গুনাহের কালিমা দূর করে। আল্লাহ বলেন, 

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ্যাৎ : ‘জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)
তাইতো রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দিনে সত্তরের অধিক এবং অন্য বর্ণনায় একশতবার ইস্তিগফার করতেন।(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭০২)

৪. গুনাহ থেকে আন্তরিক তওবা করা
তওবা আত্মাকে পাপের বোঝা থেকে মুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ্যাৎ : ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)
সত্যিকার তওবা মানুষকে নতুন জীবনের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

৫. সৎ ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা
মানুষ তার বন্ধু ও সঙ্গীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই আত্মশুদ্ধির জন্য নেককারদের সাহচর্য অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ বলেন, 

وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

অর্থ্যাৎ : ‘তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

৬. আত্মসমালোচনার অভ্যাস গড়ে তোলা
মুমিন ব্যক্তি সর্বদা নিজের আমল ও চরিত্র পর্যালোচনা করে। ওমর (রা.) বলেছেন, ‘হিসাব গ্রহণের পূর্বেই তোমরা নিজেদের হিসাব নাও।’ যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিজের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের চেষ্টা করে, তার আত্মা ক্রমেই পরিশুদ্ধ হয়।

৭. রিয়া, অহংকার ও হিংসা থেকে বেঁচে থাকা
অহংকার, লোক দেখানো ইবাদত এবং হিংসা আত্মার জন্য মারাত্মক ব্যাধি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১)

অন্য হাদিসে তিনি আরো বলেন, ‘হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯০৩)

৮. মৃত্যু ও আখিরাতের কথা বেশি স্মরণ করা
মৃত্যুর স্মরণ মানুষের হৃদয়কে নরম করে এবং দুনিয়ার মোহ কমিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ

অর্থ্যাৎ : ‘তোমরা আনন্দ-বিলাস ধ্বংসকারী মৃত্যু অধিক পরিমাণে স্মরণ কর।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৭)
মৃত্যুর চিন্তা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং আখিরাতমুখী করে তোলে।

৯. দান-সদকা ও মানুষের উপকার করা
দান মানুষের হৃদয়কে উদার করে এবং কৃপণতা দূর করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا

অর্থ্যাৎ : ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যা দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০৩)
মানুষের উপকার করা আত্মশুদ্ধির অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।

১০. আল্লাহর কাছে আত্মশুদ্ধির জন্য দোয়া করা
আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম উপায় হলো আল্লাহর সাহায্য কামনা করা। কারণ প্রকৃত পরিশুদ্ধি একমাত্র আল্লাহই দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন,

اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا

অর্থ্যাৎ : ‘হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে তাকওয়া দান করুন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করুন। আপনিই সর্বোত্তম পরিশুদ্ধকারী। আপনিই তার অভিভাবক ও মালিক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭২২)

আত্মশুদ্ধি কোনো একদিনের কাজ নয়; বরং এটি আজীবনের সাধনা। একজন মুমিন যত বেশি কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে, সালাত ও জিকিরে মনোযোগী হবে, গুনাহ থেকে তওবা করবে, নেককারদের সাহচর্য গ্রহণ করবে এবং নিজের অন্তরের রোগ দূর করার চেষ্টা করবে, ততই তার আত্মা পবিত্র ও আলোকিত হবে।

আজকের বস্তুবাদী ও অস্থির পৃথিবীতে আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পরিশুদ্ধ আত্মাই মানুষকে প্রকৃত শান্তি, নৈতিক সৌন্দর্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজেদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সচেষ্ট হই এবং আল্লাহর কাছে সর্বদা এই দোয়া করি, ‘হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে পবিত্র করুন, আমাদের আত্মাকে তাকওয়া দান করুন এবং আমাদেরকে নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আত্মশুদ্ধির পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পকে শুধু একটি দেশের দুর্যোগ নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষকে মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী বাস্তবতা এবং আখিরাতের অনিবার্যতার কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় শায়খ আহমাদুল্লাহ ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য দোয়া এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও মানুষের স্বপ্ন ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো কিংবা বিপুল সম্পদ—কোনোটিই আল্লাহর ইচ্ছার সামনে চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষের জন্য আত্মসমালোচনা, তওবা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। মানুষ দুনিয়ার জীবনে যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন, একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর সব আয়োজন একদিন শেষ হয়ে যাবে এবং প্রত্যেককেই মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে হবে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ছোট ছোট ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। তাই ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা আমাদের জন্যও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণবিধি না মেনে ভবন নির্মাণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, সংকীর্ণ সড়ক এবং পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভূমিকম্পকে আরো ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনের নিরাপত্তা যাচাই, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন।

বার্তার শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ সবাইকে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, দোয়া এবং নেক আমলের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সংশোধন করার আহ্বান জানান। তার মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু বৈজ্ঞানিক বা ভৌগোলিক একটি ঘটনা নয়; এটি মানুষের জন্য শিক্ষা গ্রহণ, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং নিজেদের আমল ও জীবনযাত্রা পর্যালোচনা করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

ভেনেজুয়েলার এই মর্মান্তিক ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সব শক্তি, সামর্থ্য ও অর্জনের ঊর্ধ্বে রয়েছেন মহান আল্লাহ। তাই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপদ নির্মাণ, সচেতন নগর পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি গ্রহণই হতে পারে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সুন্দর উপদেশ মানুষকে বিনয়ী হতে সাহায্য করে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সুন্দর উপদেশ মানুষকে বিনয়ী হতে সাহায্য করে
সংগৃহীত ছবি

সুন্দর উপদেশ (মাওয়িজাহ হাসানাহ) মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করার, গাফিলতি থেকে সতর্ক করার এবং অন্তরের সংশোধন ও রোগ নিরাময়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এটি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার সেই মহান দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে উৎসাহ ও সতর্কতার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা হয় এবং কল্যাণকর নসিহত করা হয়। এর ফলস্বরূপ হৃদয় কোমল হয়, অন্তর বিনয়ী হয়, মানুষ ভয়াবহ পরিণতি থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় এবং কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ লাভের আশায় সৎকর্মের দিকে অগ্রসর হয়।

সুন্দর উপদেশ দুইভাবে গ্রহণ করা যায়-

প্রথমত, শ্রবণের মাধ্যমে অর্থাৎ হেদায়েত, সঠিক পথ ও কল্যাণকর নসিহত শোনা, পড়া ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া, যা নবী-রাসুলদের বাণী এবং তাঁদের প্রতি তাঁদের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহির মাধ্যমে এসেছে। একইভাবে দ্বিন ও দুনিয়ার কল্যাণে প্রত্যেক সৎ উপদেশদাতা ও পথ প্রদর্শকের কাছ থেকেও উপকৃত হওয়া।

দ্বিতীয়ত, পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন নিদর্শন, ঘটনা, অভিজ্ঞতা, পরিস্থিতি, তাকদিরের বিধান এবং বিশ্বজগতের ওপর আল্লাহর প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলো দেখে চিন্তা-ভাবনা করা ও শিক্ষা গ্রহণ করা।

হৃদয়ের জন্য উপদেশের প্রয়োজনীয়তা জ্ঞান ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার চেয়ে কম নয়; বরং এটি জ্ঞান অর্জনের পথকে সহজ করে দেয়। যখন হৃদয় কোমল হয়, তখন তা উপকারী জ্ঞান গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ফলে আত্মা প্রশান্তি লাভ করে, মন শান্ত হয়, বিবেক পুষ্ট হয় এবং হৃদয় স্থিরতা অর্জন করে।

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কোরআনকে 'মাওয়িজাহ বা উপদেশ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর অবশ্যই আমি তোমাদের প্রতি সুস্পষ্ট আয়াত, তোমাদের পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ নাজিল করেছি।' (সুরা: আন-নূর, আয়াত: ৩৪)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, 'হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তরে যা আছে তার জন্য আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।' (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৫৭) 

কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হলো হৃদয় কোমল করার সর্বোত্তম, সহজতম, নিকটতম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম। কারণ পুরো কোরআনই এক মহান উপদেশ। আল্লাহ তাআলা নবী (সা.)-এর দাওয়াতের অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে সুন্দর উপদেশকে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, 'তুমি তোমার রবের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে এমন পদ্ধতিতে বিতর্ক করো, যা সর্বোত্তম। নিশ্চয়ই তোমার রবই ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কে সঠিক পথে রয়েছে।' (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

দাওয়াত গ্রহণকারীর অবস্থা অনুযায়ী পদ্ধতি ভিন্ন হয়। কেউ যদি সত্যের সন্ধানী ও আগ্রহী হয়, তাকে প্রজ্ঞার মাধ্যমে আহ্বান করা হয়। কেউ যদি উদাসীন ও গাফিল হয়, তবে তার জন্য প্রজ্ঞার সঙ্গে সুন্দর উপদেশ প্রয়োজন। আর কেউ যদি জেদি ও বিরোধিতাকারী হয়, তবে তার সঙ্গে উত্তম পদ্ধতিতে আলোচনা করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সা.)-কে উপদেশ ও স্মরণ করানোর দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন, 'তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তাদের উপদেশ দাও এবং তাদের অন্তরে প্রভাব বিস্তারকারী কথা বলো।' (সুরা: আন-নিসা, আয়াত: ৬৩) 

সুন্দর উপদেশের সৌন্দর্য দুটি বিষয়ে নির্ভর করে-
১. উপযুক্ত সময়ে প্রদান করা:
যেমন দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টি আসে; কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি যেমন জমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত উপদেশও মানুষের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে।

২. পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত উপদেশগুলোর মধ্যে আরবাজ ইবন সারিয়া (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস অন্যতম। তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন, যার ফলে আমাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে উঠল এবং চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল।'

এটি আল্লাহর এই বাণীর বাস্তব প্রতিফলন-'আল্লাহকে যারা ভয় করে তাদের শরীর তা থেকে কেঁপে ওঠে, অতঃপর তাদের দেহ ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণের দিকে কোমল হয়ে যায়।' (সুরা : জুমার, আয়াত : ২৩) 


সাহাবায়ে কেরাম বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! মনে হচ্ছে এটি বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ। আমাদের কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের।' (হাদিস) তাই যারা মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেন-শিক্ষক, প্রশিক্ষক, লেখক এবং আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজ করা ব্যক্তিদের উচিত সংক্ষিপ্ত অথচ হৃদয়স্পর্শী উপদেশ প্রচার করা। কখনো একটি সত্য ও আন্তরিক কথা আল্লাহর অনুমতিতে একটি মৃতপ্রায় হৃদয়কে জীবিত করে দিতে পারে। তাই কল্যাণকর কথা বলতে কৃপণতা করা উচিত নয়।

বর্তমানে যারা নাস্তিকতার বিভিন্ন সন্দেহ ও সংশয় প্রচার করে, তাদের অনেকের সমস্যার মূলও হৃদয়ের গাফিলতি ও অন্তরের আবরণ। তাই তাদের সঙ্গে যুক্তিতর্কের আগে হৃদয়কে উপদেশের মাধ্যমে প্রস্তুত করা অধিক কার্যকর হতে পারে। কারণ উপদেশ সফল হলে তা সত্য গ্রহণের পথে বাধা দূর করে।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, যে যুগে উপদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে যুগেই আন্তরিক উপদেশদাতার সংখ্যা কমে গেছে। এমনকি কেউ কেউ উপদেশকে অবজ্ঞা করে বলেন, এটি শুধু আবেগনির্ভর বক্তব্য, গভীর জ্ঞান বা গবেষণার বিষয় নয়। অথচ জ্ঞানী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিদেরও হৃদয় কোমল করার জন্য উপদেশের প্রয়োজন আছে।

যদিও কিছু উপদেশদাতার বক্তব্যে দুর্বল কাহিনি, ভিত্তিহীন ঘটনা, মিথ্যা বর্ণনা বা কুসংস্কার প্রবেশ করেছে, তবে এর কারণে উপদেশের মর্যাদা কমে যায় না; বরং প্রয়োজন হলো উপদেশকে বিশুদ্ধ করা, মিথ্যা ও অসত্য থেকে রক্ষা করা এবং সঠিক পদ্ধতিতে তা উপস্থাপন করা। তবে উপদেশ তখনই প্রশংসনীয় যখন তা সত্য, জ্ঞানসম্মত ও কল্যাণকর হয়।

সুতরাং বর্তমান যুগে সুন্দর উপদেশের প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি। এমন একটি আন্তরিক বাক্য, যা কোনো হৃদয়কে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়, তা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য বিরাট কল্যাণের কারণ হতে পারে। তাই প্রত্যেক জ্ঞানী, শিক্ষক, দাঈ ও কল্যাণকামী মানুষের উচিত হিকমাহ, আন্তরিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে মানুষের হৃদয়ে উপকারী উপদেশ পৌঁছে দেওয়া।

আশুরার দিনে শুক্রবারই কি কিয়ামত সংঘটিত হবে?

ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা
আশুরার দিনে শুক্রবারই কি কিয়ামত সংঘটিত হবে?
সংগৃহীত ছবি

কিয়ামত ইসলামের মৌলিক আকিদাসমূহের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি এমন এক অবশ্যম্ভাবী সত্য, যার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে এবং আখিরাতের অনন্ত জীবনের সূচনা হবে।

কিয়ামত হলো সেই মহাদিবস, যেদিন মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস করে পুনরায় জীবিত করবেন এবং মানুষের দুনিয়ার সব কাজের হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করবেন। কিয়ামতের দিনে সব মানুষ পুনরুত্থিত হবে এবং তাদের আমল অনুযায়ী বিচার করা হবে। নেককাররা জান্নাতে প্রবেশ করবেন এবং পাপীরা তাদের কর্মফল ভোগ করবে। এক কথায় কিয়ামত পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সমাপ্তি এবং পরকালের বিচার দিবস।

এটি ইসলামের মৌলিক আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আল্লাহ বলেন, ‘মহাবিপর্যয়! মহাবিপর্যয় কী? তুমি কি জানো মহাবিপর্যয় কী? সেদিন মানুষ হবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পতঙ্গের মতো। আর পাহাড়গুলো হবে ধুনিত রঙিন পশমের মতো।’ (সুরা : কারিয়া, আয়াত : ১-৫)

কিয়ামতের দিনক্ষণ : কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে তার সুনির্দিষ্ট সময় একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। কোনো মানুষ, ফেরেশতা বা নবী-রাসুলও এর নির্দিষ্ট সময় জানেন না। তবে কোরআন ও হাদিসে কিয়ামতের অনেক আলামত (নিদর্শন) বর্ণিত হয়েছে। এসব আলামতের কিছু প্রকাশ পেয়েছে, কিছু ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে। কিয়ামত-আখিরাতের ভাবনা দিয়ে মানুষকে ঈমান ও সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্য না হলে মহান আল্লাহ কিয়ামত আসবে—এ কথাও প্রকাশ করতেন না।

কোরআনে কিয়ামত ও মৃত্যুর সময়-তারিখ গোপন রাখার রহস্য বর্ণিত হয়েছে। তা হলো—মানুষ কর্মপ্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকুক এবং ব্যক্তিগত কিয়ামত তথা মৃত্যু আর বিশ্বজনীন কিয়ামত তথা হাশরের দিনকে দূরে মনে করে গাফেল না হোক। আল্লাহ বলেন, ‘তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন সংঘটিত হবে। বল, এর জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রতিপালকের কাছেই আছে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮৭)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কিয়ামত তো অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই, যাতে প্রত্যেককে নিজ কাজ অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া যায়।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ১৫)

জুমার দিনে কিয়ামত : কিয়ামত অবশ্যই হবে, কিন্তু কবে হবে—এর সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই রয়েছে। তবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে কিয়ামত জুমার দিন সংঘটিত হবে। তবে কোন জুমার দিন, কোন মাস বা কোন বছরে হবে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। আবু লুবাবা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন সপ্তাহের সব দিনের সর্দার এবং আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদাসম্পন্ন। দিনটি আল্লাহর কাছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই দিনে পাঁচটি বিষয় রয়েছে। (১) এই দিনে আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, (২) এই দিনেই আল্লাহ তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় নামিয়ে দিয়েছেন, (৩) এই দিনেই আল্লাহ তাঁকে মৃত্যুদান করেছেন, (৪) এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো বান্দা সে সময় আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন যদি না তা অমূলক হয় আর (৫) এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। প্রত্যেক সম্মানিত ফেরেশতা, আকাশ, জমিন, বাতাস, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র—সব কিছুই জুমার দিন কিয়ামতের আশঙ্কায় ভীতসন্ত্রস্ত থাকে।’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

আশুরা জুমাবার হলে কিয়ামত প্রসঙ্গ : আশুরার দিন (১০ মহররম) জুমাবারে পড়লে কিয়ামত সংঘটিত হবে—সমাজে এ ধরনের ধারণা প্রচলিত থাকলেও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য ইসলামী দলিল পাওয়া যায় না। কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, তবে এর সুনির্দিষ্ট সময়, দিন, মাস বা বছর একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। এ ছাড়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে কিয়ামত জুমার দিনে সংঘটিত হবে; কিন্তু কোনো হাদিসে বলা হয়নি যে তা আশুরার দিনই হবে। ইতিহাসে বহুবার ১০ মহররম জুমাবারে এসেছে, কিন্তু কিয়ামত সংঘটিত হয়নি। সুতরাং আশুরা ও জুমা একই দিনে হওয়াকে কিয়ামতের নিশ্চিত আলামত বা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে মনে করা সঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কিয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন। আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযি ওই বর্ণনাকে মাওযু বলেছেন। আল্লামা সুয়ুতি ও ইবনুল আররাক (রহ.) ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। (কিতাবুল মাওজুআত ২/২০২; আল-লাআলিল মাসনুআ ২/১০৯; তানযিহুশ শরিআতিল মারফুআ ২/১৪৯)

কিয়ামতের প্রস্তুতি : কিয়ামত কবে হবে তা জানা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তাই আল্লাহ তাআলা তা জানাননি। আল্লাহ তাআলা যে বিষয়ে জানাননি, তার পেছনে পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিয়ামত কবে হবে তা জানার কোনো ফায়দাও নেই। প্রয়োজন হলো—কিয়ামতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কেননা কিয়ামতের পর সবাইকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। সেদিন প্রত্যেককে তার কর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে। কর্ম ভালো হলে ভালো প্রতিদান পাওয়া যাবে, মন্দ হলে মন্দ প্রতিদান। তাই কর্ম ভালো করা ও বেশি বেশি নেক আমলে যত্নবান থাকাই আসল কাজ। সেটাই উপকারে আসবে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? তিনি বলেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কি পাথেয় সঞ্চয় করেছ? সে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি তার সঙ্গে উঠবে যাকে তুমি ভালোবাস। আনাস (রা.) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পরে কোনো কিছুতে আমরা এত বেশি খুশি হইনি যতটা নবী (সা.) এর বাণী, ‘তুমি তার সঙ্গেই (থাকবে) যাকে তুমি ভালোবাস’—দ্বারা আনন্দ লাভ করেছি। আনাস (রা.) বলেন, আমি আল্লাহ, তাঁর রাসুল, আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.)-কে ভালোবাসি। সুতরাং আমি আশা করি যে কিয়ামত দিবসে আমি তাঁদের সঙ্গে থাকব, যদিও আমি তাঁদের মতো আমল করতে পারিনি। (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭২)

পরিশেষে বলা যায়, কিয়ামত একটি অনিবার্য সত্য, যা একদিন অবশ্যই সংঘটিত হবে। এর সঠিক সময় ও দিনক্ষণ একমাত্র আল্লাহ তাআলার জানা। যদিও হাদিসে কিয়ামত জুমার দিনে সংঘটিত হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তথাপি আশুরার দিন জুমাবারে পড়লেই কিয়ামত হবে—এমন ধারণার কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই। একজন মুমিনের জন্য কিয়ামতের সময় জানার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কিয়ামতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান, নবী করিম (সা.)-এর অনুসরণ, নেক আমল, তাওবা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই আখিরাতের সফলতা অর্জন সম্ভব। আর এটাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুসলমানের জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

লেখক : অধ্যাপক, আরবি বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়