• ই-পেপার

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ
পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত

একসময় পাকিস্তান ক্রিকেট দল দোর্দন্ড প্রতাপে শাসন করেছে বিশ্ব। ইমরান খানের মত নেতা; জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার, ইনজামামের মত ব্যাটসম্যান; শোয়েব আখতার, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুসের মত দুরন্ত ফাস্ট বোলার আতঙ্ক ছিল প্রতিপক্ষের। পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই সূর্য এখন অস্তগামী। অনেক দিন বলার মত কোনো সাফল্য নেই তাদের। পুরুষ ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার ছায়া পড়েছে নারী ক্রিকেট দলেও। সাফল্য নয়, বিতর্কই যেন এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

ইংল্যান্ডে নারী টি-২০ বিশ্বকাপে এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি দলটি। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও খরা ছিল জয়ের। ব্যর্থতার হাত ধরেই এসেছে বিতর্ক আর অন্তর্কোন্দল। দলের সিনিয়র সদস্য আলিয়া রিয়াজ হোটেল রুমে তার স্বামীকে নিয়ে আসলে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অধিনায়ক দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন কোচ ও দলের মেন্টর ওয়াহাব রিয়াজের সাথেও।

গত শনিবার বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সিনিয়র সদস্য আলিয়া রিয়াজের রুমে তার স্বামী আলী ইউনুসকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। তিনি আলীকে রুম ছেড়ে যেতে বলেন। আলিয়াও কম যান না। অধিনায়কের ক্ষোভকে পাত্তা না দিয়ে আলিয়া ম্যাচের আগের দিন নির্ধারিত প্র্যাকটিস ফেলে স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যান। আলিয়ার আচরণ ফাতিমাকে আরো ক্ষুব্ধ করে। তিনি বাংলাদেশের ম্যাচে আলিয়াকে দলে রাখতে চাননি।

কিন্তু ফাতিমার পরামর্শ উপেক্ষা করে কোচ আলিয়াকে রেখেই একাদশ চূড়ান্ত করেন। ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ২৩ রানে হারে পাকিস্তান, আলিয়া ম্যাচে কোনো রানই করতে পারেননি। পরাজয়ের পর রাগে ফেটে পড়েন অধিনায়ক ফাতিমা। তিনি সবার সামনে এ পরাজয়ের জন্য কোচকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ কোচ দলের শৃঙ্খলা প্রটোকল ভঙ্গ করেছেন। এ নিয়ে দলে ক্রিকেটারদের মধ্যে এবং কোচের সঙ্গে ক্রিকেটারদের বহুমুখী দ্বন্দ্ব এখন অনেকটাই প্রকাশ্যে। অবশ্য কোচ নাকি ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছেন ক্রিকেটারদের ঘাড়ে। তারা কোচের পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারেন না বলেই নাকি সাফল্যের দেখা মিলছে না।

পিসিবি অবশ্য এ অন্দর্কোন্দলের কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। গত ৩/৪ বছরে বারবার কোচ বদল করেও সাফল্যের দেখা পায়নি পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল।

মেসির জন্মদিনে সতীর্থদের ভিন্ন রকম উদযাপন

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির জন্মদিনে সতীর্থদের ভিন্ন রকম উদযাপন
ছবি : এএফএ

উনচল্লিশ পা রাখলেন ফুটবল জাদুগর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু করেছে আলবিসেলেস্তেরা। কাতার বিশ্বকাপে যেখান থেকে শেষ করেছে মনে হচ্ছে সেখান থেকে শেষ করেছে স্কালোনির শিষ্যরা। জন্মদিনে আগেই দলকে জয় উপহার দিয়ে রাঙাল পুরো দলকে। 

এরপরই বিশ্রাম ছাড়াই তৃতীয় ম্যাচকে সামনে রেখে ট্রেনিং সেশনে নেমে পড়ে মেসিবাহিনী। জিমে ঘাম ঝরিয়েছে তারা। ট্রেনিং শেষ করে চমকে দিয়ে মেসিকে জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিলেন সতীর্থরা। এমন একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে স্যোসাশ প্ল্যাটফর্মে, ভাইরাল হয়ে যায় মুর্হূতে।

আর্জেন্টিনার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল,তোমার পরিবার। তোমার আপনজনেরা। শুভ জন্মদিন, লিও।

??

মেসির জন্মদিন উদযাপন সবাই একে একে হোটেলের একটি কক্ষে সবাই ঢুকছে। সেখানে সব সতীর্থকে একই রকমের টি-শার্ট পরিহিত দেখা গেছে। টি-শার্টে সবাই মেসির সঙ্গে ম্যাচে সময় মুহূর্তে তোল ছবি প্রিন্ট করেছে নিয়েছে । 

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, সবাই নিজ নিজ টি-শার্টে প্রিন্ট করা ছবি ক্যামেরায় তুলে ধরছে। ছবিতে জুলিয়ানো সিমিওনে,ফাকুন্দো মেদিনা,নাহুয়েল মলিনা নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, জিওভানি লো সেলসো,লিসান্দ্রো মার্তিনেজ,ক্রিস্টিয়ান রোমেরো,নিকোলাস ওতামেন্দি,এজেকিয়েল পালাসিওস, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ,থিয়াগো আলমাদা,লাওতারো মার্তিনেজ,ভালেন্তিন বার্কোসহ সবাই হাজির হয়।

মেসি হল রুমে পৌঁছাতে হাততালি দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায় সবাই। সকলে মিলে শেষে একটি গ্রুপ ছবিও তুলেছেন।

ডালাসে তৃতীয় ম্যাচে ২৮ ফেব্রুয়ারিতে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাফনারা। গ্রুপ ‌‘এ’তে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র ও শেষ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তিদের হারিয়ে রাউন্ড থার্টি টুতে জায়গা করেছে নিয়েছে হুগো ব্রুসের শিষ্যরা। 

স্বাগতিক হিসেবে ২০১০ বিশ্বকাপের পর এবার আবার সুয়োগ পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই লেখলেন রূপকথার গল্প। হতাশাজনক শুরুর পর দুর্দান্তভাবে ফিরে জায়গা করে নিলেন নকআউটে।

মেক্সিকোর মন্টেরিতে গতকাল দ্বিতীয়ার্ধে থাপেলো মাসেকোর গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করার পাশাপাশি মেক্সিকোর পর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানও দখল করে বাফনারা।

দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হং মায়াং-বো এশিয়ান অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত অধিনায়ক সন হেয়াং-মিনকে বদলী বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিলেন। যা অনেককেই বিস্মিত করেছে। এশিয়ান পরাশক্তিরা ম্যাচটা দারুনভাবে শুরু করেছিল। অস্থায়ী অধিনায়ক কিম মিন-জায়ের শক্তিশালী হেড গোললাইনের উপর থেকে ব্লক করেন অব্রে মোডিবা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নেয়। আক্রমনাত্মক কৌশলে খেলতে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না বাফানারা। ৩০ মিনিটে থালেন্টে এমবাথার শট কোনোমতে রক্ষা করেন দক্ষিণ কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেয়াং-গিউ। পোস্টের খুব কাছে থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মাগোপা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন সন। এ সময় কোচ হং তিনটি পরিবর্তন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড ওহ হায়েয়ন-গিউ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরীক্ষায় ফেলেন। 

৬৩ মিনিটে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। সেপাং মোরেমির ক্রসে মাসেকোর গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকানরা। ম্যাচের শেষ ভাগে দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফিরে আসার জোড় চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।

এই পরাজয়ে দক্ষিণ কোরিয়ারও অবশ্য স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদের সামনে এখনো নক আউট পর্বে যাবার আশা টিকে আছে।

আগামী ২৮ জুন লস এ্যাঞ্জেলসে শেষ ৩২’এ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ সহআয়োজক কানাডা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বে ‘৭-১’ সংখ্যাটি শুনলেই ব্রাজিল সমর্থকদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে সেই দুঃস্বপ্নের পরাজয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে একই সংখ্যা এবার সেলেসাওদের জন্য নিয়ে এলো স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন আশার বার্তা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ শেষে ব্রাজিল করেছে ৭ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে কার্লো আনচেলত্তির দল ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিশ্চিত করেছে শেষ ৩২-এ জায়গা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর একটি গোল যোগ করেন মাথেউস কুনিয়া। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল।

গ্রুপ পর্বে ৭ গোল করে মাত্র ১ গোল হজম করার ঘটনা ব্রাজিলের জন্য নতুন নয়। সর্বশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপেও একই পরিসংখ্যান ছিল সেলেসাওদের। সেবার ক্রোয়েশিয়াকে ১-০, অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ এবং জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিখুঁতভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল তারা।

এবারও আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড—তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

আরো একটি পরিসংখ্যান ব্রাজিল সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। এর আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন মাত্র চারজন—জর্জিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো ও রিভালদো (২০০২)। আর প্রতিবারই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা উঠেছিল ব্রাজিলের হাতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

গ্রুপে সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। তিন পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড এখন সেরা তৃতীয় দলের আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে। আর তিন ম্যাচেই হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে হাইতি।