• ই-পেপার

অনুদানের তালিকায় মেয়ের নাম, এমপিকে সতর্ক করল জামায়াত

স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমা চায়নি জামায়াত : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমা চায়নি জামায়াত : মির্জা ফখরুল

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের সেই অবস্থান নিয়ে দলটির এখনো নতুন করে ভাবার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করারও আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে বিরোধী দলের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা ওই পাশে আছেন, তারা নানা সময় আমাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেদের দিকেও একবার ফিরে তাকানোর। ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা কখনো জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। যদি সেই ভুল স্বীকার করতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যাই সৃষ্টি হতো না।

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আজমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি একসময় বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে তারা কোনো ভুল করেননি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এখনো সময় আছে, আপনারা নতুন করে বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। ১৯৭১ সালের বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট বক্তব্য আমরা কখনো শুনিনি। যদি আপনারা সেই ইতিহাস স্বীকার করেন, তাহলে আপনাদের জন্য রাজনীতি আরো সহজ হয়ে যাবে।

জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্র এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের এই রাজনৈতিক দলটি সম্ভাবনাময় হলেও এমন একটি দলের সঙ্গে তাদের জোট করা দুঃখজনক, যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় ছাত্র ও তরুণদের দল এনসিপি ভালো করছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি দুঃখিত যে তারা এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরো পরিষ্কার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাজেট আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের ফলে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যতের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানুষ বিভক্ত হয়েছে এবং অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি একটি গল্পের উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর এ গণি, তরিকুল ইসলাম ও আ স ম হান্নান শাহসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নেতাদের স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি চীন সফরের একটি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তারেক রহমান চীন সফর করেছিলেন। তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, তিনি একদিন তার পিতা-মাতার আদর্শ ও পতাকা বহন করবেন। আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান সেই দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো উজ্জ্বল করছেন।

তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের ছাত্র ও তরুণ সমাজ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
সংগৃহীত ছবি

বিলের প্রতিলিপি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রবিবার (২৮ জুন) রাতে সংসদ অধিবেশনের শেষদিকে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কার্যাবলী চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্পিকার তাকে ফ্লোর দেন। এ সময় বিরোধী দলের একাধিক সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য দাঁড়ান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, এই মুহূর্তে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলাটা এন্ডলেস (অনন্ত) হয়ে যাবে। আমাদের ৩০০ বিধিতে একটা বিবৃতি আছে, বিবৃতিটা একটু শুনি।’ 

এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি, প্লিজ বসুন। আপনাদের জন্য সুখবর আছে।’

একপর্যায়ে হট্টগোল আরও বাড়লে সরকারি দলের পক্ষ আগামীকাল বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে কথা ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্পিকার শেষ পর্যন্ত সমবায় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বিবৃতি স্থগিত করেন এবং অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদের বৈঠক সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মূলতবি করা হলো।’ তিনি উপস্থিত সকল সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আল্লাহ হাফেজ ও বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে স্পিকারের আসন ত্যাগ করেন।

তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চান যুবদলের পদবঞ্চিতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চান যুবদলের পদবঞ্চিতরা

বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেছেন।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই আবেদন করেন তারা। নিবেদক হিসবে রয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. হুমায়ূন কবির ও সাজ্জাদ হোসেন উজ্জল।

বিএনপির চেয়ারম্যান বরাবর লেখা আবেদনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যুবদলের নবগঠিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনিয়ম ও ত্যাগী নেতাদের বাদ পড়া প্রসঙ্গে অবহিতকরণের অনুমতি চেয়ে সাক্ষাতের আবেদন।

পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, আমরা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের একাধিক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে দল ঘোষিত সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের অবস্থান এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয় আপনার নিকট উপস্থাপনের জন্য আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক জানিয়েছেন, পদবঞ্চিত নেতারা বিভিন্ন সময় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পদে ছিলেন। কিন্তু নতুন কমিটি গঠন করার পর তাদের ওই কমিটিতে রাখা হয়নি। এমন নেতার সংখ্যা ৫৫ জন। তারা চান দলে যেন তাদের যাথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। এ জন্যই তারা সাংগঠনিক প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে চান।

শায়রুল কবির

অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে তিনি এসব তথ্য জানান।

শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ‘তিনি (মির্জা আব্বাস) পূর্ণ সুস্থ হয়ে দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

এর আগে গত ১৬ মে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে মালয়েশিয়ায়র কুয়ালালামপুরের প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপির এই নেতার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে আছেন। সবার দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমতে মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে এখনো তার ফিজিওথেরাপি চলছে। নিউরোসংক্রান্ত বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত ফলোআপ ও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুর চিকিৎসা নেন। সেখানের চিকিৎসকরাও তার সুস্থতাকে বিস্ময়কর হিসেবে দেখেছিলেন।

গত ১১ মার্চ রমজান মাসের ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। সাবেক এই মন্ত্রীকে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে। এতে ওই দিন রাতেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর তার মস্তিষ্কে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে প্রথমে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস।