• ই-পেপার

সালথায় ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি বাবু মোল্যা গ্রেপ্তার

পাকুন্দিয়ায় যুবদল নেতাকে শোকজ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় যুবদল নেতাকে শোকজ
যুবদল নেতা মো. স্বপন শাহ্র। সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. স্বপন শাহ্রের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে উপজেলা যুবদল। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান সুমন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাকিবুল আলম ছোটনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় স্বপন শাহ্রের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এর লিখিত জবাব আগামী সাত দিনের মধ্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

চিঠিতে আরো বলা হয়, যথাসময়ে নোটিশের জবাব দিতে ব্যর্থ হলে স্বপন শাহ্র বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা স্বপন শাহ বলেন, ‘কেন আমাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে আমি জানি না। তবে আমি ধারণা করছি, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা লুটপাট করে খেয়েছে তারাই এখন বিএনপিতে ঢুকে এমপির নাম ভাঙিয়ে লুটপাট করছে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসব বিষয় নিয়ে আমি প্রায়ই প্রতিবাদ করি। এসব কারণই হয়তো আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে থাকতে পারে।’

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন বলেন, ‘তার বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যকলাপে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাই তাকে নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।’

আশুগঞ্জে ‘ইভ টিজারের’ কাছে মিলল ইয়াবা, ৬ মাসের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
আশুগঞ্জে ‘ইভ টিজারের’ কাছে মিলল ইয়াবা, ৬ মাসের কারাদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির (ইভ টিজিং) ঘটনায় আলোচিত যুবক ইমনকে সোমবার দুপুরে ইয়াবাসহ আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

অভিযান সূত্র জানা যায়, মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ বাজারের একটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমনকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছে চারটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। অপরাধ স্বীকার করায় তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উল্লেখ্য, ১৪ জুন আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এক কলেজছাত্রীকে ইভ টিজিংয়ের অভিযোগ ওঠে ইমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়।

নাক ফজলি আমে ৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী (নওগাঁ)
নাক ফজলি আমে ৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাকার সঙ্গে সঙ্গে সবুজ খোসা ছেড়ে হলদে আভাধারণ করে নাক ফজলি আম। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি সুবাস। নওগাঁর বদলগাছীর বাগান গুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। গাছ থেকে নামছে জিআই স্বীকৃত নাক ফজলি আম। উপজেলার ডাকবাংলো মোড়ে অস্থায়ীভাবে বসেছে আমের বেচাকেনার কেন্দ্রও। তবে বাম্পার ফলনের আনন্দের মধ্যেও চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। নির্দিষ্ট বাজার না থাকায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে বদলগাছীতে নাক ফজলি আম থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাজার ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই সম্ভাবনার পুরো সুফল পাচ্ছেন না আম চাষীরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বদলগাছীর আটটি ইউনিয়নে কয়েক দশক ধরে নাক ফজলি আমের চাষ হয়ে আসছে। গত বছর এ আম ভৌগোলিকি নর্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশজুড়ে এর চাহিদা আরো বেড়েছে। স্বাদ, আকার ও দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ যোগ্য হওয়ায় অন্যান্য আমের তুলনায় নাক ফজলির কদর বেশি। ফলে ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এই আম চাষে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় চাষিদের বলছেন, এ বছর ফলন ভালো হলেও বাজারে আকার ভেদে প্রতিমণ নাক ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় কম। তাঁদের অভিযোগ, বদলগাছী ছাড়া অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য পরিসরে এ আমের আবাদ নাহলেও উপজেলায় নেই কোনো স্থায়ী বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র। ফলে মৌসুম এলেই বাগান থেকেই পাইকারদের কাছে আম বিক্রি করতে বাধ্য হনতাঁরা।

সদর ইউনিয়নের আম চাষি জুয়েল সরদার বলেন, ‘সারা বছর বাগানের পরিচর্যা করি। কিন্তু বিক্রির সময় পাইকাররা যে দাম বলেন, অনেক সময় সেই দামেই আম ছাড়তে হয়। বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত। কর্তৃপক্ষ যদি একটি নির্দিষ্ট বাজারের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।’

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী মোস্তাকিম বলেন, ‘নাক ফজলি আমের চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। কিন্তু ডাকবাংলো মোড়ের ছোট জায়গায় আম সংগ্রহ ও পরিবহন করা কষ্টকর। পাশেই বিস্তীর্ণ বালুচর রয়েছে। সেখানে মৌসুমি আমের বাজার গড়ে তোলা হলে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় আম পাঠানো সহজ হবে।’

কৃষি বিভাগ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে বদলগাছী উপজেলায় মোট ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নাক ফজলির আবাদ হয়েছে ২৫৫ হেক্টরে। উৎপাদন ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় এ আম থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।

চাষি সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বদলগাছীতে একটি স্থায়ী আমের বাজার গড়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখানে আসতে পারবেন। এতে আমরা ন্যায্য মূল্য পাব, একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, ‘নাক ফজলি আমের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী বাজার প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কৃষকদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আম সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

চাষিদের দাবি, ‘জিআই স্বীকৃত নাক ফজলি আমের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট বাজার, সংগ্রহ কেন্দ্র ও সংরক্ষণ সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে উৎপাদন বাড়লেও লাভের বড় অংশ মধ্যস্বত্ব ভোগীদের হাতেই চলে যাবে।’

ময়মনসিংহে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সিটি করপোরেশন। এ অভিযানের প্রতিবাদে জেলা মোটর মেকানিক সমিতির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে খননযন্ত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে নির্মিত কংক্রিটের স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে একটি চক্র অবৈধভাবে অন্তত শতাধিক দোকান নির্মাণ করে জায়গা দখল করে রেখেছিল। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় জেলা মোটর মেকানিক সমিতির কার্যালয়ের একটি অংশও ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে বিকেল ৩টার দিকে সমিতির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা ঢাকা বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

জেলা মোটর মেকানিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি জুলহাস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিটি করপোরেশন তাদের সমিতির কার্যালয়ের একাংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা মহাসড়ক অবরোধে বাধ্য হয়েছেন। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মওলা বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে বাস রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলেও ভেতরে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে জায়গা দখল করা হয়েছিল। এসব স্থাপনার কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’